04/01/2026
নিখোঁজ শিশুর সন্ধানে মায়ের আকুতি
দাগনভূঞা প্রতিনিধি
দাগনভূঞায় স্কুল শিক্ষিকার চার বছরের শিশুপুত্র নিখোঁজের ঘটনায় এলাকায় শোক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ স্থানীয়রা ব্যাপকভাবে তৎপর রয়েছে। নিখোঁজ শিশুর নাম আজিমুল ইসলাম আরাফ (৪)। সে দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের মুন্সিবাড়ির দরজায় অবস্থিত করমুল্যাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা বিবি আয়েশার একমাত্র সন্তান।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আরাফকে খুঁজে না পাওয়ার পরপরই স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদে মাইকিং করে বিষয়টি জানানো হয়। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ভিড় জমে ওঠে।
স্থানীয়রা ও শিক্ষকরা জানান, প্রতিদিনের মতো সেদিনও আরাফ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খেলাধুলা করছিল। বেশিরভাগ সময় সে শহীদ মিনার এলাকা, বেষ্টনীর ভেতর অথবা মায়ের সাথেই থাকতো। ভর্তি সংক্রান্ত কাজ থাকায় শিশুটির মা ওই সময় অফিসিয়াল কাজে ব্যস্ত ছিলেন। মাত্র ৮-১০ মিনিটের ব্যবধানে বাইরে এসে ছেলেকে না পেয়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু হয় এবং দাগনভূঞা থানা ও ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।
বিদ্যালয়ের পশ্চিম ও উত্তর পাশে পুকুর থাকায় প্রাথমিকভাবে সেখানে তল্লাশি চালানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পুকুরে নেমে পর্যবেক্ষণ করেন। পরে জেলেদের সহায়তায় জাল টেনে দুটি পুকুর তল্লাশি করা হলেও কোনো সন্ধান মেলেনি। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন, সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেন সবাই।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফয়জুল আজীম নোমান, ফেনী ফায়ার সার্ভিসের লিডার মোহাম্মদ ইব্রাহিম আখন্দসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। স্থানীয় লোকজন, অভিভাবক, নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
নিখোঁজ শিশুর মা বিবি আয়েশা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, সকাল দশটার পর তিনি আরাফকে খাবার খাইয়ে মুখ ধুয়ে দেন। এরপর তিনি অফিসের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর বাইরে এসে দেখেন, শিশু আরাফ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নেই। শিক্ষক-শিক্ষিকারা সবাই মিলে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি।
স্থানীয়রা জানান, করমুল্যাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মুন্সিবাড়ির দরজায় দাগনভূঞা–বসুরহাট প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত।
এ বিষয়ে দাগনভূঞা থানার ওসি ফয়জুল আজীম নোমান বলেন, প্রাথমিকভাবে পুকুরগুলো তল্লাশি করা হয়েছে। আশপাশের সব এলাকায় খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। যদি কেউ কোনো উদ্দেশ্যে শিশুটিকে নিয়ে থাকে, তাহলে তাকে অবিলম্বে অক্ষত অবস্থায় বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। নিখোঁজ শিশুর সন্ধানে এলাকার মানুষ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছেন। সবাই প্রার্থনা করছেন, শিশুটিকে যেন দ্রুত ও নিরাপদে উদ্ধার করা যায়।