12/05/2023
Very Severe Cyclone "Mokha" Alert: (অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার সতর্কতা)
যারা ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত নন তারা ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে চিন্তাই করতে পারবেন না। তাই একেবারে উপকূলের খুব কাছাকাছি যারা বসবাস করছেন তাদের সতর্ক হওয়া জরুরি।
উপকূলীয় সবাইকে বিনীত অনুরোধ করা যাচ্ছে যে, কর্তনযোগ্য ধান এবং অন্যান্য ফসল আজ ১২ই মে এর ভিতর সংগ্রহ করুন। অন্যথায় ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন (খুলনা বিভাগের উত্তরের জেলাসমূহ পূর্বাভাসের বাইরে রয়েছে আপাতত)।
ঘূর্ণিঝড় "মোখা: খুলনা ও সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলা সমূহের (পাইকগাছা, কয়রা, দাকোপ, শ্যামনগর, আশাশুনি) দক্ষিণের যেসকল ইউনিয়ন বঙ্গোপসাগর লাগোয়া এবং নদী বেষ্টিত (সোলাদানা, দক্ষিণ বেদকাশি, গাবুরা, পদ্মপুকুর), তাদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ঘূর্ণিঝড়টি আগামী আজ ১২ই মে নাগাদ দক্ষিণ মধ্যে বঙ্গোপসাগর এলাকায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখায় পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যেটি পরবর্তীতে আরো শক্তিশালী হওয়ার জন্য বর্তমানে সাগরে সমস্ত পরিস্থিতি (SST, MJO, Wind Shear) ভয়ানক অনুকূল রয়েছে বলে IMD সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থা বলছে।
সম্ভাব্য আঘাতস্থল: ১৪ই মে বিকাল থেকে সন্ধ্যা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের বরিশাল থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের যেকোন স্থান দিয়ে উপকূল অতিক্রম করার প্রবল সম্ভাবনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মূলত ঘূর্ণিঝড় আঘাত আনার ৩ থেকে ৬ ঘন্টা পূর্বেও এটি দিক পরিবর্তন করতে পারে তাই ঘূর্ণিঝড় আঘাত আনার পূর্ব পর্যন্ত সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। তাই সবাই নিয়মিত আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বুলেটিনের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন। বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী চট্রগাম বিভাগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে (১৯৯১ এর স্মৃতি ফিরে আসার সম্ভাবনা প্রবল)। রোহিঙ্গারাও ব্যাপক দুর্যোগের সন্মুখীন হতে যাচ্ছে।
মোখা/মোকার গতিবেগ: সম্ভাব্য ঘূর্নিঝড় যদি অনুকূল পরিবেশ পায়, তাহলে এটি ক্যাটাগরি-৪ (209-251Km/h) কিংবা ৫ (252+km/h) হওয়ার ও সম্ভাবনা নির্দেশ করছে আবহাওয়ার বিভিন্ন গাণিতিক মডেল। তবে আঘাত আনার সময় এটি ক্যাটাগরি ৩ (178-208 Km/h) হিসেবে আঘাত করার সম্ভাবনা প্রবল।
খুলনা ও সাতক্ষীরার দক্ষিণ উপকূলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি: সরাসরি ঘূর্ণিঝড় আঘাত না আনলেও কিছুটা দমকা হাওয়া ও মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে খুলনা ও সাতক্ষীরার দক্ষিণ উপকূলে । ঝড় যদি পূর্ণ জোয়ারে আঘাত আনে তাহলে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং অনেক এলাকা প্লাবিত হতে পারে।
সতর্কতা: ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতিই পারে এর ক্ষয়ক্ষতি কমাতে। তাই সবাইকে নিন্মোক্ত সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ করা হচ্ছে।
১। অতিদ্রুত ঝুকিপূর্ণ বেড়ীবাঁধ মেরামত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।.
২। ঝুকিপূর্ণ মাছের ঘের রয়েছে তারা দুর্বল অংশ মেরামত করুন, নেটজালসহ সবকিছু প্রস্তুত রাখুন।
৩। ঘরের আশেপাশে উচু গাছ থাকলে সেগুলোর ডালপালা কেটে রাখুন। ৪। পর্যাপ্ত শুখনো খাবার মজুত করুন।
৫। টর্চ কিংবা চার্জার লাইট কিনে রাখুন।
৬। নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্র সম্পর্কে খোজখবর রাখুন।
৭। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার দ্রুততম রাস্তা ঠিক করে রাখুন।
স্বার্থপর না হয়ে ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কিত সকল খবর এলাকার সকলের মাঝে বেশি বেশি প্রচার করুন। আজ থেকে ঘূর্ণিঝড় উপকূল অতিক্রম না করা পর্যন্ত আপডেট দেওয়া হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: বিভিন্ন মিডিয়া (IMD, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, BOWT সহ আরো অনেকে) ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কিত খবর সব সময় প্রচার করছে, ফেসবুকসহ অনলাইন মিডিয়ায় সেগুলো লক্ষ্য রাখুন।
উপকূলীয় সবাইকে আইলা, সিডর, ফণী, মহাসেন, ইয়াস, রোয়ানু এবং আমফানের ভয়ানক স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়ায়। অনেক স্বচ্ছল পরিবার রাতারাতি দরিদ্রসীমার নিচে চলে যেতে দেখেছি। তাই ঘূর্ণিঝড়টি যেকোনো উপকূল অতিক্রম না করা পর্যন্ত সকল সাবধানতা অবলম্বন করুন।
IMD: India Meteorological Department
SST: Sea Surface Temperature
MJO: Madden–Julian oscillation
Thanks
Tarik Aziz
PhD Researcher
Institute of Bangladesh Studies (IBS), University of Rajshahi
Former Student, Department of Social Work, University of Rajshahi