05/12/2019
এপার্টমেন্ট কেনার আগের সতর্কতা
।
এপার্টমেন্ট কিনে কত ভাগ মানুষ প্রতারিত হয়? কোন পরিসংখ্যান ছাড়াই বলা যায় বেশিরভাগ মানুষ কম বা বেশি প্রতারিত হয়। অনেকে সর্বস্বান্ত হয়। একটা গোছানো পরিবার কীভাবে প্রতারিত হয়ে ধ্বংশ হয়ে যায় তা নিজের চোখে দেখেছি। আমি নিজে এই সেক্টরের লোকদের সাথে পচিশ বছর ধরে কাজ করছি, অথচ আমি নিজেও প্রতারিত হয়েছি। আবার এদেরই এক কোম্পানি থেকে ফ্লাট কিনে সেখানে ভালভাবে বসবাস করতে পারছি। সুতরাং ভাল এবং মন্দ দুইই আছে। আপনাকে কোটি টাকা হারানোর ঝুকি নেওয়ার আগে কিছুটা সাবধান থাকতেই হবে।
আর্কিটেক্ট হিসাবে আমার নানা ক্লায়েন্টদের এ ব্যাপারে কিছু পরামর্শ আমাকে নিয়মিত দিতে হয়। তার মধ্যে কিছু বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর আজ লিখে ফেললাম।
প্রশ্ন১ঃ এপার্টমেন্ট কেনা কি উচিত/লাভজনক/ ভাল ইনভেস্টমেন্ট?
উওরঃ না। এর চেয়ে এফডিআর/ জমি কেনা/ ব্যাবসা করা ভাল। তবে যারা এগুলো করা ঝামেলা মনে করে তাদের জন্য এপার্টমেন্ট কেনা কিছুটা নিশ্চিত/সুবিধাজনক অপশন।
।
প্রশ্ন ২ঃ কোন এলাকায় কিনব?
উত্তরঃ যে এলাকায় আপনি অনেকদিন থেকেছেন, আপনার আত্মীয় স্বজন থাকে, আপনার পরিবারের সদস্যদের অফিস ও স্কুল কাছে হয়, ইত্যাদি।
নতুন মেট্রোরেল হচ্ছে, সেটার যে কোন স্টেশনের কাছে কিনতে পারেন।
মেইন রোডের উপরে কিনবেন না, শব্দে কোন সময় শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন না। আসে পাশে স্কুল, হাসপাতাল, ফ্যাক্টরি, মার্কেট থাকলে সেখানে কিনবেন না।
আবার এমন সরু গলিতে কিনবেন না যে ইমার্জেন্সিতে এম্বুলেন্স ঢুকতে সমস্যা হয়।
।
প্রশ্ন ৩ঃ কত সাইজের, কত তলায়, কোন দিকের, কেমন ফ্লাট কিনব?
উত্তরঃ সামর্থ অনুযায়ী যথাসম্ভব বড় সাইজ কিনতে হবে। ঢাকার নীচের তলা গুলোতে অনেক অসুবিধা। যেমনঃ ধুলা, মশা, রোগ-জীবানু, অন্ধকার, বাতাস নাই, চুরি, শব্দ, গন্ধ, ইত্যাদি বেশি। তাই উপরের ফ্লাট ভাল। একেবারে টপ ফ্লোরটা গরম হয়, ওটা বাদ দিলে ভাল। ফ্লাট দক্ষিন বা পূর্ব মুখী হলে ভাল। উত্তর মুখী নিলে কখনো রোদ আসবে না। রোগ বালাই লেগে থাকবে।
।
প্রশ্ন ৪ঃ কোন কোম্পানির কাছ থেকে কিনব?
উত্তরঃ এক্ষেত্রে খুব সাবধান! কম দামের কারনে নাম পরিচয়হীন কোম্পানির কাছে যাবেন না। দশ লাখ টাকা বাচাতে যেতে কোটি টাকা হারানোর সমূহ সম্ভাবনা আছে। যে কোম্পানির থেকে কিনবেন তাদের সদ্য সমাপ্ত অন্তত তিনটা প্রজেক্ট ভিজিট করবেন। সেখানকার বসবাসকারীদের সাথে নিজে কথা বলবেন। তারা যদি আপনাকে উতসাহ দেয় তবেই কিনবেন। মনে রাখবেন, ভাল কোম্পনী দাম বেশি নেয়, ভূয়া কোম্পানি সবচেয়ে কমদামে অফার করবে।
।
প্রশ্ন ৫ঃ বিল্ডিং এর গুনগত মান কেনার আগে কিভাবে যাচাই করব?
উত্তরঃ বিল্ডিং এর সব ধরনের ড্রইং এর এক সেট ফটোকপি চাইবেন। এগুলোকে 'ওয়ার্কিং ড্রইং ' বলে। এই সেট নিয়ে আপনার পরিচিত বা বিশ্বস্ত কোন স্থপতি এবং প্রকৌশলীর কাছে দেখিয়ে নেবেন।? মনে রাখবেন সব বিল্ডিং বাইরে থেকে দেখতে একই হলেও কোন কোন বিল্ডিং অত্যন্ত নিম্ন মান করে অর্ধেক খরচে বানানো হয়। এসব বিল্ডিং এ থাকা অস্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ নয়।
।
প্রশ্ন ৬ঃ কী কী কাগজ চেক করতে হবে?
রাজউক এর প্লান পাশের একটা কপি নিয়ে রাজউকে যাবেন, সেটা জাল কি না পরীক্ষা করার জন্য । সেটা ঠিক থাকলে ধরে নেওয়া যায় বাকি দলিল পত্র, খাজনা, মিউটেশন মোটামুটি ঠিক আছে। এবারে রাজউকে পাশ করা ড্রইং এ আপনার ফ্লাটটা একই ভাবে আকা আছে কি না সেটা কোন আর্কিটেক্টকে দিয়ে দেখিয়ে নেবেন। তাছাড়া এই ফ্লাট আর কারো কাছে বিক্রি হয়েছে কি না বা ব্যাংকের কাছে বন্ধক দেওয়া আছে কি না সেটা খোজ নিতে হবে। জমির মালিকের সাথে চুক্তি-পত্রটাও দেখতে হবে।
।
প্রশ্ন ৭ঃ কেনার পরে বিল্ডিংটা নিয়ম মেনে, কোয়ালিটি ঠিক রেখে, নিরাপদ ভাবে বানানো হচ্ছে কি না এটা বোঝার উপায় কি?
উত্তরঃ আপনাকে অথবা আপনার নিয়োগ কৃত কোন কন্সাল্ট্যান্ট ফার্মের প্রতিনিধি নির্মান চলাকালীন সময়ে বছরে পাচ থেকে দশটা ভিজিট দিলে কোয়ালিটি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। প্রয়োজনে কিছু টেস্ট করার প্রয়োজন হতে পারে।
এপার্টমেন্ট অনেক টাকার ব্যাপার। হূট করে সিদ্ধান্ত নেবেন না। কিছুটা সময় নিয়ে যাচাই করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন।
(চলবে)
#স্থাপত্য_চিন্তা