20/08/2026
আমেরিকা প্রথমে ইরানের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোর উদ্দেশ্যে কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধ ও প্ররোচনামূলক চাপ প্রয়োগ করলেও যখন দেখতে পায় যে তেহরানের সরকার ও রাজনৈতিক কাঠামো অভ্যন্তরীণভাবে ভেঙে পড়ছে না কিংবা শাসন ব্যবস্থা ভাঙা সম্ভব নয়, তখন তারা সরাসরি সামরিক আগ্রাসন ও বিমান হামলার পথ বেছে নেয়। কিন্তু এই সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল আনতে সফল হয়নি, কারণ ইরানের শক্তিশালী ভূগর্ভস্থ সামরিক অবকাঠামো, ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্কগুলো মার্কিন ও ইসরায়েলি আক্রমণ সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।
এই অচলাবস্থা কাটাতে আমেরিকা বাধ্য হয়ে যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে বারবার নেগোসিয়েশন বা আলোচনা টেবলে বসতে বাধ্য হলেও, দুই পক্ষের শর্তের অমিল এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে সেই কূটনীতি বারবার ভেস্তে গেছে। ফলে দফায় দফায় হামলা এবং পাল্টা অবরোধের পরেও ইরান তার কৌশলগত অবস্থান ধরে রেখে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে আমেরিকার এই বহুমাত্রিক চাপকে মোকাবিলা করে টিকে রয়েছে। শুধু তাই নয় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত আমেরিকার ঘাঁটিগুলোকে
বারবার অথচ অত্যন্ত নিখুঁত হামলা চালিয়ে কার্যত অচল করে ফেলে। যদিও উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের ভূখণ্ডে হামলায় বারবার বলে আসছে যে তারা আমেরিকাকে কোনো সহযোগিতা করছে না তারপরও কেন ইরান তাদের ভূখন্ডে আঘাত হানছে। জবাবে ইরান জানায়, কোনো স্বাগতিক দেশের অনুমতি ছাড়া আমেরিকার রিফুয়েলিং বিমান কিংবা সামরিক বিমান অবস্থান করা সম্ভব নয়। তাই উপসাগরীয় দেশ বিশেষ করে ইউএই, সৌদি আরব, কাতার যতই মুখে মুখে বলুক তারা সহযোগিতা করছে না তা কার্যত ধোপে টিকবে না। আর ইরান এখন আর কেবল মাত্র রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে যুদ্ধ করছে না বরং তারা আগের থেকে আরও বেশি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। তাই তো আমেরিকা কে এখন ইউরোপের ঘাঁটি ব্যবহার করে আক্রমণ করার কথা ভাবতে হচ্ছে। ইরানও এখন আর ছেড়ে কথা বলছে না। তারা সরাসরি বলে দিয়েছে যদি ইউরোপে অবস্থিত বুলগেরিয়া ও সাইপ্রাস থেকে কোনো হামলা চালানো হয় তাহলে ওইসব দেশের ঘাঁটিগুলো ও গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।
সুতরাং, বুঝাই যাচ্ছে ইরান এখন আর নমনীয় অবস্থানে নেই বরং তারা এখন মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার আর কোনো মোড়লগিরি দেখতে চায় না। যার ফলশ্রুতিতে, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সমন্বিত সামরিক চুক্তিতেও ইরানকে কোনো বিচলিত হতে দেখা যায় নি। যদিও আমেরিকা ও ইসরায়েল চেয়েছিল ইরান এ বিষয়ে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। তবে ইরান সম্ভবত এ চাল ধরে ফেলতে পেরেছে বরঞ্চ এই চুক্তি এখন ইসরায়েলের মাথা ব্যথার কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে, যদিও এটা কাগুজে চুক্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে কিনা তা এখন দেখার বিষয়। এই বিষয়ে একটা জিনিস স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, ইরান সামরিক উপস্থিতির পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক উপস্থিতিতেও অনেক এগিয়েছে।
এই পুরো সংকটে এটি স্পষ্ট যে, ইরান সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও কৌশলগতভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে এবং উপসাগরীয় প্রতিটি মার্কিন মিত্র দেশের গভীরে আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শন করে ইরান প্রমাণ করেছে যে, বহুমুখী আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ থাকা সত্ত্বেও তারা মধ্যপ্রাচ্যের একটি অপ্রতিরোধ্য আঞ্চলিক শক্তি। অন্যদিকে, উপসাগরীয় ছোট ও মাঝারি দেশগুলো (যেমন ইউএই বা সৌদি আরব) বুঝতে পেরেছে যে ইরানের সাথে সরাসরি সংঘাতে জড়ানো তাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বড় আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, যা তাদের এক ধরণের কৌশলগত চাপে রেখেছে।
#হরমুজ_প্রণালি #ইরান_ইসরায়েল #ইরান_আমেরিকা #যুদ্ধ