Complete Building Solutions

Complete Building Solutions A perfect institution for people who want to build a house. We have a team of skilled experts. Here

নির্মাণের নান্দনিকতায় কাচের ব্যবহার: সুবিধা ও অসুবিধাগত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের গল্প। ইউরোপ জুড়ে শুরু হয়েছে শিল্প বি...
06/12/2020

নির্মাণের নান্দনিকতায় কাচের ব্যবহার: সুবিধা ও অসুবিধা
গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের গল্প। ইউরোপ জুড়ে শুরু হয়েছে শিল্প বিপ্লব। সকল শিল্পে আসছে নতুন ফর্মুলা। একই ফর্মুলাতে দ্রুত গতিতে যেকোনো কাজ সেরে ফেলার নেশায় বিভোর সারা বিশ্ব। প্রযুক্তির আশীর্বাদে তখন প্রতিটি ক্ষেত্রেই চলছে বদলের গান।

নির্মাণ শিল্পে এই ফর্মুলাকে বাস্তবায়ন করতে একের পর এক যোগ হতে শুরু করল নতুন উপকরণ। প্রথমে শুরু হল রি-ইনফোর্সড কংক্রিটের ব্যবহার যেটি তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। তারপর সামনে এলো ধাতুর ব্যবহার। সেটি একসময় রূপ নিল সংকর ধাতু স্টিলের জয়জয়কারে। আর স্টিলের হাত ধরে নির্মাণে নতুন করে ফিরে এল কাচ। স্টিলের কাঠামো ও কংক্রিটের মেঝের তৈরি ভবন দ্রুত মুড়ে দিতে কাচ হয়ে উঠল কমার্শিয়াল ভবনের পরিচায়ক। এই ঘরানার নির্মাণ এত দ্রুত ও এত সহজ যে, এখনও চলছে এর জয়জয়কার।

কাচ একটি শিল্পজাত পণ্য। প্রকৃতিতে সরাসরি কাচ পাওয়া যায় না। তবে অনেক আগে থেকেই বালি গলিয়ে কাচ তৈরি শুরু হয়েছিল। একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বালি গলালে সরাসরি কাচ তৈরি করা যায়। তবে সময় যত গড়িয়েছে এই শিল্পকে সহজতর করেছে বিজ্ঞান। রোমান প্রক্রিয়া থেকে কাচ তৈরি সহজতর করতে ইসলামি কাচশিল্পীদের বিরাট ভূমিকা রয়েছে।

বর্তমানে কাচ তৈরি করা হয় সিলিকা বা কাচবালির সাথে সোডা, ডলোমাইট, চুনাপাথর, ফেলস্ফার, সোডিয়াম নাইট্রেট ও কয়লার পাউডার মিশিয়ে। বাংলাদেশের বাজারে সাধারণত দুই ধরনের কাচ দেখা যায়। সাধারণ কাচ ও ক্রিস্টাল গ্লাস। সাধারণ গ্লাস কাটলে সবুজাভ রং দেখা যায়। ক্রিস্টাল গ্লাস সেই তুলনায় একদমই পরিষ্কার। গ্লাস উৎপাদনের সময় এর পুরুত্ব (Thickness) নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত ৩ থেকে ১২ মিলিমিটার পুরুত্বের কাচ খোলা বাজারে দেখা যায়। ৫ ও ১০ মিলিমিটার কাচ ভবনের ভেতরে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। ভবনের বাইরে ২০ মিলিমিটার পর্যন্ত পুরুত্বের গ্লাস প্যানেল ব্যবহার করা হয়।

Urban Scene Skyline Morning View Metropolis Concept
ভবনে কাচের ব্যবহার জনপ্রিয় হবার অন্যতম প্রধান কারণ এর স্বচ্ছতা। ভবনের ভেতরে ধুলা প্রবেশ বন্ধ করে একই সাথে আলোর প্রবেশ নিশ্চিত করতে প্রথমে জানালায় কাচ ব্যবহার শুরু হয়। কাচের জানালাতে খরচও কমে যায় শিল্পপণ্য হিসাবে কাচ সহজলভ্য হওয়াতেই। কাচের সহজলভ্যতা ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যই কাচকে এতটা জনপ্রিয় করেছে। এই সূলভ মূল্যের কারণেই কাচের জানালা ভবনের বাইরের অংশের মূল উপাদান হয়ে ওঠার শুরু।

ইট বা কংক্রিটের নির্মাণ একইসাথে যেমন একের বেশি উপাদান দাবি করে তেমনি এর পেছনে বিনিয়োগ করতে হয় প্রচুর সময়, অর্থ ও শ্রম। এছাড়া নির্মাণ শেষ হলে উপরে দিতে হয় ফিনিশিং ম্যাটেরিয়াল, যেমন- টাইলস বা মোজাইক। কাচ ব্যবহার এই তুলনায় রীতিমত ঝামেলামুক্ত। শুধুমাত্র স্থাপন ও পরিষ্কার করলেই নির্মাণ শেষ করে ফেলা সম্ভব বলে ব্যবসায়িক ভবনের ক্ষেত্রে এটি বেশি জনপ্রিয়।

তবে কাচের ব্যবহারকে তুমুল জনপ্রিয় করেছে মূলত দুটি ঘটনা।

১. কাঠামো নির্মাণ শিল্পে ধাতুর জয়যাত্রা

২. শিল্প বিপ্লবের পর নতুন নান্দনিকতার বিকাশ

প্রথমে বিশুদ্ধ ধাতু ও পরে সংকর অর্থাৎ স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের নির্মাণে বড় জায়গা করে নেওয়াতে তাদের সাথে মানানসই নির্মাণ উপকরণের চাহিদা বাড়ে। প্রথমে কংক্রিট ও ইট দিয়ে চেষ্টা করা হলেও কম ভর, নির্মাণের সহজ প্রক্রিয়া এবং বদলে ফেলার সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখেই কাচ হয়ে ওঠে ভবনের এক্সটেরিয়রের জন্য সবচেয়ে উপযোগী উপাদান।

বর্তমানে প্যানেল আকারে আলাদা কাচ নির্মাণের জন্যই তৈরি করা হয় এবং এগুলো জুড়ে দিয়ে তৈরি হয় বিশ্বের প্রায় ৮০% বাণিজ্যিক ভবন। এছাড়া অন্দরসজ্জাতেও বিশেষ করে অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সজ্জায় কাচ হয়ে উঠেছে প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

আলোর সহজাত প্রবেশ যেমন কাচের আশীর্বাদ, তেমনি এক্ষেত্রে অভিশাপ হলো বাতাসের প্রবাহ রোধ। কাচ দিয়ে তৈরি ভবনের বহির্ভাগ সাধারণত নড়াচড়া করানো যায় না। তাই সরাসরি বাতাস এতে প্রবেশ করতে পারে না। আর সূর্যরশ্মি যে তরঙ্গদৈর্ঘ্য নিয়ে প্রতিসরিত হয়ে কাচের ভেতর প্রবেশ করে ভেতরে ঢুকে সেটি অনেক বেড়ে যায়। ফলে ভেতর থেকে খুব বেশি তাপ বাইরে আসতে পারে না। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় গ্রিনহাউজ প্রক্রিয়া।

এই সমস্যার সমাধান করতে ভবনে প্রচুর পরিমাণে যান্ত্রিক তাপনিয়ন্ত্রক যন্ত্র বা এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হয়। যেটি বাইরের বাতাসকে ঠাণ্ডা করে ভেতরে প্রেরণের পাশাপাশি ভেতরের গরম বাতাসকে সরাসরি বাইরে বের করে দেয়। এর ফলে ভবন ভেতরে ঠাণ্ডা হলেও বাইরে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে।

কাচের আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে এর প্রতিফলন। আলো এবং তাপ প্রতিসরণের পাশাপাশি প্রতিফলিতও হয় কাচে। ফলে সূর্যরশ্মির তাপ ভবনের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া কাচের আলোকচ্ছটা বা গ্লেয়ারেও (Glare) অনেক ক্ষেত্রে আশেপাশের মানুষের বেশ সমস্যা হতে পারে। আলোর প্রতিসরণ কমাতে অনেক ক্ষেত্রে টিন্টেড আউট বা অস্বচ্ছ বা আধা-স্বচ্ছ কাচ ব্যবহার করা হয়। এতে ভেতরের তাপমাত্রা কমলেও প্রতিফলনের হার বাড়ে। এই ধরনের কাচগুলো সাধারণত নীল বা সবুজ হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভবনের চেহারাতেও বেশ খারাপ প্রভাব ফেলে এরকম অতিগ্রাসী রং।

তবে এক্ষেত্রে বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি। কাচ সুলভ ও সাশ্রয়ী হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ দাবি করে। বাংলাদেশে সূর্যের কৌণিক অবস্থান, বৃষ্টির আধিক্য, ঢাকা শহরের বাতাসে বিদ্যমান সাধারণের চেয়ে বেশি ধুলোবালি এবং বহুতল ভবনের রক্ষণাবেক্ষণে প্রযুক্তির অভাব বাংলাদেশে ভবনে ব্যবহৃত কাচের সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয় খুব দ্রুত। ৫-১০ বছরের মধ্যেই কাচের রং নষ্ট হওয়া এবং ফাটলের অভিযোগও শোনা যায় বেশ। তবে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে মনোযোগী হলে এ সমস্যা কাটানো সম্ভব।

ভবনের ভেতরে বর্তমানে ফুল হাইট কাচের পার্টিশনের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এছাড়া অ্যালুমিনিয়াম প্যানেল দিয়ে স্লাইডিং দরজা ব্যবহার হচ্ছে বাংলাদেশে কয়েক দশক ধরে। এগুলো দামে সাশ্রয়ী ও সহজ ব্যবহার্য হলেও ঘরের বাতাস প্রবাহ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বেশ চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তবুও পরিবর্তনের সুবিধা এবং নিয়ন্ত্রণের সারল্য একে ইন্টেরিয়র শিল্পে একই অবস্থানে রাখবে অনেকদিন।

ভবনের বাইরের ও ভেতরের পরিবেশের কথা বিবেচনা করলে কাচ দীর্ঘ সময়ের জন্য খুব উপকারী উপাদান নয়। কিন্তু নির্মাণ নান্দনিকতা, খরচের সাশ্রয় ও একই রকম স্বচ্ছ উপকরণ হিসেবে বিকল্প না থাকায় কাচের ব্যবহার অব্যাহত থাকবে আরও অনেকদিন। নির্মাণে কাচের ব্যবহারে তাই হতে হবে হিসেবি, হতে হবে পরিবেশ সচেতন এবং রক্ষণাবেক্ষণে মনোযোগী।

কাচের সাথে সোলার প্যানেল যুক্ত করে দেয়া কিংবা অপারেবল ডিজাইনের মতো কৌশল ব্যবহার করে কাচের প্রভাবকে যেমন পরিবেশবান্ধব করা যায়, তেমনি ভবনের সৌন্দর্যকে বাড়ানো যায় বহুগুণে। এছাড়া রক্ষণাবেক্ষণে মনোযোগী হলে ভবনের চেহারার পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী হয় ব্যবহার উপযোগিতাও। তাই উপকরণ হিসেবে কাচের কিছু সমস্যা থাকলেও প্রশিক্ষিত স্থপতির চিন্তাশীল নকশা, দক্ষ প্রকৌশলীর নির্মাণ এবং নির্মাতার সদিচ্ছা কাচকে করে তুলতে পারে ভবনের জন্য আশীর্বাদ।

কমপ্লিট বিল্ডিং সলিউশনসআমাদের রয়েছে সৃজনশীল স্থপতি, দক্ষ প্রকৌশলী ও অবিজ্ঞ ঠিকাদার।  >>ইনবক্স ফর ডিটেলসআমাদের সার্ভিস গু...
05/10/2020

কমপ্লিট বিল্ডিং সলিউশনস

আমাদের রয়েছে সৃজনশীল স্থপতি, দক্ষ প্রকৌশলী ও অবিজ্ঞ ঠিকাদার।
>>ইনবক্স ফর ডিটেলস
আমাদের সার্ভিস গুলো হচ্ছে -
১। #প্ল্যান/ #ড্রয়িং/ #নকশা
২। #স্ট্রাকচারাল_ডিজাইন
৩। #আরকিটেকচারাল_ডিজাইন
৪। #থ্রিডি_ডিজাইন/ #থ্রিডি_এনিমেশন
৫। #ল্যান্ডস্কেপিং_ডিজাইন
৬। #ইলেকট্রিক্যাল ও #প্ল্যাম্বিং_ডিজাইন
৭। #ইন্টেরিওর_ডিজাইন
৮। #এপ্রোভাল_ড্রয়িং/শিট
৯। #ম্যাটেরিয়ালস_কস্টিং/এস্টিমেট
১০। #কন্সট্রাকশন ও #সুপারভিশন

#বাড়িরপ্ল্যান #বাড়িরডিজাইন #বিল্ডিংপ্ল্যান #বিল্ডিংলেআউট #আর্কিটেকচারফার্ম #ডিজাইনফার্ম #ড্রয়িং #প্ল্যান #আকর্ষণীয়বাড়িরডিজাইন #ডুপ্লেক্সডিজাইন #ল্যান্ডস্কেপডিজাইন #মডার্নডিজাইন #রিসোর্ট #বাংলোবাড়ি #ড্রিমহাউসডিজাইন

যোগাযোগঃ
অফিসঃ ৮/বি/৫ মধ্য পাইকপাড়া, মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬
মোবাইলঃ ০১৯১৯-৮১৮৪৭৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ওয়েবসাইটঃ www.ske.com.bd

শব্দদূষণ থেকে মুক্তি: ভবন নির্মাণে সাউন্ড ইনসুলেশন ঘটনা-১: জাহিদুর রহমানের বাসার পাশেই রেললাইন। সারাদিন ট্রেনের যাওয়া-আস...
05/10/2020

শব্দদূষণ থেকে মুক্তি: ভবন নির্মাণে সাউন্ড ইনসুলেশন

ঘটনা-১: জাহিদুর রহমানের বাসার পাশেই রেললাইন। সারাদিন ট্রেনের যাওয়া-আসার শব্দে সমস্যা হয়। রাতের আন্তঃনগর ট্রেনের শব্দে তার দুই শিশু ঘুম ভেঙে জেগে বসে থাকে। এসএসসি পরীক্ষার্থী কন্যার পড়াশোনায় বেশ অসুবিধা হচ্ছে এই শব্দে।

ঘটনা-২: মাইকে ওয়াজ মাহফিল চলছে। এদিকে নীলুফার সুলতানার বাবা প্রচণ্ড অসুস্থ। প্রচণ্ড শব্দে অসুস্থ বাবার কষ্ট অসহায় হয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার নেই নীলুফারের।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এরকম শব্দ নিয়ে অসুবিধা হতেই থাকে। আর দশটা সমস্যার মতোই এর সাথেও আমরা মানিয়ে নিই, ভাড়া বাসা হলে বাসা পাল্টানোর চিন্তা করি। অথচ, বাড়ি করার সময় সাউন্ড ইনসুলেশন ব্যবস্থার দিকে সামান্য মনোযোগ দিলে এধরনের অসুবিধা এড়ানো যায় খুব সহজেই।

সাউন্ড ইনসুলেশন
যে তরঙ্গ বায়ু বা অন্য কোনো মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয় এবং মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণীর কানে শ্রবণের অনুভূতি জাগায় তাকে সাউন্ড বা শব্দ বলে। কোনো রুম বা জায়গাকে সাউন্ডপ্রুফ বা শব্দহীন করার পদ্ধতিকে সাউন্ড ইনসুলেশন বলে।

বাসার সাউন্ড ইনসুলেশন
হোম ইনসুলেশন বলতে বোঝায়, যেকোনো অন্তরক বা ইনসুলেটর ব্যবহার করে ঘরকে শব্দ এবং তাপ থেকে আলাদা রাখা। হোম ইনসুলেশনের একটি অংশ হচ্ছে সাউন্ড ইনসুলেশন।

আপনার বাসার অবস্থান কোন এলাকায় তার ওপর শব্দদূষণের মাত্রা নির্ভরশীল। আবাসিক এলাকায় যতটা না শব্দদূষণ হয়, তার তুলনায় বাসা যদি বাস স্ট্যান্ড, রেললাইন, এয়ারপোর্ট, হাইওয়ে, মেইন রোড, সিনেমা হল বা বাজারের পাশে হয়ে থাকে তবে শব্দদূষণের মাত্রা অত্যধিক হয়ে থাকে। এসকল এলাকায় বাসা হলে সাউন্ড ইনসুলেশনের প্রয়োজনও তাই অত্যধিক।

আমাদের দেশে বাড়ি তৈরিতে হোম ইনসুলেশনের বিষয়টিকে একেবারেই গুরুত্বের সাথে দেখা হয় না। কিন্তু অতিরিক্ত শব্দদূষণযুক্ত এলাকায় দীর্ঘদিন থাকার ফলে বাড়ির সকলের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যে স্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে। ঘরে বয়স্ক, হার্টের রোগী বা হাই প্রেশারের কোনো রোগী থাকলে তাদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে হোম ইনসুলেশনের প্রয়োজন রয়েছে।

বাড়ি তৈরির সময়ই এলাকার উপর নির্ভর করে হোম ইনসুলেশনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পড়ার ঘর, বেড রুমগুলো সাউন্ডপ্রুফ হওয়া জরুরি। রুম সাউন্ডপ্রুফ করার জন্য ঘরের যে স্থানগুলোতে বাইরের শব্দ প্রবেশ করে সে স্থানগুলোতে ফোমের প্যাডিং ব্যবহার করা যেতে পারে, এছাড়া ফাইবার গ্লাসের উল দিয়েও আটকে দেওয়া যেতে পারে।

এছাড়া বাড়ি তৈরির সময়ই দেয়ালে ইনসুলেটর ব্যবহার করা যেতে পারে। সাউন্ড রিফ্লেকটিভ সারফেস বাড়ির বাইরের সারফেসে সংযুক্ত করা যেতে পারে। সাউন্ডপ্রুফ করতে গিয়ে ঘর যেন আবার বেশি বদ্ধ না হয়ে যায় সে বিষয়েও নজর রাখতে হবে।

বাইরের আওয়াজ, গাড়ির হর্ন, ট্রাফিকের শব্দ, দরজা খোলার আওয়াজ, বৃষ্টি এবং আবহাওয়াজনিত কারণে সৃষ্ট শব্দ, করিডরে থাকা মানুষের আওয়াজ, কথাবার্তা এগুলো সবকিছু থেকে আলাদা করার জন্য সাউন্ড ইনসুলেশনের প্রয়োজন।

সাউন্ড ইনসুলেশন কীভাবে কাজ করে?
শব্দ এক মাধ্যম থেকে আরেক মাধ্যমে কম্পনের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়ে থাকে। শব্দের কম্পনকে রোধ করার মাধ্যমেই সাউন্ড ইনসুলেশন নিশ্চিত করা হয়।

শব্দ দুই ধরনের।

১। বাতাসে কম্পন সৃষ্টির মাধ্যমে যে শব্দ উৎপন্ন হয়-

বাইরের যেকোনো আওয়াজ, হর্নের শব্দ, ট্রাফিকের শব্দ, কথা বলার শব্দ, টেলিভিশন, রেডিও থেকে উৎপন্ন শব্দ ইত্যাদি।

২। যেকোনো কিছুর প্রভাবে সৃষ্ট কম্পন থেকে যে শব্দ উৎপন্ন হয়-

হাঁটাচলার আওয়াজ, ওয়াশিং মেশিন, ব্লেন্ডারের কম্পনের ফলে সৃষ্ট আওয়াজ, ড্রিল মেশিনের আওয়াজ ইত্যাদি।

সাউন্ড ইনসুলেশন এই দুই ধরনের শব্দের প্রভাব কমিয়ে যেকোনো স্পেসকে অপ্রয়োজনীয় আওয়াজমুক্ত রাখতে সহায়তা করে। এক স্থান থেকে আরেক স্থানে শব্দের স্থানান্তর রোধ করতে অন্তরক পদার্থ শব্দের উৎস যে জায়গাতে থাকে সেই জায়গার একটা বাধা হিসেবে কাজ করে এবং শব্দের কম্পন শোষণ করে সাউন্ড ইনসুলেশন নিশ্চিত করে।

ইনসুলেটর বা অন্তরক নির্ধারণে বিবেচ্য বিষয়
– শব্দ শোষণ বা অ্যাবজর্ভ করার ক্ষমতা

– ওজন হালকা হতে হবে

– বায়ু নিরোধক

– দেয়াল, ছাদ এবং ফ্লোরে সহজে ব্যবহার করা যায় (ইনস্টলেশন যেন সহজে করা যায়)

– আবহাওয়া

– স্থায়িত্ব

– সহজে প্রতিস্থাপন করা যায়

– খরচ

– সহজলভ্যতা

– ক্ষতিকর প্রভাব

– আগুন নিরোধক

– পরিবেশের উপর প্রভাব

সাউন্ড ইন্সুলেশনের জন্য ব্যবহৃত উপাদান
– গ্লাস উল বা ফাইবার গ্লাস

– রক উল

– গ্লাস ইনসুলেশন

– ভিনাইল বোর্ড

– ফোম প্যানেল

– জিপসাম বা পিওপি বোর্ড

– থার্মোকল

এসকল উপাদান দেয়াল, ফ্লোর ও সিলিংয়ে ব্যবহার করা হয়ে থাকে এবং যেকোনো অপ্রয়োজনীয় শব্দ কমিয়ে সাউন্ড ইনসুলেশন নিশ্চিত করে। সচেতন হয়ে বাড়ি নির্মাণ করুন, নিরাপদ থাকুন শব্দদূষণ থেকে।

বাড়ির ড্রেনেজ পদ্ধতি: সবকিছু ভেবেছেন তো?আমাদের বাসাবাড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা আমাদের স্বাস্থ্য ভালো রাখা নিশ্চিত...
04/10/2020

বাড়ির ড্রেনেজ পদ্ধতি: সবকিছু ভেবেছেন তো?

আমাদের বাসাবাড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা আমাদের স্বাস্থ্য ভালো রাখা নিশ্চিত করে এবং বর্জ্য পদার্থের যথাযথ ব্যবস্থা করে আমাদের জীবনকে সুন্দর, সহজ ও সাবলীল করে তোলে তা হলো বাসা-বাড়ির ড্রেনেজ সিস্টেম। এটি বাসার বাথরুম, রান্নাঘর থেকে আমাদের আবর্জনা, ময়লা রাষ্ট্রীয় ওয়েস্ট ডিস্পোজাল সিস্টেমের মাধ্যমে সরিয়ে দিয়ে আমাদের আশেপাশের স্থানকে করে তোলে পরিষ্কার ও আমাদেরকে রাখে ক্ষতিকারক প্রাণী ও কীটপতঙ্গ থেকে নিরাপদ।

এভাবে চিন্তা করলে আমাদের বাসাবাড়ির ড্রেনেজ সিস্টেম শুধু আমাদের বাড়িই না, সাথে সাথে বাড়ির আশেপাশের পরিবেশ এবং সামগ্রিকভাবে দেশের পরিবেশ ভালো রাখতে সাহায্য করে। যেকোনো একটি ছোট স্থানের যেকোনো সমস্যা আমাদের সামগ্রিক ড্রেনেজ সিস্টেমের সমস্যা হিসেবেই পরিগণিত হয়।

এজন্য বাসার নকশার সময় আমাদের ড্রেনেজ সিস্টেম খুব ভালোভাবে নকশা করতে হবে। আসুন জেনে নিই ড্রেনেজ সিস্টেম কীভাবে নকশা করতে হবে, কী কী জিনিস আমাদের খেয়াল রাখতে হবে এবং আমাদের জীবনে কীভাবে এ থেকে সুফল পাব।

কী কী খেয়াল রাখতে হবে?
কোন বাসার ড্রেনেজ সিস্টেম বলতে এর প্লাম্বিং এবং এর সাথে জড়িত পাইপের লেআউটকে বোঝায়। বাসা নকশা করার সময় এই প্লাম্বিং ডিজাইন করাটা অনেক জরুরি। প্লাম্বিং লেআউট থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় মাপের সেপ্টিক ট্যাঙ্ক কিংবা পাইপের ব্যাসার্ধ এসব কিছু প্রয়োজনমাফিকভাবে নির্ধারণ করা এবং সঠিকভাবে দালানে বা বাসায় ইনস্টল করা খুব জরুরি। নাহলে বাসায় বসবাস করা রীতিমতো দুর্বিষহ থেকে অসম্ভব হয়ে পড়বে। আসুন জেনে নিই আমাদের শুরুতেই কী কী জেনে নিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে।

“কী পরিমাণ বর্জ্য নিঃসরণ হতে পারে” সে বিষয়টি ভবনে কত জন থাকবে এবং সরকারি নিয়ম ও ইঞ্জিনিয়ারিং-এর টেকনিক্যাল জ্ঞান প্রয়োগ করে বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে দালানের নকশা করার আগেই নির্ধারণ করে নিতে হবে।

দালানের নকশার সময় পাইপ দালানের গা বেয়ে নেমে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়েছে কিনা তা নকশা অনুমোদনের সময়ই খেয়াল রাখতে হবে। নাহলে দালানের গা বেয়ে এক্সপোসডভাবে পাইপ নামবে, যা দালানের সৌন্দর্য নষ্ট করবে এবং দালানের প্লাম্বিং ব্যবস্থাকে দুর্বল করে ফেলবে।

বাথরুম ও রান্নাঘরের পাইপের মাপ এক রকম হয় না, কারণ এদের কাজও ভিন্নরকম। তাই পাইপের মাপ, ব্যাসার্ধ ইত্যাদি সঠিকভাবে পরিমাপ করতে হবে। এবং নিয়মমতো ইনস্টল করতে হবে।

সবচেয়ে কম পরিমাণ পাইপ ব্যবহার করা দালান সবসময়ই ভবন ব্যবস্থাপনার জন্য সুবিধাজনক। কারণ এতে করে পাইপে ক্লগ কম হবে, সাস্পেন্ডেড বা ফলস সিলিংয়ের পিছনে খরচ কম হবে। তাই ডাক্টিং খুব খেয়াল করে দিতে হবে যাতে একটি সহজ সরলরৈখিক পথে সেটা নামানো সম্ভব হয়।

প্লাম্বিং-এর পাইপের মান ভালো দিতে হবে যাতে তা থেকে লিক না হয় এবং ফেটে না যায়। এরপরে যাতে ভালোভাবে পাইপের দেখভাল করা যায় সেজন্য উপযুক্ত জায়গা দিতে হবে। এছাড়া বাসা-বাড়ির ভিতরে যাতে লিক না হয় সেজন্য ড্যাম্প-প্রুফিং করতে হবে।

নিয়মকানুন
প্রতিটি আবাসনের ইউনিটে থাকতে হবে কমপক্ষে একটি ওয়াটার ক্লজেট এবং একটি রান্নাঘর সিঙ্ক বা ওয়াশিং সুবিধা। কমপক্ষে একটি বাথরুম রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে স্যানিটেশন এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সেক্ষেত্রে, স্নানের প্রাথমিক প্রয়োজনীয়তাগুলো পূরণ করতে বাথটাব বা ঝরনার পৃথকভাবে ব্যবস্থা করা হবে।

বিভিন্ন ভবনের ড্রেনেজ ও স্যানিটেশন সিস্টেম ডিজাইনের উদ্দেশ্য হলো দুর্গন্ধ দূরীকরণ, সলিড ওয়েস্ট জমা এবং জমাট বাঁধানো, পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা এবং পরিদর্শন চেম্বারগুলো এমনভাবে সাজানো যাতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি ছাড়াই ড্রেনগুলো সহজে পরিষ্কার করা যায়।

প্লাম্বিং সিস্টেমটিতে ন্যূনতম পরিমাণে পানি ধারাবাহিকভাবে ব্যবহারের জন্য ডিজাইন এবং সমন্বয় করা হবে, যাতে এর সঠিক কর্মক্ষমতা এবং সহজেই পরিষ্কারের ক্ষমতা সুনিশ্চিত হয়। প্লাম্বিং সিস্টেম, ডিভাইস এবং সংযুক্তিগুলোতে প্রয়োজনীয় পরিমাণে পানির সরবরাহ করা হবে এগুলোকে যথাযথভাবে কাজ করতে সক্ষম করার জন্য। পর্যাপ্ত চাপ এবং সাধারণ অবস্থার অধীনে অযৌক্তিক গোলমাল ছাড়াই যাতে ব্যবহার করা যায় সেভাবে এগুলোর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। যখনই সম্ভব হবে, সমস্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা পাব্লিক নর্দমা বা বেসরকারি বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থায় ফেলে দেওয়া হবে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ব্যবহার করে।

দালানে প্লাম্বিং সিস্টেমের প্রকারভেদ
দালানে ড্রেনেজ সিস্টেম নকশা করার জন্য সাধারণত ৩ প্রকারের সিস্টেম ব্যবহার করার নিয়ম আছে। এখান থেকে যেকোনো একটি পদ্ধতি বেছে নকশা করতে হয়। সেগুলো হলো-

১. সিঙ্গেল স্ট্যাক সিস্টেম- সাধারণত ৫ তলা পর্যন্ত উঁচু দালানে ব্যবহার করা হয়।

২. একক পাইপ সিস্টেম- যেসব দালানে সবরকমের বর্জ্য পদার্থ একটিমাত্র পথে নিষ্কাশিত হয়, সেসব দালানে এই সিস্টেম ব্যবহৃত হয়।

৩. ডাবল পাইপ সিস্টেম- যেসব বাসায় রান্নাঘর এবং বাথরুম থেকে স্লাজ আলাদাভাবে নিষ্কাশন করা হবে, যা মাটিতে সেপটিক ট্যাঙ্ক বা ইমহফ ট্যাঙ্কে বর্জ্য হিসেবে নিষ্কাশিত হবে, সেসব ক্ষেত্রে দুটি পাইপ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে।

এসব সিস্টেম উপযুক্ত এক্সপার্টের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে বা দালানের জন্য ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যথায় ব্যবহৃত পানি ও স্লাজের লোডের কারণে তা ব্যর্থ হবে। এছাড়াও পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত মাপের এবং স্পেসিফিকেশনসহ পাইপ ব্যবহার করতে হবে, যাতে পাইপ স্লাজ ও পানির আভিকর্ষজ চাপের কারণে ফেটে না পড়ে। এজন্য অভিজ্ঞ প্লাম্বার ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শক্রমে আমাদেরকে আমাদের বাসার ড্রেনেজ সিস্টেম ঠিক করতে হবে।

এতে করে আমাদের বাসার পরিবেশ যেমন ভালো থাকবে, ঠিক তেমনিভাবে সঠিক স্যানিটেশন ও ড্রেনেজ সিস্টেম চালু করার আমাদের বাসার সামনের ও আশেপাশের পরিবেশ ভালো ও পরিষ্কার থাকবে।

বাড়ি নির্মাণে ডিস্টেম্পার না প্লাস্টিক পেইন্ট?বাড়ি নির্মাণের বিভিন্ন ধাপের মধ্যে অতীব গুরুত্বপূর্ণ হলো পেইন্টিং বা রং কর...
04/10/2020

বাড়ি নির্মাণে ডিস্টেম্পার না প্লাস্টিক পেইন্ট?

বাড়ি নির্মাণের বিভিন্ন ধাপের মধ্যে অতীব গুরুত্বপূর্ণ হলো পেইন্টিং বা রং করা। রঙের ছোঁয়া যেন কাঠামোতে নতুন প্রাণ নিয়ে আসে। দুই ধরনের বহুল ব্যবহৃত রং হলো ডিস্টেম্পার ও প্লাস্টিক পেইন্ট। দুটিরই রয়েছে ভালো-খারাপ বিভিন্ন দিক। তাই বাড়িতে রঙের ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ডিস্টেম্পার ও প্লাস্টিক পেইন্ট নিয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

ডিস্টেম্পার পেইন্ট
প্রাচীনকাল থেকে বাড়ি রং করার কাজে আঠা, পানি, চক ও রঙ্গকের সমন্বয়ে গঠিত ডিস্টেম্পার ব্যবহৃত হয়ে আসছে । ডিস্টেম্পারের প্রধান উপাদানগুলো হলো চক, লাইম ও পানি। এটি সিমেন্ট পেইন্ট নামেও পরিচিত ছিল, কারণ প্রাইমার ছাড়াও সিমেন্টের দেয়ালে এটি সরাসরি ব্যবহার করা যায়।

বিভিন্ন ধরনের ডিস্টেম্পার পেইন্টের মধ্যে আক্রেলিক, সিন্থেটিক এবং ড্রাই উল্লেখযোগ্য। কিন্তু সিন্থেটিক ও ড্রাই ডিস্টেম্পার পানি দিয়ে ধোয়া যায় না।

ডিসটেম্পারের ব্যবহার প্রণালী অনেক সহজ হলেও এটি আর্দ্রতা সহনশীল না হওয়ার কারণে আদিকাল থেকে এটি সাধারণত অন্দরমহলের কাজেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই অসুবিধা বাদ দিলে এটি দামের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি সহজলভ্য এবং কয়েক কোটিং এই ভালো ফিনিশিং প্রদর্শন করে। সেইসাথে এটি অত্যন্ত দ্রুত শুকায় এবং ৩-৪ বছর পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।

প্লাস্টিক পেইন্ট
প্লাস্টিক পেইন্ট ইমালশান পেইন্ট হিসেবেও পরিচিত। এতে আঠা হিসাবে সাধারণত আক্রেলিক রেসিন ব্যবহার করা হয়। এটি মূলত পানিভিত্তিক পেইন্ট। বিভিন্ন দিক বিবেচনায় এটিকে অধিক কার্যকর ও সঠিক বিবেচনা করা হয়। পরিষ্কার করা, সংরক্ষণ করা এবং দূর্গন্ধ না থাকা ইত্যাদি নানা দিক বিবেচনায় প্লাস্টিক পেইন্ট অতুলনীয়।

প্লাস্টিক পেইন্ট তিন ধরনের হয়ে থাকে- রেগুলার ইমালশান, ইকোনমিক ইমালশান এবং প্রিমিয়ার ইমালশান।

Buckets of paint on the floor
ডিস্টেম্পার ও প্লাস্টিক পেইন্টের সুবিধা-অসুবিধা
প্লাস্টিক পেইন্ট ডিস্টেম্পার পেইন্টের চেয়ে বেশি দীর্ঘস্থায়ী।
ইমালশান পেইন্টের আকর্ষণীয় সুগন্ধ রয়েছে যা ডিস্টেম্পার পেইন্টে পাওয়া যায় না।
প্লাস্টিক পেইন্ট আর্দ্র অবস্থায় খসে পড়ে না, কিন্তু ডিস্টেম্পার পেইন্ট পড়ে।
ডিস্টেম্পার পেইন্টের তুলনায় প্লাস্টিক পেইন্টে নিখুঁত ফিনিশিং পাওয়া যায়।
প্লাস্টিক পেইন্ট ডিস্টেম্পার পেইন্টের তুলনায় ব্যয়বহুল।
প্লাস্টিক পেইন্টের ক্ষেত্রে বাড়তি প্রাইমারের প্রয়োজন হয়, যা ডিস্টেম্পার পেইন্টের ক্ষেত্রে লাগে না।
প্লাস্টিক পেইন্ট ধোয়া যায় এবং সময়ের সাথে রং মলিন হয়ে যায় না, যা ডিস্টেম্পার পেইন্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
বাজারদরের ক্ষেত্রে রং ভেদে ভিন্নতা দেখা যায়। বিভিন্ন কোম্পানি এই রং বাজারজাত করে থাকে। সময়ভেদে দামের তারতম্য পরিলক্ষিত হয়।

তবে স্থায়ীত্ব, ফিনিশিং এবং আবহাওয়াজনিত বিভিন্ন কারণ বিবেচনায় এই সময়ে প্লাস্টিক পেইন্ট, ডিস্টেম্পার পেইন্টের চেয়ে এগিয়ে আছে। আপনার বাড়ি বানানোর সময় প্রয়োজন অনুসারে যাচাই করে নিন কোন রংটি সবচেয়ে ভালো হবে, কারণ, বাড়ির প্রধানতম সৌন্দর্য কিন্তু ফুটে ওঠে রঙের মাধ্যমেই।

ভূমিকম্প থেকে বাড়ির সুরক্ষা: কী কী করতে হবে?২০২০ সালকে বলা হচ্ছে দুর্যোগের বছর। করোনার প্রকোপের খবরে যখন চারদিক সরগরম, ত...
04/10/2020

ভূমিকম্প থেকে বাড়ির সুরক্ষা: কী কী করতে হবে?

২০২০ সালকে বলা হচ্ছে দুর্যোগের বছর। করোনার প্রকোপের খবরে যখন চারদিক সরগরম, তখন আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, বিগত কয়েক বছর ধরেই উপমহাদেশে ভূমিকম্পজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে। এর অংশ হিসাবে ঢাকায় ক্রমাগতভাবে অনুভূত হতে থাকা ভূমিকম্পের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। এছাড়া ২০১৮ সালে নেপালে অনুভূত তীব্র ভূমিকম্প আভাস দেয় যে, যেকোনো সময় ঢাকাও হয়ে উঠতে পারে প্রলয়ঙ্করী এই দুর্যোগের কেন্দ্রস্থল।

অনেক সময়ই আমাদের আড্ডা-আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে একটি প্রশ্ন, ঢাকায় যদি আসলেই বেশি মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়, আমাদের কত শতাংশ ভবন সেখানে রক্ষা পাবে? খুবই শঙ্কাজনক প্রশ্ন হলেও এর সঠিক উত্তর দেওয়া খুবই কষ্টসাধ্য। আগে নির্মিত হয়ে যাওয়া ভবনগুলোর সিংহভাগেরই এ ব্যাপারে যথেষ্ট পুনঃপরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তবে এর সাথে সাথে নতুন নির্মিতব্য ভবনগুলোকে হতে হবে অত্যন্ত মানসম্পন্ন ও ভূমিকম্প সহনীয়। একটি ভবনকে ভূমিকম্প সহনীয় করতে তিনটি আলাদা পর্যায়ে কাজ করতে হবে।

১. নকশা প্রণয়ন
বাংলাদেশে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনেকেই মনে করেন, স্থপতির ভূমিকা শুধু লেআউট বা প্ল্যান করে দেওয়া। এই ধারণাকে সামনে রেখে অনেকেরই ডিপ্লোমা বা স্থাপত্যের ছাত্রদের কাছ থেকে কোনোরকমে একটি প্ল্যান এঁকে নেয়ার প্রবণতা থাকে। একজন স্থপতিকে ভবনের নকশা প্রণয়ন করতে অবশ্যই ডিগ্রি (ডিপ্লোমা নয়) এবং লাইসেন্সধারী হতে হবে। থাকতে হবে পর্যাপ্ত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা এবং হতে হবে Institute of Architects Bangladesh (IAB) এর সক্রিয় সদস্য। তিনি ভবনের নকশা প্রণয়নের সময় নিশ্চিত করবেন-

● ভবনের জন্য দরকারি কলাম-বীম-শিয়ার ওয়াল বা সব ধরনের স্ট্রাকচারাল উপাদানের জন্য প্রাথমিক নকশা থেকেই যেন অবস্থান নির্ধারণ করা থাকে। প্রয়োজনে সেগুলোর আকার বাড়ানোর জন্যও যেন যথেষ্ট জায়গা থাকে।

● ভবনের বাসিন্দার সংখ্যার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ লিফট ও সিঁড়ির ব্যবস্থা যাতে থাকে এবং উলম্ব চলাচল বা Vertical Connection যেন কোনোভাবেই অতিরিক্ত লিফট-নির্ভর না হয়।

● দুর্যোগের সময় ভবন থেকে সবাই বের হয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহারের জন্য সরকারি বিধিমালা মোতাবেক আলাদা সিঁড়ি (Emergency Stairs) যেন অবশ্যই থাকে। ভবনের আকার অনুসারে এই আলাদা সিঁড়ি যেন প্রতি ১৫০ ফুট অতিক্রম করার মধ্যে কমপক্ষে দুইবার পাওয়া যায়।

● ভবনের সামনে বিল্ডিং কোড ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসারে যেন জায়গা ফাঁকা রাখা হয় এবং ভবনের মাঝে মাঝেও যাতে জরুরি প্রয়োজনে জমায়েত হবার ও সুরক্ষা পাবার উপকরণ পাওয়া যায়।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ভবন সংক্রান্ত পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে স্থপতির কাজ। এই কাজে অন্য কোনো পেশার মানুষ নিয়োগ কখনোই একটি পরিকল্পিত ভবন তৈরি করতে পারে না, যে পরিকল্পনা দুর্যোগ মোকাবেলায় খুবই দরকারি।

২. কাঠামোগত নকশা
কাঠামোগত নকশা বা Structural Design হলো ভবনের নকশা ও আর্কিটেকচারাল ডিজাইন শেষ হবার পরবর্তী ধাপ। এই ধাপে কাজ করবেন একজন প্রশিক্ষিত ও লাইসেন্সধারী সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। তাকে হতে হবে ডিগ্রিধারী, Institute of Engineers Bangladesh (IEB) এর সদস্য এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর কাঠামোগত কাজে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। এই ধাপে তিনি যা যা করবেন তা হলো-

● সয়েল টেস্ট করে ভবনের ফাউন্ডেশনের প্রকৃতি নির্ধারণ করবেন যেন দুর্যোগের সময় ভবন সঠিকভাবে এর ভার মাটিতে বহন করে নিতে পারে। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে ভবন যেন কোনোভাবেই হেলে না যায়।

● অত্যন্ত সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে ভবনে ব্যবহৃত প্রতিটি উপাদান (রড, সিমেন্ট, স্টিল ও কাঠামো ধরে রাখতে যা যা কাজ করবে) সেগুলোর বিস্তারিত হিসাব ও ড্রয়িং করবেন এবং নিশ্চিত করবেন ভবনের সর্বোপরি কাঠামো যেন একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত সহনীয় হয়। ভবনের ডিজাইন করার সময় তিনি এই বিষয়টি চিন্তা করে ও সেফটি ফ্যাক্টর হাতে রেখে কাঠামোর ডিজাইন করবেন।

● ভূমিকম্প সহনীয় ডিজাইন নিশ্চিত করতে কম্পিউটার সিমুলেশন তৈরি করে প্রকৌশলী আপনাকে আগেই নিশ্চিত করবেন ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ভবনের ব্যবহার কেমন হবে। এর সাহায্যেই ভবন তৈরির আগেই ভূমিকম্পের সময় ভবনের সহ্যক্ষমতা সম্পর্কে আপনার পরিষ্কার ধারণা থাকবে।

৩. অনুমোদন ও নির্মাণ
অনুমোদন ও নির্মাণের ভার আপনার ও আপনার কনট্রাক্টরের ওপর। এই ধাপগুলোতে যা যা মনে রাখবেন তা হলো-

● প্রকৌশলী এবং স্থপতির নকশার আইনগত দায়ভার তাদের। কিন্তু সেই নকশা অপরিবর্তিত রেখে ও সকল বিধি মেনে পাশ করাবার ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে হবে আপনাকেই। কোনো ধরনের অবৈধ পরিবর্তন করে স্কয়ার ফিট বাড়ানো বা ফাঁকা জায়গা কমানোর ধারণা পরিহার করতে হবে। আপনার নিরাপত্তার জন্যেই এগুলো প্রয়োজনীয়।

● পাশ করা নকশা যেন কনট্রাক্টর হুবহু মেনে চলেন সে ব্যাপারে আপনাকে হতে হবে সচেতন। নকশার পরই আপনাকে স্থপতি তার কাজের অংশ হিসাবে Bill of Quantities (BoQ) দেবেন। প্রকৌশলীর ডিজাইন শেষ হয়ে গেলে পাবেন Specification (স্থপতির অফিস থেকেই)। এই দুটি আপনাকে সকল উপাদানের দাম ও উপকরণের খুঁটিনাটি সম্পর্কে একদম পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দেবে। এগুলো অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলুন।

অপেশাদার কারও পরামর্শে বাড়ি সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। মনে রাখবেন, একজনের ১০টি বাড়ি থাকলেও তার পরামর্শ আপনার বাড়িটিকে ভূমিকম্পরোধী করার নিশ্চয়তা দেয় না। বরং আপনার নিজের বিনিয়োগ ও পরিবারের নিরাপত্তা নির্ভর করে আপনার সিদ্ধান্তের উপরেই। তাই প্রতিটি ক্ষেত্রে পেশাদারী সাহায্য ও কাজের গুণগত মান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই কেবল ভূমিকম্প সহনীয় বাড়ি তৈরি করা সম্ভব।

মেঝের একাল সেকালছোটবেলায় শহরের যেকোনো বাসার মেঝেতেই দেখা মিলত মোজাইক ফ্লোরের, নানা রঙের পাথরের ছোট ছোট টুকরো দেখা যেত ফ...
04/10/2020

মেঝের একাল সেকাল

ছোটবেলায় শহরের যেকোনো বাসার মেঝেতেই দেখা মিলত মোজাইক ফ্লোরের, নানা রঙের পাথরের ছোট ছোট টুকরো দেখা যেত ফ্লোরের মাঝে। অনেক জায়গায় সরকারি কলোনিগুলোতে এখনও ফ্লোরে দেখা মেলে প্লেইন কংক্রিট না হয় পাকা ঢালাইয়ের। গ্রামে এখনও পাকা বাড়িতে ফ্লোরে পাকা ঢালাইয়ের ব্যবহার বহুল প্রচলিত। তবে সময় পাল্টে যাচ্ছে। মোজাইক ফ্লোর, প্লেইন কংক্রিট আর পাকা ঢালাইয়ের জায়গাতে গত বেশ অনেক বছর ধরে জায়গা করে নিয়েছে টাইলস। আর এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে খরচ, সহজলভ্যতা আর স্থায়িত্ব।

ঘরের মাঝে আমাদের সবচেয়ে কাছাকাছি সংস্পর্শে থাকে মেঝে, সারাক্ষণ মেঝের ওপর দিয়েই চলাচল হয় সবার। তাই ফ্লোর ফিনিশিংয়ের বিষয়টি বাড়ি নির্মাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

পাকা ঢালাই
ফ্লোর ফিনিশিং-এ পাকা ঢালাই ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেসব জিনিস মাথায় রাখতে হবে তা হচ্ছে:

১. আরসিসি কাজের জন্য কংক্রিট মিশ্রণ ১ঃ২ঃ৪ হওয়া ভালো, এক ভাগ সিমেন্ট, দুই ভাগ বালু, চার ভাগ খোয়া।

২. পানির সাথে মশলা মেশার আগপর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

৩. সেটিং শুরু করার আগেই ঢালাই হয়ে যেতে হবে।

৪. সেটিং এর জন্য এমন তক্তা অথবা প্লেট ব্যবহার করতে হবে যেন তাতে ছিদ্র না থাকে এবং ব্যবহারের আগে তাতে ডিজেল গ্রিজ লাগিয়ে নিলে ফিনিশিং ভালো হয়।

গ্রামে এখনও পাকা ঢালাইয়ের ফিনিশিং দেখা গেলেও, শহরের নতুন নির্মিত বাড়িগুলোতে এর ব্যবহার নেই বললেই চলে।

মোজাইক ফিনিশিং
বিভিন্ন রঙের ৬ মিমি. বা এর নিচের সাইজের মার্বেল পাথরের গুড়া, সাদা বা গ্রে সিমেন্ট ও পানির মিশ্রণ দ্বারা তৈরি মর্টার দ্বারা ১০ থেকে ১২ মিমি. পুরুত্বের যে ফ্লোর নির্মাণ করা হয়, সেটাই হলো মোজাইক ফ্লোর।

মোজাইক ফ্লোর নির্মাণের আগে কিছু কাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন:

১. পাথরের সাইজ, কালার নির্বাচন, ফ্লোরের লেভেল নির্ধারণ, স্যানিটারি লাইন চেক, সিমেন্ট নির্বাচন, ফ্লোর সারফেস সমতল করা ইত্যাদি।

২. সাইজ ও কালার নির্বাচন করার পর পাথরগুলো বস্তা থেকে বের করে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে এরপর ওজন স্কেল দিয়ে প্রতি বস্তা সিমেন্টের ওজন সমান ৪০ কেজি হিসেব করে বা ৫০ কেজি হিসেবে মেপে বস্তা করে রাখতে হবে। সব রঙের পাথরকেই একইভাবে মেপে রাখতে হবে।

৩. মোজাইকের কাজ শুরু করার আগে ১:২ (১ ভাগ সিমেন্ট, ২ ভাগ বালি) অনুপাতে নিচের মূল ফ্লোরটি তৈরি করে নেওয়া হয়।

৪. এর উপর মোজাইকের মশলা অন্তত ১/২” পুরু করে প্রলেপ দেওয়া হয়।

৫. মোজাইকের এ প্রলেপটি ১৫ থেকে ২০ দিন যথানিয়মে কিউরিং করানো হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে ৪০, ৬০, ৮০, ১০০ ও ১২০ নং পাথর দিয়ে ঘষে মসৃণ করা হয়। এ কাজকে মোজাইক কাটিং ওয়ার্ক বলে।

মোজাইক ফ্লোর সাশ্রয়ী হলেও এর ব্যবহারে বেশ কিছু অসুবিধা রয়েছে, যেমন:

১. মোজাইকের কাজে অত্যন্ত দক্ষ মিস্ত্রির প্রয়োজন, যা বর্তমানে পাওয়া বেশ মুশকিল।

২. এর নির্মাণে জটিলতা বেশি।

৩. মোজাইক ফিনিশিংয়ের ডাস্ট সহজে মাটির সাথে মেশে না, ফলে পরিবেশের ক্ষতি হয়।

৪. কোনোরকম ক্র্যাক করলে রি-কাস্ট করা বেশ একটা সম্ভব হয় না।

টাইলস
সহজে ও স্বল্প সময়ে স্থাপন করা যায় এবং দৃষ্টিনন্দন বলেই নির্মাণকাজে টাইলসের ব্যবহার এখন বহুগুণে বেড়েছে। ফ্লোর, ওয়াল, ছাদ বা পার্কিংসহ জায়গাভেদে বিভিন্ন মানের ও দামের টাইলস পাওয়া যায়।

টাইলসের প্রকারভেদ

গঠনগত দিক দিয়ে ও ধরন বিবেচনায় বাসা-বাড়িতে সাধারণত দুই ধরনের টাইলস ব্যবহৃত হয়:

১. সিরামিক টাইলস

২. হোমোজিনাস টাইলস

সিরামিক টাইলস: ক্লে টাইলসের উপর সিরামিকের লেয়ার দিয়ে সিরামিক টাইলস তৈরি করা হয়ে থাকে। এটি যেকোনো দেয়ালে লাগানোর উপযোগী। এই টাইলস ছোট ও মাঝারি সাইজের পাওয়া যায়।

হোমোজিনাস টাইলস: এই টাইলস পুরোটাই একই ম্যাটেরিয়ালে তৈরি। এই টাইলস বেশি ব্যবহারে উপরে ক্ষয়প্রাপ্ত হলেও নিচে থেকে একই লেয়ারে বের হয়ে আসে। তাই ফ্লোর ও সিঁড়িতে হোমোজিনাস টাইলস বহুল ব্যবহৃত হয়। এই টাইলস বিভিন্ন শেপ ও সাইজের হয়ে থাকে।

নান্দনিকতা ও ফিনিশিংয়ের জন্য যেসব টাইলস ব্যবহার হয়ে থাকে সেগুলো হলো:

মিরর পলিশড টাইলস: বর্তমানে বাসা-বাড়িতে ফ্লোরে যে টাইলসের ব্যবহার সবচেয়ে বেড়েছে তা হলো মিরর পলিশড টাইলস। বড় সাইজের ও উজ্জ্বল হওয়াতে বাসা ও শোরুমে এটি ব্যবহৃত হয় বেশি। তবে মিরর পলিশড টাইলস অবশ্যই উন্নতমানের হতে হবে, তা না হলে অচিরেই উজ্জ্বলতা হারাবে এই টাইলস।

রাস্টিক টাইলস: ভবনের বাইরের দেয়ালে, বাউন্ডারি ওয়ালে এমনকি বাসার ভেতরেও যেকোনো এক দেয়ালে রাস্টিক ফিলিংস আনতে এই টাইলসের বিকল্প নেই। স্টোন চিপস দিয়ে তৈরি এই টাইলস বিভিন্ন সাইজ ও ডিজাইনে বাজারে পাওয়া যায়। এর ব্যবহার বাসার অন্দরে ও বাইরে আলাদা আভিজাত্য ও নান্দনিকতা যোগ করে।

ম্যাট টাইলস: সাধারণত ফ্লোরে পিচ্ছিলতা এড়াতে ম্যাট ফিনিশড টাইলস ব্যবহার করা জরুরি। লক্ষ্য রাখতে হবে বাথরুমে দেয়ালের এবং ফ্লোরে একই রকম টাইলস ব্যবহার করা উচিৎ নয়। এছাড়াও সিমেন্টের তৈরি হেভি লোড বিয়ারিং পার্কিং টাইলস রয়েছে, যা বাগান, ফুটপাত, ছাদে ব্যবহার করা যায়।

টাইলস বসানোর সময় লক্ষ্যণীয় বিষয়সমূহ:

১. ফ্লোর ভালো করে চিপিং করতে হবে, এরপর পরিষ্কার করে নিতে হবে।

২. রুম ভালো করে মেপে টাইলস বসানো শুরু কর‍তে হবে, যেন কাটপিস সামনের দিকে না পড়ে।

৩. প্রথমে ওয়াল টাইলস ও এরপর ফ্লোর টাইলস বসাতে হবে।

৪. টাইলস ব্যবহারের আগেই ভালো করে ভেজাতে হবে, বিশেষত সিরামিক টাইলস অবশ্যই ভিজিয়ে ব্যবহার করতে হবে।

৫. টাইলস বসানোর কাজে রাবারের হাতুড়ি ব্যবহার করতে হবে।

৬. টাইলস বসানোর পরপরই টাইলসে লেগে থাকা বালি-সিমেন্ট পরিষ্কার করে ফেলতে হবে, যদি দেরি করা হয় তাহলে স্ক্র্যাচ পড়ে যেতে পারে। টাইলস বসানো হয়ে গেলে পরদিন ফ্লোর টাইলস কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা কিউরিং করতে হবে।

৭. টাইলস বসানোর পরে অবশ্যই ভালোমতো পয়েন্টিং করতে হবে।

টাইলস ব্যবহারে ফ্লোর ফিনিশিং হয় স্থায়ী এবং নান্দনিক। এতে মেঝে পরিষ্কার করাও সহজ। সব মিলিয়েই বর্তমানে মোজাইক আর পাকা ঢালাইয়ের বদলে টাইলসের ব্যবহার বহুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সাইট প্রিপারেশন: বাড়ির কাজে হাত দেবার আগে যা যা জানা প্রয়োজনকটি ছোট ইট থেকে তিল তিল করে স্বপ্নের বাড়ি তৈরি হওয়ার জন্য এর...
04/10/2020

সাইট প্রিপারেশন: বাড়ির কাজে হাত দেবার আগে যা যা জানা প্রয়োজন

কটি ছোট ইট থেকে তিল তিল করে স্বপ্নের বাড়ি তৈরি হওয়ার জন্য এর নকশা থেকে শুরু করে নির্মাণ কাজের একদম শেষ পর্যন্ত খুঁটিনাটি অনেক কাজ থাকে, আনুষঙ্গিক নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে একটি সুন্দর মজবুত বাড়ি নির্মাণ।

কিন্তু ভবন নির্মাণের আগে আগেই কিছু অতীব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হয়, যেগুলো নির্মাণ বিধিমালার অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে সাইট প্রিপারেশন বা জমি প্রস্তুতির অন্তর্গত কিছু কাজের ধাপ আছে, যেগুলো বাড়ি তৈরির আগেভাগেই করে ফেলতে হয়। আসুন জেনে নিই কী কী কাজ আমাদেরকে করতে হবে, যা সাইট প্রিপারেশন পর্যায়ের অন্তর্গত।

রাস্তার মাপ ও প্রবেশ নির্ধারণ
বাড়ির আশেপাশের রাস্তার মাপের উপর সাইটের সেটব্যাক, দালানের অভিমুখ, প্রবেশপথ নির্ধারণ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ভর করে। জমির সাথে রাস্তার সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে দালানের উচ্চতা, আকৃতি ও দালানের অভিমুখ নির্ধারণ করা হয়। রাস্তার সাথে দালানের সম্পর্ক ঠিক করার জন্য ইমারত নির্মাণ বিধিমালার প্রদত্ত নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হয়। রাস্তার মাপ ও সঠিক প্রবেশপথ নির্ধারণ করার ফলে-

১. আশেপাশের দালানের সাথে দূরত্ব নির্ণয় করা সম্ভব হয়
২. দালানের সেটব্যাক এবং সম্পূর্ণ নকশা প্রণয়ন সহজতর হয়।

সাইটের আশেপাশের অবস্থা
বাড়ি বানানোর সময় আশেপাশের জমি এবং সাইটের পাশের অবস্থা বুঝতে পারা খুব দরকারি, কারণ জমির আশেপাশের মাটির প্রকৃতি, গঠন উপাদান, পানির পরিমাণ, জলাশয়ের অবস্থান ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর নির্ভর করে নকশা প্রণয়ন এবং নির্মাণনীতি স্থির করা হয়। এই সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকলে দালান মজবুত হবে না, সচেতনতার অভাবে জীবন পড়বে ঝুঁকির মধ্যে। তাই নির্মাণ কাজ শুরুর আগে আগেই সাইটের আশেপাশের অবস্থা এবং জমি, পানির ও গাছপালার অবস্থান এসব বিষয়ে সম্যক ধারণা থাকাটা আবশ্যক।

সাইটের আশেপাশের দালানকোঠা
সাধারণত ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী সব জায়গায় সব রকমের দালান নির্মাণ সঠিক নয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, শিল্পকারখানার জন্য নির্ধারিত স্থানে ঘরবাড়ি নির্মাণ অবাঞ্চনীয়। এজন্য দালান নির্মাণের আগে সাইটের আশেপাশে কীরকমের জমির ব্যবহার প্রণালী নির্ধারিত এবং কীরকম দালানকোঠা নির্মাণ আইনত সঠিক, তা আমাদের অবশ্যই জেনে নিতে হবে।

এছাড়াও অ্যাভিয়েশনের জন্য দালানের উচ্চতা একটা হিসাবের বিষয়। সুতরাং কোনো জায়গায় দালান নির্মাণের আগে আগে সেই এলাকার অ্যাভিয়েশন নিয়ম কীরকম তা সঠিকভাবে জেনে নিতে হবে এবং সরকারি ড্যাপ (DAP- Detailed Area Plan) সম্পর্কে আমাদের অবহিত হতে হবে, যাতে পরবর্তীতে আমাদের সমস্যা না হয় দালান নির্মাণে।

ড্যাপে কোন এলাকা কী ধরনের প্রয়োজন মেটানোর জন্য সরকারি নকশার আওতাভুক্ত তা অঙ্কিত থাকে। সুতরাং ড্যাপ, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা এবং অ্যাভিয়েশন নীতি সম্পর্কে জেনে তবেই আমাদের সাইটে দালান নির্মাণ কাজে নিয়ম অনুসারে অগ্রসর হতে হবে।

জমি প্রস্তুতির পর্ব
জমি প্রস্তুতির পর্বে আমাদের আনুষঙ্গিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হয়। সেগুলো হলো-
• মাটির গঠনগত তথ্য জানা
• মাটিতে পানির পরিমাণ জানা
• সঠিকভাবে সার্ভেয়ার দিয়ে জমির মাপ নির্ণয় করা
• জমিতে কোন গাছ কাটতে হবে, কোন গাছ সংরক্ষণ করতে হবে তা নির্ধারণ করে ফেলা
• জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব আছে কিনা তা সঠিকভাবে জেনে নিয়ে নিশ্চিত হওয়া
• রাস্তার সাথে সঠিক সংযোগ নিশ্চিত করা
• ইনফ্রাস্ট্রাকচার লাইন (পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, নর্দমা ইত্যাদি) কোন স্থান দিয়ে গেছে তা জেনে নিয়ে সঠিক ভাবে তা মাথায় নিয়ে নকশা প্রণয়ন করা।

বিশেষজ্ঞ কর্তৃক সঠিক সয়েল টেস্ট জমির মাটির গুণগত মান সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে পারে। একেক প্রকৃতির মাটিতে একেক রকমের নির্মাণ প্রযুক্তি, ফাউন্ডেশন ব্যবহৃত হয়। এজন্য মাটির গুণগত মান এবং মাটির প্রকৃতি জেনে তবেই নির্মাণ কাজে হাত দিতে হয়। মাটিতে পানির পরিমাণ দালানের স্থায়িত্ব নির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পানির পরিমাণ বেশি হলে ড্রেজিং করতে হয় এবং ফাউন্ডেশনের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হয়, বেশি গভীর ফাউন্ডেশন দিতে হলে নির্মাণ সুরক্ষার জন্য রিটেইনিং দেয়াল দিতে হবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুসারে।

দালানের ব্যবহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হলো ইনফ্রাস্ট্রাকচার। সাধারণত মাটির নিচ দিয়ে পানি, গ্যাসের লাইন প্রবাহিত হয়, যেগুলো থেকে সংযোগ প্রদান করে আমাদের বাসা-বাড়িতে এসবের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। এদেশে বিদ্যুতের লাইন বাসা-বাড়ির পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয় মাটির উপর দিয়ে। এসব ইনফ্রাস্ট্রাকচার লাইন যাতে বাড়ি নির্মাণের সময় কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, সেটা আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য এদের অবস্থান আমাদের জানতে হবে দালান নির্মাণের আগে।

সাইটের কাটা মাটির ব্যবস্থাপনা, নির্ধারিত গাছ কিংবা জলাশয়ের সুবন্দোবস্ত করার পরেই সাইটের কাজে হাত দেওয়া সম্ভবপর হয়। এতসব কিছু করার জন্য উপযুক্ত স্থপতি, বিশেষজ্ঞ এবং প্রকৌশলীর পরামর্শ গ্রহণ একান্ত আবশ্যক। তাদের পারদর্শিতা, দূরদৃষ্টি এবং বিশেষজ্ঞ অভিমতের দ্বারাই আমরা নির্ঝঞ্ঝাট, সুন্দর এবং মজবুত দালান নির্মাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারি এবং ঝামেলামুক্তভাবে সাইটে দালানের নির্মাণকাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারি।

Address

563/1 Monipur, Mirpur-2, Dhaka
Mirpur
1216

Opening Hours

Monday 09:00 - 18:00
Tuesday 09:00 - 18:00
Wednesday 09:00 - 18:00
Thursday 09:00 - 06:00
Saturday 09:00 - 18:00
Sunday 09:00 - 18:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Complete Building Solutions posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share