22/07/2026
ছেলেটা আমার ছোট ভাইয়ের বয়সী 😔
বাবাকে দাফন করে রাতভর ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষা 😓
“এই পৃথিবী বড় পাষাণ; কারও সব আছে, আবার কারও যেন কিছুই নেই...”— সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবির ক্যাপশন হলেও বাক্যটির পেছনের সত্যটি চরম নিষ্ঠুর। একদিকে পিতৃহারা হওয়ার তীব্র বেদনা, অন্যদিকে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখে নিজের দায়িত্ব পালন এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখার নিরন্তর সংগ্রাম। এমনই এক করুণ ও অনুপ্রেরণামূলক গল্পের জন্ম দিয়েছে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী তরুণ।
শোকে পাথর হৃদয়, তাও থামেনি সংগ্রাম
বাবার মৃত্যুর পর যেখানে একটি সন্তানের পুরো পৃথিবী থমকে যাওয়ার কথা, সেখানে এই তরুণকে পার করতে হয়েছে এক অকল্পনীয় মানসিক ঝড়। দিনের আলো নিভে যাওয়ার পর বাবাকে শেষ বিদায় জানিয়ে মাটি দেন তিনি। কিন্তু শোকে বিহ্বল হয়ে বসে থাকার সুযোগ ভাগ্য তাকে দেয়নি। পরিবারের টানাপোড়েন কিংবা জীবনের কঠিন তাগিদে বাবাকে দাফন করার দিনই তাকে নামতে হয়েছে রাতভর নাইট ডিউটিতে।
চোখের জলে পরীক্ষার হলে
একদিকে চোখের জল, অন্যদিকে ক্লান্তি—সবকিছু উপেক্ষা করে সারারাত ডিউটি শেষ করে সকালে তাকে বসতে হয়েছে জীবন গড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এইচএসসি পরীক্ষায়। কলেজের ইউনিফর্ম পরা এই তরুণের চোখে-মুখে যেমন ফুটে উঠেছে প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা, তেমনই স্পষ্ট ছিল জীবনযুদ্ধের সামনে মাথা নোয়ানোর এক অদম্য মানসিকতা।
"জীবন কখনো কখনো মানুষকে এমন এক পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করায়, যেখানে কাঁদার সময়টুকুও বিলাসিতা বলে মনে হয়।"
এক কঠিন শিক্ষা ও সমাজের বার্তা
এই ঘটনাটি আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত সহজ জীবনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা হাজারও কঠোর বাস্তবতাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। যেখানে অনেকেই সামান্য অজুহাতে থমকে যায়, সেখানে এই তরুণের দায়িত্ববোধ এবং অদম্য ইচ্ছা আমাদের শেখায় জীবনকে কীভাবে প্রতিটি প্রতিকূলতার মুখেও এগিয়ে নিতে হয়।
তার এই ত্যাগ ও সংগ্রাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করার পাশাপাশি তার এই দৃঢ় মনোবলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
প্রতিটি পরীক্ষার খাতা কিংবা কর্মক্ষেত্রের ডিউটির চেয়েও বড় এক পরীক্ষায় অলিখিতভাবেই জয়ী হয়েছেন এই জীবনযোদ্ধা। তার এই লড়াকু মানসিকতা এবং অদম্য পথচলা সফলতায় রূপ নিক—এটাই সবার কাম্য।
Follow আমি বানাইছি-Ami Banaichi