03/06/2020
আমেরিকার একটি স্টুডেন্ট জার্নালে সব’চে কঠিন স্নাতক বিষয়সমূহের লিস্ট প্রকাশিত হয়েছে, স্থাপত্যকলার স্থাণ প্রথমে । এই জানার্লটি সার্ভে করেছিলো মূলত একজন ছাত্রের কোন বিষয়টিতে নাম্বার তুলতে সর্বোচ্চ মেধা শ্রম দিতে হয় , সে কতো সময় পড়াশুনার পেছনে ব্যয় করে , তার পড়াশোনার সময়কাল ইত্যাদি ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে ।
স্থাপত্যকলায় পাঁচ বছরের মানসিক শারীরিক পরিশ্রম যে পরিমাণ করানো হয় , তা যারা এ বিষয়ে স্নাতক করেন তারা যেমন জানেন তাদের পরিবারও জানেন । ওই পাঁচ বছরের হিসাব করলে দেখা যাবে টানা তিন বছর আমাদের ঘুম হয়নি , কতো দিন গেছে কাজ করতে করতে ভোরের আলো ফুটে গেছে , টলতে টলতে ক্লাস করেছি , প্রিলি করেছি । সকাল ৮.৩০ তে থিউরি ক্লাস ছিলো , এটেন্ডেন্স না থাকলে পরীক্ষা দিতে দিতো না ; আর ডিজাইন গ্রাফিক্স ভারী কোর্সগুলোর কথা তোলা থাক , সেসব লিখতে গেলে লেখা শেষ হবেনা ।
এখন কাজ করতে এসে অবাক লাগে ।কাজ করতে বসলে ঘাড়ের উপর ক্লায়েন্ট দাড়ায় থাকে , ভাব এমন , সব মাথায় রেডি !
লোকে বলে ডিজাইন দেন , এতো সময় লাগে !
ডিজাইন দেন , ক্যাডেই তো টানবেন !
ডিজাইন দেন , এই ১০০০ স্কয়ার ফিট এতো পয়সা চান কেন !
আরে ম্যাডাম ! আপনি থামেন ! আমি ডিজাইন দেই ( একটা পেন্সিল দিয়ে নিজের মতো প্লান একে ) এম্নে ক্যাডে করেন ।
ডিজাইন দেন , বাইরের দেয়ালে টাইলস দিবেন , ভিতরের বাথরুমে প্যান কমোড একলগে দিবেন ।
ডিজাইন দেন , ১২০০ স্কয়ার ফিটে চার বেডরুম ড্রয়িং ডাইনিং প্রেয়ার কিচেন সারভেন্টস টয়লেট সব দেন ।
আচ্ছা , আর্কিটেক্ট তো পাশে নাই , ছবি তুলে নেই প্লানের , বাকিগুলো রাজমিস্ত্রী বুইঝা কইরা ফালাবে ।
আপ্নে আমার কথামতো বাউন্ডারি ঘেইষা কেন বাড়ির নকশা করলেন না ? আলো না আসলে না আসুক ! পাশের বাড়ি চাপায় বাড়ি করবো , আমার ঘরে বাতি জ্বালায় রাখমু ; ম্যাডাম ঘর বড় কইরা করেন ।
ম্যাডাম , বারান্দাটা আরেকটু ক্যান্টিলিভার করেন , রাস্তায় পড়লে পড়ছে , কেউ বুঝবোনা । আচ্ছা থাক , ( মনে মনে ) আমিই মিস্ত্রীরের বইলা বাড়ায় ফালামু ।
ম্যাডাম সিড়ির ল্যান্ডিং এ এতো জায়গা লাগবোনা , ল্যান্ডিং এ আমরা তো কিছু করিনা , চাপায় দেন ।
😌😌😌
এতো ছোট্ট ডিজাইনে এতো ট্যাকা !
ধুর !!! লাগবোনা ডিজাইন , সিভিলের কাছে যাই ; স্ট্রাকচারসহ ডিজাইন কম দামে দিবো !!!
আরে , আর্কিটেক্ট লাগে নাকি ! ডিপ্লোমা আর্কিটেক্ট আছে তো !!! তারা অনেক ভালো কাজ পারে ! অনেক অভিজ্ঞ , কম পয়সায় ভালো নকশা দেয় , আবার আমার কথামতো সব বদলায়ও দেয় , আর্কিটেক্টদের মতো জেদ করেনা ।
এই হইলো কঠিন সাবজেক্টে পড়ে তালিকায় প্রথম হয়ে অবস্থা । বাংলাদেশে স্থপতিদের কাজ করার জায়গাটা খুব কম , মাজহারুল ইসলাম স্যার সাধে শুধু অভিমানেই কাজের পরিধি কমাননি , এখন বুঝি এইসব পাকনামি যতোদিন না কমবে ততোদিন আর্কিটেক্টরা মনের মতো কাজ করতে পারবনেই না ।
আপনারা যারা নিজের বিষয়কে খুব কঠিন বলেছিলেন , তারা মিলিয়ে দেখেন কতো নাম্বারে আছেন ।