24/05/2026
না মানে ,তাহলে কি এখন রামিসার হত্যাকারীর বিচার না চেয়ে তার বাপের বিচার চাইতে হবে? এই লোকটা তার মেয়েকে হারানোর পর একটা মিনিট পেয়েছে শোকের জন্য? শত শত ক্যামেরা সে জীবনে ফেস করেনি, তার উপর ভাংতি সেন্টের আশায় মোবাইল সাংবাদিক , টিকটকার , ইউটিউবার ও ভ্লগার পর্যন্ত উনার পিছু ছাড়ছেনা। একজন ঠেলে নিয়ে বললেন, এই যে উনারা সবাই আপনার রামিসা। আর উনিও আপ্লুত হয়ে ছোট মেয়েটার গালে আদর করে বসলেন,আরেকটা মেয়ের গালে গাল লাগালেন,এরপর বুঝা গেলো আসলে সবাই রামিসা না। উনার লিমিট ক্রস করা ঠিক হয়নি কিন্তু আপনি কি বুঝতে পারছেন এই লোকটা তার আদরের মেয়ের দ্বিখণ্ডিত দেহ দেখেছে যার মাথা আরেকজনের হাতে ছিলো। আপনারা তো তাকে কোন স্পেস ই দেন নাই গ্রীফের জন্য। সে তো এসব দেখে অভ্যস্ত না।
গ্রিফ স্বাভাবিক মানবিক প্রতিক্রিয়া। সবাই একইভাবে এটি অনুভব করে না, আর এর নির্দিষ্ট সময়সীমাও নেই।
মনোবিজ্ঞানে গ্রিফের কয়েকটি সাধারণ ধাপ নিয়ে কথা বলা হয়:
1. অস্বীকার (Denial)
2. রাগ (Anger)
3. দরকষাকষি/মনে মনে সমঝোতা খোঁজা (Bargaining)
4. বিষণ্ণতা (Depression)
5. মেনে নেওয়া (Acceptance)
কেউ কেউ তো এটুক দেখে বলে ফেলছেন, উনার বাবা জড়িত থাকতে পারে। আবার কেউ কেউ বলছেন উনার কোন কৃতকর্মের ফল নয় তো রামিসা হত্যা!!
মানে কোন লেভেলের ইতর আপনারা। মূল পয়েন্ট কে ফোকাস না করে ভিন্ন পয়েন্টে চলে যাচ্ছেন,আপনার আলোচনার বিষয় কিন্তু এটা না এখন।
কেউ কেউ বলছেন, টাকা পেয়ে উনি হাসছেন।আচ্ছা ,উনার কি টাকা পেয়ে রেগে যাওয়া উচিত ছিলো? ফেসবুকে এসি রুমে বসে বসে লিখা সহজ, সত্যিকার অর্থে উনার এখন টাকা প্রয়োজন। টাকা ছাড়া কেউ কাজ করেনা ক্যামেরার আড়ালে। দুদিন পর এমনিতেও তাদের আর কেউ ডাকবেনা,কিন্তু এটা লম্বা জার্ণি। সো বিপদের দিনে কেউ যদি টাকা দেয় ও সে তো একটা কৃতজ্ঞতার হাসি দিতেই পারে তাইনা? সে তো বলেনাই যে বিচার লাগবেনা,সে বার বার ই বলছে শুধু রামিসার না দেশে যেন এটার আর পুনরাবৃত্তি না হয়।
কেউ কেউ বলছেন সে কাদছেনা কেন। ভাই সে এখনো denial phase এ। আমার ছোট বোনের বাচ্চা মারা যাওয়ার পর আমি দেখেছি সে নিজে কিভাবে জোরে জোরে কালিমা পড়েছে, বাচ্চাকে গোসল করিয়েছে চোখে এক ফোটা পানি ফেলা ছাড়া অথচ আমি এত জোড়ে কাদছি যে আমার কান্না শুনে আশেপাশের দূর দূরান্তের মানুষ বাড়ি চলে এসেছিলো , তার মানে কি মায়ের চেয়ে আমার শোক বেশি ছিলো?
আমার আব্বা লাইফ সাপোর্টে আমার সামনে যখন কোমায় চলে যায় , সিপিয়ার , ডিফিব্রিলেশন , ভেন্টিলেশন সব দেখে বের হয়ে অনেক কেঁদে লোক জড়ো করে ফেলেছি কিন্তু মারা যাওয়ার পর আমার এক ফোটা পানি চোখে আসেনি। একদম মাথা এমন লাগছিলো মনে হচ্ছিলো যেন আমি অন্য এক জগতে। আমি শুধু খেতে চেয়েছি, আমার চোয়াল লেগে যাচ্ছিলো , শক্ত হয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু আমি কাঁদতে পারিনাই। আমার ছোট মামা আর মামী আমাকে জড়ায় ধরতেছিলো বলতেছিলো অনেক কিছু যাতে আমি কাঁদি। কিন্তু আমার কোন কান্না আসেনি।
আমার আব্বা মারা যাওয়ার পর আমি আমার ফুপুকে পাগলের মত জড়ায় ধরে রাখছি কারন আমার আব্বার সাথে ফুপুর চেহারার অনেক মিল।
তার মানে কি আমার শোক নেই? কান্না এসেছিলো পরে, এবং সবাই চলে যাওয়ার পর প্রসেস করতে পেরেছিলাম যে আব্বা মারা গেছে ,এরপর সেই উইকে ৩ বার হসপিটালাইজড হই। এরপর থেকে এমন কোন দিন নাই আমি আব্বার জন্য কাঁদিনি। ৮ মাস হয়ে গেছে আব্বা নাই, এখন আমি acceptance phase এ।
আব্বা মারা যাওয়ার পর প্রথম ঈদ ছিলো গত রোযার ঈদ। আব্বার জন্য প্রতি ঈদে পাঞ্জাবি কিনতাম,সেবার ও কিনেছি। আব্বার এক বন্ধুর কাছে পাঞ্জাবি নিয়ে গিয়েছি, অনেকটা আব্বার মতই কথাবার্তা উনার। উনার কাছে যতক্ষণ বসেছি ট্রাস্ট মী আমার এত ইচ্ছা করছিলো উনি যদি আমাকে একটু জড়ায় ধরতো, উঠব উঠব করেও উঠতেছিলাম না এই আশায়, উনি যদি আমাকে একটু বুকে নিতো। আমাদের একজন কাকা বেচে আছেন , আব্বার চাচাতো ভাই। উনাকেও আমি একটি পাঞ্জাবি গিফট করি, শুধু এটা ভেবে যে , কাকা পড়বেন, আব্বার মত লাগবে। সেখানেও দিয়ে আমি অসহায়ের মত তাকিয়ে ছিলাম ,ইশ যদি আমার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিতো কিংবা যদি একটু বুকে টেনে নিতো। ইয়াতিমের শোক অন্যরকম। এজন্যই বোধ হয় তাদের মাথায় হাত বুলালে এত সওয়াব। রামিসার বাবা এখন ইয়াতিমের মত। সে হয়তবা রামিসার স্পর্শ খুঁজছে। কিন্তু সে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারেনাই। উনাকে এটা বুঝার মতো স্পেস ই দেয়া হয়নি।
অতিরিক্ত ক্যামেরা, সারাদেশে আলোচনা , এত এত মহড়ায় উনি এখনো বুঝতেই পারছেন না হয়তো তিনি কি হারিয়েছেন। জাস্ট ১ টা উইক সময় দিন উনাকে , আমি ভয় পাচ্ছি না জানি উনি পাগল হয়ে যায়।
একবার ভাবুন তো আপনার আদরের সন্তান যাকে সকালেও প্রফুল্ল দেখলেন তার মাথা একজন ধরে আছে ,আর নগ্ন বডি নিচে পরে আছে! মানে লিটারেলি কুরবানীর গরুর চাইতেও বেশি ছিলো বিষয়টা। কুরবানীর গরুর ও মাথা এভাবে বিচ্ছিন্ন হতে দেখিনি আমি।উনি সেই বাবা , উনাকে বিষয়গুলো প্রসেস করতে দিন। সব কিছু এত দ্রুত জাজ করিয়েন না। এই সিচুয়েশনে কোন নরাধমের ও ব্যাড টাচ মাথায় আসার কথা না।
উনাকে কয়টা দিন রেহাই দেন। ক্যামেরাটা বন্ধ করেন দয়া করে।
এ পর্যন্ত উনার ব্যক্তিগত পরিচিত যত জনের সাথে কথা বলেছি সবাই বললেন উনি আগাগোড়া নিপাট ভদ্রলোক। উপর ওয়ালা ভালো জানেন বাট এই মূহুর্তে উনাকে একটু একা থাকতে দেন।
- pure promise by noor