30/08/2026
দাম্পত্যের জন্য ২০টি দু'আ ও কুরআনিক স্মরণ—যেগুলো শুধু মুখস্থ নয়, জীবনের মুহূর্তে মনে পড়া দরকার
বিয়ের শুরুতে আমরা কত কিছু চাই। মানুষটা যেন আমাকে বোঝে, ভালোবাসে, পাশে থাকে, সংসারে শান্তি থাকে। তারপর জীবন ধীরে ধীরে বাস্তব হয়ে ওঠে। কাজের চাপ আসে, টাকা পয়সার চিন্তা আসে, সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তা আসে, কখনো একই ঘরে থেকেও কথা কমে যায়। এমনও হয়, দুজনেই হয়তো ভালো মানুষ, তবু কোথা থেকে যেন দূরত্ব তৈরি হচ্ছে।
এই সময় আমরা সমাধান খুঁজি একে অপরের মধ্যে। “সে কেন বুঝল না?”, “ও একটু বদলালেই সব ঠিক হয়ে যাবে”, “আমি একাই কত চেষ্টা করব?” অথচ একটা জায়গায় ফিরে যাওয়া অনেক সময় ভুলে যাই—যিনি এই সম্পর্কটাকে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর কাছে দুজনের জন্য একসঙ্গে চাওয়া।
কুরআন দাম্পত্যকে শুধু ভালোবাসার সম্পর্ক হিসেবে পরিচয় দেয়নি। আল্লাহ বলেছেন, তিনি স্বামী স্ত্রীর মাঝে প্রশান্তি, ভালোবাসা ও রহমত রেখেছেন। —সূরা আর রূম, ৩০:২১। এটা নিজে দু'আ নয়, বরং দাম্পত্যের একটি কুরআনিক চিত্র। একইভাবে নিচের সবগুলোও শুধু “স্বামী স্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট দু'আ” নয়; কিছু কুরআনের দু'আ, কিছু নবীদের দু'আ, কিছু সাধারণ মাসনূন দু'আ। কিন্তু সংসারের বিভিন্ন মুহূর্তে এগুলো আমাদের আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে শেখায়।
১. যখন আপনার সবচেয়ে বড় চাওয়া হয়—এই মানুষগুলোই যেন চোখের শান্তি হয়
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
“হে আমাদের রব, আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের চোখের প্রশান্তি দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য অনুসরণযোগ্য করুন।”
—সূরা আল ফুরকান, ২৫:৭৪
খেয়াল করুন, এখানে শুধু “ভাল জীবনসঙ্গী” চাওয়া হয়নি। নিজেরাও যেন তাকওয়ার পথে চলতে পারি, সেই চাওয়াটাও আছে। আমরা অনেক সময় ভালো জীবনসঙ্গী চাই, কিন্তু নিজে তার জন্য কেমন জীবনসঙ্গী হচ্ছি, সেই প্রশ্নটা ভুলে যাই।
২. যখন মনে হবে ভালোবাসা আছে, কিন্তু রাগ, অভিমান আর ক্লান্তির নিচে চাপা পড়ে গেছে
তখন সূরা আর রূমের এই আয়াতটা মনে করুন—আল্লাহ স্বামী স্ত্রীর মাঝে মাওয়াদ্দাহ ও রহমাহ, ভালোবাসা ও দয়া রেখেছেন। —সূরা আর রূম, ৩০:২১
কারণ দাম্পত্যে সব দিন একই রকম আবেগ প্রবন হবে না। কোনো কোনো দিনে ভালোবাসা টিকে থাকে রহমতের মাধ্যমে—আজ সে দুর্বল, তাই আমি একটু বেশি ধৈর্য ধরলাম। আজ আমি ভেঙে পড়েছি, তাই সে আমাকে একটু বেশি সামলে নিল।
৩. নতুন দম্পতির জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ যে দু'আ করতেন
بَارَكَ اللَّهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكَ وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ
“আল্লাহ তোমাকে বরকত দিন, তোমার ওপর বরকত নাযিল করুন এবং তোমাদের দুজনকে কল্যাণের মধ্যে একত্রিত রাখুন।”
—সুনান আবু দাউদ, ২১৩০; জামে আত তিরমিযি, ১০৯১
বিয়েতে আমরা সুখ চাই। কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ এর শেখানো দোয়ায় এসেছে বরকত ও কল্যাণ। কারণ সব বেশি হওয়াই সুখ নয়; অল্পের মধ্যেও আল্লাহর বরকত থাকলে সেটাই অনেক।
৪. বিয়ের শুরুতে স্ত্রীর কল্যাণ আল্লাহর কাছে চাওয়ার দোয়া
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَمِنْ شَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ
অর্থ: “হে আল্লাহ, আমি তার কল্যাণ এবং যে স্বভাবের ওপর আপনি তাকে সৃষ্টি করেছেন তার কল্যাণ চাই। আর তার অনিষ্ট ও তার স্বভাবের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই।”
—সুনান আবু দাউদ, ২১৬০, হাসান
এটি নববিবাহিত পুরুষকে শেখানো দোয়া। শুরুটাই যেন হয় মানুষটার ওপর অযৌক্তিক প্রত্যাশা চাপিয়ে দিয়ে নয়, বরং তার কল্যাণ আল্লাহর কাছে চেয়ে।
৫. স্বামী স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতার আগেও আল্লাহকে স্মরণ
بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
“আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ, আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন এবং আপনি আমাদের যা দান করবেন, তা থেকেও শয়তানকে দূরে রাখুন।”
—সহিহ আল বুখারি, ৫১৬৫/৬৩৮৮
ইসলাম দাম্পত্যের একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তকেও আল্লাহর স্মরণ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখেনি। এটাও ইবাদতের আদবের অংশ।
৬. সৎ সন্তান কামনায়
رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ
“হে আমার রব, আমাকে সৎকর্মশীলদের মধ্য থেকে সন্তান দান করুন।”
—সূরা আস সাফফাত, ৩৭:১০০
সন্তান যেন শুধু হয়, এতটুকুই নয়। সে কেমন মানুষ হবে, সেটাও দোয়ার বিষয়।
৭. সন্তান যেন সালাতের মানুষ হয়
رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِن ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ
“হে আমার রব, আমাকে সালাত প্রতিষ্ঠাকারী করুন এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও। হে আমাদের রব, আমার দোয়া কবুল করুন।”
—সূরা ইবরাহিম, ১৪:৪০
আমরা সন্তানের পড়াশোনা, ভবিষ্যৎ, চাকরি নিয়ে যতটা চিন্তা করি, তার সালাত নিয়েও কি ততটা আল্লাহর কাছে কাঁদি?
৮. নিজের হৃদয় যেন হিদায়াত থেকে সরে না যায়
رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
“হে আমাদের রব, হিদায়াত দেওয়ার পর আমাদের হৃদয়কে বক্র করে দেবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন।”
—সূরা আলে ইমরান, ৩:৮
সংসার ঠিক করার আগে কখনো কখনো নিজের হৃদয়টাকেও ঠিক করার প্রয়োজন হয়।
৯. যখন কোনো কথা বলা কঠিন, সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন, পরিস্থিতি সামলানো কঠিন
رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي
“হে আমার রব, আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন।”
—সূরা ত্ব হা, ২০:২৫–২৬
এটি মূসা (আ:) দু'আ। কঠিন কথোপকথন এর আগেও মানুষ আল্লাহর কাছে সহজতা চাইতে পারে।
১০. যখন মনে হয় আর ধৈর্য রাখতে পারছি না
رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا
“হে আমাদের রব, আমাদের ওপর ধৈর্য ঢেলে দিন।”
—সূরা আল বাকারা, ২:২৫০ এর অংশ
সব সমস্যার সমাধান সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না। কোনো কোনো সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেও দরকার হয় স্থির থাকার শক্তি।
১১. যখন ভুল হয়ে গেছে, কিন্তু অহংকার 'দুঃখিত' বলতে দিচ্ছে না
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
“হে আমাদের রব, আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।”
—সূরা আল আরাফ, ৭:২৩
আদম ও হাওয়া (আ:) ভুলের পর অন্যকে দায়ী করার বদলে আল্লাহর কাছে নিজেদের ভুল স্বীকার করেছিলেন। সম্পর্ক বাঁচাতে এই বিনয়ও কত জরুরি।
১২. যখন দুঃসময় দীর্ঘ হয়ে যায়
أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
“আমাকে কষ্ট স্পর্শ করেছে, আর আপনি তো সকল দয়ালুর চেয়ে অধিক দয়ালু।”
—সূরা আল আম্বিয়া, ২১:৮৩
আইয়ুব (আ:) এর এই দু'আয় অভিযোগের চেয়ে আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা বেশি।
১৩. সন্তান না হওয়ার কষ্টে বা উত্তরসূরির আকাঙ্ক্ষায়
رَبِّ لَا تَذَرْنِي فَرْدًا وَأَنتَ خَيْرُ الْوَارِثِينَ
“হে আমার রব, আমাকে সন্তানহীন রেখে দেবেন না; আপনিই সর্বোত্তম উত্তরাধিকারী।”
—সূরা আল আম্বিয়া, ২১:৮৯
এই আয়াতকে কখনো “স্বামী স্ত্রী যেন শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে থাকে” এমন দু'আ হিসেবে প্রচার করা হয়। কিন্তু আয়াতের প্রসঙ্গে এটি যাকারিয়া (আ:) এর সন্তানের জন্য দু'আ। তাই অর্থটাও সেইভাবেই বুঝতে হবে।
১৪. যখন সামনে কী করা উচিত বুঝতে পারছেন না
رَبَّنَا آتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا
“হে আমাদের রব, আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন এবং আমাদের বিষয়টিকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।”
—সূরা আল কাহফ, ১৮:১০
সব সিদ্ধান্তে শুধু “আমি কী চাই?” নয়। কখনো প্রশ্ন করা দরকার, “আল্লাহর কাছে কোন পথটা আমার জন্য সঠিক?”
১৫. দুনিয়া ও আখিরাত—দুটোর কল্যাণ একসঙ্গে চাইতে
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
“হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ দিন, আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।”
—সূরা আল বাকারা, ২:২০১
সুন্দর বাড়ি, আয়, সন্তান, ভ্রমণ—সবই চাইতে পারেন। কিন্তু এমন সংসারই সবচেয়ে সফল, যার দু'আ দুনিয়াতেই শেষ হয়ে যায় না।
১৬. জীবনসঙ্গীর চরিত্র বদলানোর আগে নিজের চরিত্র সুন্দর করার দু'আ
اللَّهُمَّ كَمَا حَسَّنْتَ خَلْقِي فَحَسِّنْ خُلُقِي
“হে আল্লাহ, আপনি যেমন আমার অবয়ব সুন্দর করেছেন, তেমনি আমার চরিত্রও সুন্দর করুন।”
এই দু'আর বর্ণনা সহিহ সূত্রে এসেছে।
কারণ অনেক সংসারে দুজনই অন্য মানুষটাকে বদলাতে চায়। খুব কম সময়ই কেউ বলে, “আল্লাহ, আগে আমার কথাবার্তা, রাগ, আচরণটা সুন্দর করে দিন।”
১৭. আল্লাহর কাছে সুরক্ষা চাওয়ার মাসনূন দোয়া
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ
“আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ বাণীসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।”
রাসূলুল্লাহ ﷺ কোনো স্থানে অবস্থান করলে এই দু'আ পড়তে শিখিয়েছেন।
—সহিহ মুসলিম, ২৭০৮
এটাকে শুধু “ঘর ও পরিবারের বিশেষ দু'আ” বলা ঠিক নয়; এটি সাধারণ সুরক্ষার একটি সহিহ মাসনূন দু'আ।
১৮. যখন বুঝতেই পারছেন না—কোনটা ভালো, কোনটা ক্ষতি
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنَ الْخَيْرِ كُلِّهِ عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ، مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّرِّ كُلِّهِ عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ، مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ
“হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে সব ধরনের কল্যাণ চাই, নিকটবর্তী ও পরবর্তী, যা আমি জানি এবং যা জানি না। আর সব ধরনের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই, যা আমি জানি এবং যা জানি না।”
—সুনান ইবন মাজাহ, ৩৮৪৬, সহিহ
আমাদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো—আমরা জানিই না কোন জিনিসটা পাঁচ বছর পরে আমাদের জন্য ভালো হবে। আল্লাহ জানেন।
১৯. ভুল, ভুলে যাওয়া ও অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য
رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا
“হে আমাদের রব, আমরা ভুলে গেলে বা ভুল করলে আমাদের পাকড়াও করবেন না।”
—সূরা আল বাকারা, ২:২৮৬
মানুষের সঙ্গে সংসার করছেন, ফেরেশতার সঙ্গে নয়। ভুল হবেই। কিন্তু ভুলকে অভ্যাস বানানো আর ভুল বুঝে সংশোধন করা এক জিনিস নয়।
২০. নেক ও পবিত্র সন্তান কামনায়
رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ
“হে আমার রব, আপনার পক্ষ থেকে আমাকে উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি দোয়া শ্রবণকারী।”
—সূরা আলে ইমরান, ৩:৩৮
হয়তো এই বিশটি থেকে আজ আপনার প্রয়োজন মাত্র একটি দু'আ। কারণ আপনার সংসারের সমস্যাটা হয়তো আজ সন্তান নয়, রাগ। অর্থ নয়, দূরত্ব। ভালোবাসার অভাবও নয়, বরং দুজনের হৃদয়ই অনেক ক্লান্ত।
তখন সবগুলো একদিনে মুখস্থ করার প্রয়োজন নেই। নিজের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে যে দু'আটা মিলে যায়, সেটি দিয়ে শুরু করুন। অর্থ বুঝে পড়ুন। নিজের ভাষাতেও আল্লাহর কাছে খুলে বলুন। জীবনসঙ্গীর জন্য গোপনে দু'আ করুন—বিশেষ করে সেই দিন, যেদিন তার ওপর আপনার সবচেয়ে বেশি রাগ।
আর একটা কথা মনে রাখা জরুরি—দু'আ কোনো জাদুর সূত্র নয় যে পড়লাম আর সব সমস্যা নিজে থেকে ঠিক হয়ে গেল। দু'আর সঙ্গে মানুষের হক আদায় করতে হয়, প্রয়োজন হলে ক্ষমা চাইতে হয়, কথা বলতে হয়, রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, দায়িত্ব নিতে হয়, অন্যায় হলে তা বন্ধ করতে হয়। কিন্তু এই সব চেষ্টার মাঝেও মুমিন জানে—হৃদয়ের মালিক শেষ পর্যন্ত আল্লাহ।
হয়তো আজ রাতে আপনারা দুজন একসঙ্গে মাত্র একটি দু'আ পড়বেন।
“রাব্বানা হাব লানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ‘ইউন…”
তারপর একবার মানুষটার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলবেন—
“আল্লাহ, আমি শুধু চাই না সে আমার জন্য ভালো হোক।
আমাকেও তার জন্য ভালো করে দিন।”
হয়তো দাম্পত্যের অনেক পরিবর্তনের শুরু এখান থেকেই হতে পারে।
আল্লাহ আমাদের ঘরগুলোকে সাকীনাহ, মাওয়াদ্দাহ ও রহমাহ দিয়ে পূর্ণ করুন। আমাদের ভুল ক্ষমা করুন, চরিত্র সুন্দর করুন, সন্তানদের নেক বানান এবং আমাদের সম্পর্কগুলোকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে সহায়ক করে দিন। "আমীন 🤲