urmi jahan

urmi jahan Assalamualikum�

04/11/2024

#সম্পর্কের_মারপ্যাঁচ
#পর্ব-৩


রুদ্র জানালার কাছে গিয়ে দেখলো শুমন দাড়িয়ে আছে।শুমনকে দেখে রুদ্রের রাগ আসমানে। সে কোনোরকম নিজেকে শান্ত করে,
"তুই এখানে কি করছিস? " রুদ্র শুমনকে জিজ্ঞেস করলো।

শুমন কিছু বলার আগেই প্রভাতি বলে উঠলো,
"ভাইয়া দেখোনা শুমন ভাইয়া আমাকে এই চকলেট দিয়ে বলছে সে আমাকে ভালোবাসে।"

প্রভাতি এমন করে সব বলে দিবে শুমনের মাথায়ও আসেনি।
" তো তুমি কি বললে প্রভাতি?"
"আমি বলেছি এগুলো খারাপ কথা।এগুলা বলতে নেই।চাচি বলেছে।"

এবার সবাইকে অবাক করে দিয়ে রুদ্র হেসে ফেললো।তার পেট ফেটে হাসি আসছে।এই মেয়ে এতো বাচ্চা কেনো।
"আচ্ছা তুই মায়ের রুমে যা দেখ রিয়ে এসেছে।" রুদ্র হেসে বললো।

প্রভাতি নাচতে নাচতে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো।

"তুই যদি আর প্রভাতির আশেপাশে ঘুরেছিস তাহলে তোর হাত পা ভেঙে নদীতে ভাসিয়ে দিবো।" দাঁতে দাঁত চেপে বললো রুদ্র।

শুমন কিছু না বলে সেখান থেকে চলে গেলো।

প্রভাতির যেয়ে রিয়াকে জড়িয়ে ধরলো।

"আপু তোমাকে আমি কত মিস করেছি জানো?"
"আরে আমার পিচ্চিটা। "
তখনি রুদ্র রিয়ার মাথায় একটা বাড়ি দিলো।
"এহহ নিজে এক পিচ্চি আবার আরেকজনকে পিচ্চি বলে।ভাব এমন বুড়ি হয়ে গিয়েছে।"

"উফ ভাইয়া তুমি না।দেখো খালামনি তোমার ছেলে আমার সাথে সবসময় এমন করে।"

" এই একদম জ্বালাবি না আমার রাজকুমারীকে।" রুবি বেগম বললেন।

তিথি চুপ করে দাড়িয়ে আছে।
হঠাৎ রিয়া বলে উঠলো,
"আরে ওর সাথে তো তোমাদের পরিচয়ই করাইনি।ও তিথি আমার বেস্টু।আমরা সামনাসামনি বিল্ডিংয়ে থাকি।"

তিথি রুদ্রের মাকে সালাম দিলো।
রুবি বেগমের বেশ পছন্দ হলো তিথিকে।সে তাকে ডাক দিয়ে বুকে জড়িয়ে নিলেন।

প্রভাতির একটু খারাপ লাগলো।কেননা তার চাচি তাকে তো কোনোদিন এভাবে জড়িয়ে ধরেননি।অথচ চিনে না জানে না আর এই মেয়েকে এতো আদর।

"আচ্ছা তোরা সবাই ডায়নিংয়ে গিয়ে বস আমি খাবার দিচ্ছি।"

খাওয়ার টেবিলে বসতে গিয়ে দেখে রুদ্র, তিথির পাশের চেয়ারটা খালি শুধু।তার এতো খুদা লেগেছে যে এতো কিছু না ভেবেই সেখানে যেয়ে বসে পরলো খেতে।

তিথি তো খুশিতে আকাশে উড়ছে।এমনকি খেতে খতে টুকটাক কথাও বলছে রুদ্র তিথির সাথে।

রুবি বেগম খাওয়া রেখে তিথি আর রুদ্রের দিকে এক মনে তাকিয়ে আছে।
"ইস এমন একটা ছেলের বউ পেলে মন্দ হতো না।" ভাবতেই তার ভালো লাগছে।

রিয়ার মায়ের চোখ এড়ালো না ব্যাপারটা।

খাওয়া দাওয়া শেষ করে যে যার যার রুমে চলে গেলো।

রিয়া, তিথি প্রভাতির রুমে গেলো রেস্ট নিতে।রুদ্রও নিজের রুমে যেয়ে শুয়ে পরলো।

রুবি বেগম এবং রিয়ার মা আয়শা বেগম গল্প করছেন।

"শুন আমার না তিথিকে খুব পছন্দ হয়েছে রে।রুদ্রের সাথে বেশ মানাবে তাইনা বল।"
"বুবু তোমার ঘরে মেয়ে থাকতে তুমি বাহিরে কেনো দেখছো?"
"তুই কি সব ভুলে গিয়েছিস নাকি? ওকে আমার ছেলের বউ আমি কোনোদিন করবোনা।"

"আমি কিছু ভুলিনাই বুবু।কিন্তু প্রভাতি অনেক ভালো মেয়ে।আর দেখতেও তো মাশাল্লাহ। বড় হলে তো ও তিথির থেকেও সুন্দর হবে।"

"আমি এই ব্যাপারে তোর সাথে আর কথা বলতে চাইনা।বলেই রুবি বেগম ওপাশ হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লেন।"

"বুবু তুমি কবে সব ভুলতে পারবে?আর কতো।" মনে মনে বললেন আয়শা বেগম।

বিকেল দিকে তিথি রিয়া প্রভাতিকে নিয়ে ঘুরতে বেরুলো রুদ্র।তিথি রুদ্রের আশেপাশে থাকার প্রাণপন চেষ্টা করছে।রুদ্র এটা বুঝেও পাত্তা দিচ্ছে না।আর প্রভাতি সে তো রিয়ার সাথেই ব্যাস্ত। রুদ্রের দিকে তাকানোর সময় আছে নাকি তার।

রুদ্র প্রভাতির কাছে যেয়ে প্রভাতির চুল টেনে ধরলো।
"আহ ভাইয়া ব্যাথা পাচ্ছি তো।"

"আহা আমার পিচ্চিটা ব্যাথা পাচ্ছে।" রুদ্র আহ্লাদী গলায় বললো।

প্রভাতিব রাগি লুক নিয়ে রুদ্রের দিকে তাকালো।তাদের এমন খুনশুটি দেখে রিয়ার খুব মজা লাগছে।কিন্তু তিথি তা দেখে জ্বলে পুড়ে মরছে।

"দেখ তিথি ওদের দুজনকে একসাথে কত সুন্দর লাগে তাইনা?" রিয়া বললো।

এটা শুনে তিথি চটে গেলো।

"মোটেও না।রুদ্রের জন্য ঢাকার স্মার্ট মেয়ে দরকার।এমিন গ্রামের গাইয়া খ্যাত না।"

রিয়ার মেজাজ প্রচন্ড খারাপ হয়ে গেলো তিথির কথা শুনে।

"এগুলো কোন ধরনের কথা।আর তুই এভাবে বলছিস কেনো? আর রুদ্র আমার ভাই মানে তোর ও ভাই।এমন নাম ধরে ডাকছিস কেনো।"

"রুদ্র তোর ভাই হতে পারে।আমার এতো ভাই বানানোর শখ নেই।" বলেই তিথি আগে আগে হাটা শুরু করলো।

রিয়ার ব্যাপারটা পছন্দ হলোনা।তার মনে খটকা লাগলো।

হঠাৎ প্রভাতি ইটের সাথে বেজে উস্টা খেয়ে পরে গেলো।বেচারির পা মচকে গিয়েছে।সে কি কান্না।

রুদ্র কোনো রকম প্রভাতিকে কোলে নিয়ে আবার বাড়ির দিকে ব্যাক করলো।

তিথির গা জ্বলে যাচ্ছে এটা দেখে।বাড়ির উঠানে রুবি এবং আয়শা বেগম বসে ছিলেন।রুদ্রের কোলে প্রভাতিকে দেখে রুবি বেগমের রাগ উঠলেও সে নিজের রাগকে হজম করলেন।কেনোনা তিথির সামনে সে নিজের ইমেইজ খারাপ করতে চায় না।

রিয়া ফ্রিজ থেকে বরফ নিয়ে এসে প্রভাতির পায়ে দিয়ে দিচ্ছে।সেদিন রাতে সবাই খেয়ে যার যার মতো শুয়ে পরলেন।

পরের দিন সকালে তিথি রিয়া আয়াশা বেগম রুদ্রের সাথে বের হলেও রুবি বেগম প্রভাতিকে যেতে দেন নি।রুদ্রও তেমন জোর করেনি কেননা সে জানে কিছু বললেই তার মা প্রভাতিকে মারবে।

সবাই বাসা থেকে যাওয়ার পর রুবি বেগম রান্নাঘরে গেলেন।চুলার পাশে রাখা খুন্তিটা নিয়ে চুলায় দিয়ে গরম করলেন। তারপর সেই গরম খুন্তিটা নিয়ে প্রভাতির রুমে গেলেন।প্রভাতি তখন ঘুমোচ্ছে।তাকে যেতে দেয়নি বলে সে কানতে কানতে ঘুমিয়ে পরেছে।

গরম খুন্তিটা নিয়ে প্রভাতির পায়ে এলোপাথাড়ি বাড়ি শুরু করলেন।

ঘুম থেকে ধরফরিয়ে উঠলো প্রভাতি।সে যেনো কিছু বুঝেই উঠতে পারছে না।সে পুরো শক খেলো। প্রভাতি চিৎকার করতে লাগলো ব্যাথায়।

"চাচি মেরো না আমি মরে যাবো।"

"চুপ।আমার ছেলের কোলে উঠা তাইনা।আমার ছেলের সাথে ঘ্যাসাঘ্যাসি করার শুধু বাহানা লাগবে তোর তাইনা।পা মচকেছিলো? আজকে তোর পা আমি নিজের হাতে ভেঙে দিবো।"বলেই আরো জোরে মারতে লাগলো প্রভাতিকে।

" প্লিজ চাচি আমি কোনোদিন আর কথা বলবোনা রুদ্র ভাইয়ের সাথে। আমি তার থেকে দূরে থাকবো।আমাকে মেরোনা।আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।প্লিজ মেরো না আমকে।"

প্রভাতির চিৎকার অনুরোধ কোনো কিছুই তার কানে যাচ্ছে না।একটা সময় থাকতে না পেরে প্রভাতি অজ্ঞান হয়ে গেলো।এটাও রুবি বেগমের চোখে পরলো না।মারতে মারতে এক সময় সে শান্ত হয়ে গেলো। খুন্তি টা রেখে প্রভাতির বিছানার সাথে হেলান দিয়ে ফ্লোরেই বসে পরলো।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেলো কেউ কারো জায়গা থেকে নরলো না।প্রভাতির দেহ টা পাথরের মতো বিছানায় পরে আছে। দেখে মনে হচ্ছে কোনো মূর্তি।

বিকেলে সবাই ফিরে এলো বাসায়।কারো কোনো সারা শব্দ না পেয়ে সবাই কিছুটা ভয় পেয়ে গেলো।রিয়ার মা সাহস করে ঘরে ঢুকলেন।প্রভাতির রুম সামনে থাকায় তার প্রথমে চোখ পরলো প্রভাতির রুমে।কিন্তু লাইট অফ থাকায় কিছু বুঝা যাচ্ছে না।তার মনে কেমন যেনো খচখচ করছে। সে রিয়াকে বললো তিথিকে নিয়ে রুদ্রের রুম্ব যেতে।

রিয়া তিথিকে নিয়ে চলে গেলো। রুদ্র তার খালার দিকে তাকিয়ে আছে সে কিছুই বুঝতে পারছে না।

প্রভাতির রুমে ঢুকে আয়শা বেগম লাইট জ্বালালেন। প্রভাতির বিছানায় চোখ পরতেই তারা আৎকে উঠলো।প্রভাতি চিৎ হয়ে শুয়ে আছে।বিছানার চাদরে রক্ত। রুবি বেগম এখনো মূর্তির মতো সেখা বসে আছে।রুদ্র দৌড়ে প্রভাতির কাছে গেলো।আয়শা বেগম যেয়ে তার বোনকে ডাকছে কিন্তু সে এখনো ঠাই বসে আছে।

"আমাকে মেরো না। আমাকে মেরো না।" প্রভাতি সেই কখন থেকে একই আলাপ বকে যাচ্ছে।রুদ্রের চোখে পানি এসে গেলো প্রভাতির এই অবস্থা দেখে। সে তাড়াতাড়ি ডাক্তারকে কল দিলো।ডাক্তার এস্ব প্রভাতির পা ব্যান্ডেজ করে দিলো আর কিছু মেডিসিন দিয়ে গেলো।

আয়শা বেগম তার বোনকে উঠিয়ে কোনো রকমে তার রুমে নিয়ে গেলেন।রুদ্র প্রভাতির কাছ থেকে এক পা ও নড়লো না।আয়শা বেগম একটু পর প্রভাতির রুমে এলো।

"তুই তোর ঘরে যা।আমি ওর কাছে আছি।"

রুদ্র যেনো তার খালার কথা শুনতেই পেলো না।সে এক পা ও সেখান থেকে নড়লো না।প্রভাতির মাথার কাছেই বসে রইলো।

আর প্রভাতি সে তো কথা বলাই ভুলে গিয়েছে।এক দৃষ্টিতে ফ্যানের দিকে তাকিয়ে আছে।দেখে মনে হচ্ছে প্রাণ ছাড়া একটা দেহমাত্র।

রিয়া তিথি রুদ্রের রুমে শুয়েছে।তারা এখনো জানেনা প্রভাতির সাথে কি ভয়ানক কান্ড ঘটে গিয়েছে।তিথি রুদ্রের রুমটা বেশ খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে।এখানে রুদ্রেএ ছোয়া আছে ভাবতেই ভালো লাগছে তার।

পরের দিন সকালে বাহিরের আলো চোখে প্রায় প্রভাতির ঘুম ভেঙে গেলো।পায়ে তার অসয্য যন্ত্রনা হচ্ছে। তার মনে পরে গেলো কাল রাতের সেই ভয়ানক কাহিনি।পাশে তাকিয়ে দেখলো রুদ্র হেলান দিয়ে শুয়ে আছে। রুদ্রকে দেখে সে ভয় পেয়ে গেলো৷ ভয়ে চিৎকার করতে লাগলো।

"তুমি যাও তুমি যাও।আমার কাছে থেকো না।চাচি আমাকে মারবে।তুমি যাও তুমি যাও। "

প্রভাতির চিৎকার শুনে রুদ্র এবং তার খালা ধরফরিয়ে উঠলো।তাদের বুঝতে কিছু সময় লাগলো যে হচ্ছেটা কি।কিন্তু প্রভাতির চিৎকার থামছেইনা।

রুদ্র না পেরে সেখান থেকে চলে গেলো।সে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে পুকুর পাড়ে যেয়ে বসে আছে। ইচ্ছে করছে সব কিছু ভেঙে চুরে ফেলতে।তার মায়ের উপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছে।তার মা যে এতটা নিষ্ঠুর জানা ছিলো না তার।

রুদ্র উঠে তার মায়ের রুমে গেলো।
রুদ্র কিছু বলবে তার আগেই রুবি বেগম বললেন,
"তুই এখনি এখান থেকে চলে যা ওদের নিয়ে।তুই ওর হয়ে কথা বলতে আসবিনা। আর যদি ওর কাছে গিয়েছিস তার পরিনাম আরো ভয়াবহ হবে।

। রুদ্র সবার চোখ এড়িয়ে প্রভাতির ঘরে যায়।যেয়ে দেখে প্রভাতি বিছানায় বসে আছে।

"তুমি আবার আমার রুমে এসেছো? কেনো আমাকে মার খাওয়াতে? চলে যাও বলছি।"

"আমাকে মাফ করে দে। "
"চুপ একদম। এই মার গুলো তুমি খেলে বুঝতে কেমন লাগে।আজ আমার মা বাবা নাই বলে তোমরা আমার উপর এমন অত্যাচার করো তাইনা।আমি এতিম না হলে কি আমাকে এভাতে মারতে পারতো।তোমরা সবাই খারাপ। যাও এখান থেকে।" বলেই প্রভাতি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে।

রুদ্র আর কিছু বলার পায়না।সেদিন রাতেই তারা ঢাকায় ব্যাক করে।

এর মাঝে কেটে গেলো দুটি বছর। রুদ্র এর মধ্যে ৪ বার বাড়ি গিয়েছে।প্রভাতির পারতোপক্ষে তার সামনে আসেনি।সেইদিনের সেই কষ্ট প্রভাতি আজো ভুলতে পারেনি।সেদিনের পর থেকে সে আর আগের মতো সেই বাচ্চা মেয়েটা নেই।সেই ছোট্ট প্রভাতি এখন ক্লাস ১০এ পড়ে। অনেকটা বড় এবং চুপচাপ হয়ে গিয়েছে।

"প্রভাতি এই প্রভাতি কই গেলি এইদিকে আয়?"

চাচির ডাক পেয়ে প্রভাতি দৌড় দিলো। না জানি দেড়ি হলে আবার তাকে মার খেতে হয়।

হঠাৎ সে কারো সাথে ধাক্কা খেলো।পরে যাওয়ার ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললো।কিন্তু না সে পরলো না।কেউ তাকে ধরে আছে।চোখ খুলতেই সে সামনে থাকা মানুষটাকে দেখতে পেলো।প্রভাতি চোখ বড় বড় করে তার দিকে তাকিয়ে আছে।চেনার চেষ্টা করছে।তখনি.....
চলবে.....

(আসলে কিছু কিছু মানুষ আছে যাদের খারাপ কিছু না বললে ভালোই লাগে না।যাই হোক আজকে অনেক তারাহুরো করে গল্প লিখেছি।সারাদিন বাহিরে ছিলাম।বাসায় এসে মাত্র গল্প লিখলাম।ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন)

03/11/2024

#সম্পর্কের_মারপ্যাঁচ
পর্ব-2


তখনি প্রাভতি দৌড়ে এসে রুদ্র কে জড়িয়ে ধরলো।ভয়ে তার পুরো শরীর কাঁপছে।

"ভাইয়া আমাকে বাঁচাও।আমি আজকে কিছু করিনি।আমি ঘুমিয়েছিলাম,ঘুমের মধ্যেই চাচি এসে আমাকে মারা শুরু করে।তারপর আমাকে টানতে টানতে এখানে নিয়ে এসে ঝারু দিয়ে পেটাচ্ছে।" বলেই হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে।

তখনি রুবি বেগম এসে প্রভাতির চুলের মুঠি ধরে টান দেয়।
"ছাড় আমার ছেলেকে।ওকে বিচার দেয়া হচ্ছে তাইনা।চরিত্রহীন মেয়ে কোথাকার।মেরে একদম তক্তা বানিয়ে ফেলবো।" বলেই প্রভাতিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো।

রুদ্র যেয়ে প্রভাতিকে উঠিয়ে নিজের রুমে নিয়ে গেলো।রুবি বেগম কিছু বলতে এলেই রুদ্র তার দিকে চোখ গরম করে তাকালে সে আর কিছু বলতে পারে না।

রুদ্র প্রভাতিকে চেয়ারে বসিয়ে নিজে তার সামনে হাটু গেড়ে বসলো।
মেয়েটাকে দেখে তার খুব মায়া লাগছে।ফর্সা শরীরের রক্ত জমাট বাঁধার দাগ পরে গেছে।নিজের অজান্তেই রুদ্রের চোখ ঝাপসা হয়ে এলো।প্রভাতির কান্না রুদ্রের বুকে কাঁটার মতো বিধছে।

"এই যে মায়া পরী চুপ। আর কাঁদবিনা।"
প্রভাতির কান্না যেনো আরো বেড়ে গেলো।
"ভাইয়া আমার খুব ব্যাথা করছে সারা শরীরের।আমাকে অনেক জোরে জোরে মেরেছে।দেখো দেখো আমার শরীরে কেটে গিয়েছে।"
বলেই প্রভাতি পেটের কাছ থেকে কামিজটা একটু উঁচু করে দেখালো।

রুদ্র দেখতে পেলো জায়গায়া একদম নীল হয়ে আছে।
"আমি মলম লাগিয়ে দিচ্ছি।প্লিজ কাঁদিস না।আমি তোকে অনেক গুলো চকলেট কিনে দিবো।"

চকলেটের কথা শুনে প্রভাতি খুশি হয়ে গেলো।নিমেষেই ভুলে গেলো একটু আগে তার সাথে কি হয়েছে।রুদ্র প্রভাতির হাতে পায়ে মলম লাগিয়ে দিয়ে ময়নার মা কে ডাক দিলো।

"আপনি ওর শরীরের বাকি অংশে লাগিয়ে দেন।" বলেই রুদ্র মায়ের রুমে গেলো।

রুবি বেগম ইজি চেয়ারে বসে নিরবে অশ্রু ফেলেছে।রুদ্রকে আসতে দেখে সে জলদি করে চোখের পানি মুছে ফেললো।কিন্তু নিরবের চোখে ঠিকই পড়লো।

"মা তুমি আমাকে বলবে তোমার সমস্যা টা কোথায়? ওকে মেরে যদি তুমি নিজেই কান্না করো তাহলে ওকে কেনো মারো? বাচ্চা মেয়েটা তোমার কি ক্ষতি করেছে?"

"তোর লজ্জা করেনা ওর হয়ে ওকালতি করতে?কাল রাতে যে দুজন মিলে বৃষ্টিতে ভিজেছিলি কি ভেবেছিস আমি দেখিনি? বলেছিলাম না ওর থেকে দূরে থাকতে? তা না হলে খারাপ হবে।"

"না মা লজ্জা করেনা।লজ্জা তো তোমার করা উচিৎ যে ওর মতো মেয়ের উপর তুমি এমন নির্যাতন করো।যদি ওর সাথে এতোই প্রব্লেম ছিলো তাহলে ওর বাবা মা মারা যাওয়ার পর ৬ বছরের বাচ্চা মেয়েটাকে তুমি কেনো নিয়ে এসেছিলে? ওকে এভাবে মারতে?"

রুবি বেগম চুপ করে আছে।কোনো কিছু বলছেন না।

"কি করলে তুমি ওকে মারবে না? ওর সাথে এমন খারাপ আচরণ করবে না? "

"তুই শুনবি আমি যা বলবো?"
"হ্যা শুনবো।"

"তুই ওর থেকে দূরে থাকবি।তুই আজই ঢাকা তোর খালার বাসায় চলে যাবি।আর এখানে আসবিনা।যদি এখানে এসেছিস বা ওর সাথে যোগাযোগ করেছিস তাহলে প্রভাতিকে আমি এমন মার মারবো যা তোর কল্পনার বাহিরে।"

রুদ্র মায়ের এমন কথা শুনে ধাক্কা খেলো।সে তার প্রভাতিকে দেখা ছাড়া কিভাবে থাকবে।কিন্তু তাকে যে এটা করতেই হবে।তা না হলে এই বাচ্চা মেয়েটাকে যে আরো কষ্ট পেতে হবে।রুদ্র আর কিছু না বলে মায়ের কথায় রাজি হয়ে গেলো।নিজের রুমে যেয়ে ব্যাগ গোছাতে লাগলো।

কিছুক্ষণ পর প্রভাতি রুদ্রের রুমে এসে দাড়ালো।

"রুদ্র ভাই তুমি আজ চলে যাবে? তুমি যেও না।তুমি ছাড়া এ বাড়িতে আমার ভালো লাগেনা।চাচি শুধু আমাকে মারে।চাচাও আমাকে আদর করে না।প্লিজ তুমি যেও না।তা না হলে আমাকে নিয়ে যাও।" খুব করুণ করে বললো প্রভাতি।

রুদ্রের ইচ্ছে করছে প্রভাতিকে নিয়ে কোথাও য
পালিয়ে যেতে।

"একদিন আমি তোকে এই নরক থেকে বের করবো।খুব শীঘ্রই সেইদিন আসবে।" মনে মনে বললো রুদ্র।

রুদ্র দু হাত দিয়ে আলতো করে প্রভাতির গাল চেপে ধরলো।

"তুই না আমার স্ট্রং পিচ্চি।তোকে তো অনেক বড় হতে হবে।মন দিয়ে লেখাপড়া করবি বুঝলি।তোর কাজ শুধু লেখা পড়া করা।আর তোর চাচি তোকে আর মারবে না। তুই একদম ভয় পাস না।"

প্রভাতি শুধু মাথা নাড়লো।

সেদিন বিকেলে প্রভাতির হাড় কাঁপানো জ্বর এলো। রুদ্রের ইচ্ছে করছে না এই সময় তাকে ছেড়ে যেতে। কিন্তু সে যে নিরুপায়। কিছু করার নেই।

সেদিন সন্ধ্যায় সে আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো।

খালার বাসায় ঢুকতেই রিয়া দৌড়ে এলো।
"ভাইয়া তুমি এসেছো।জানো আমার পড়ালেখায় কত সমস্যা হচ্ছিলো।"

রুদ্র রিয়াকে দেখে মুচকি একটা হাসি দিলো।
"আজ তোকে সব পড়া বুঝিয়ে দিবো ঠিকআছে?"

(রিয়া রুদ্রের খালাতো বোন।ক্লাস ১০ এ পড়ে।)

"আজ না কাল।শুনো আমার বেস্ট ফ্রেন্ড তিথিও আসবে তোমার কাছে পড়তে।ওর ও কিছু সমস্যা আছে।"

"আমি ওকে পড়াতে পারবোনা?" ভ্রু কুঁচকে বললো রুদ্র।

"উফ ভাইয়া আমি এতো কিছু বুঝিনা।আমি ওকে কথা দিয়েছি।তুমি ওকে পড়াবে মানে পড়াবে।"

"আচ্ছা বাবা পড়াবো।আমার জন্য এক কাপ কড়া করে কফি বানিয়ে নিয়ে আয়।"বলেই রুদ্র নিজের রুমে চলে গেলো।

রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলো। সাদা কালার টিশার্ট আর ট্রাউজার পরলো।এখন একটু ভালো লাগছে তার।৫ মিনিট পর রিয়া হাজির হলো কফি নিয়ে।

" নক নক আসতে পারি?"
"আরে আয়।"
"নাও তোমার কফি।জলদি খেয়ে নাও।"

"আচ্ছা"

রিয়া কফিটা দিয়ে চলে গেলো।রুদ্র কফির মগ টা নিয়ে বারান্দায় রাখা দোলনাটায় বসলো। কফিতে একটু চুমুক দিয়ে চোখ বন্ধ করে প্রভাতির কথা ভাবতে লাগলো।না জানি মেয়েটা কি করছে।

জানালা দিয়ে এই দৃশ্য উপভোগ করছে তিথি।২ দিন রুদ্রকে না দেখে তার মনে হচ্ছে সে দুই জনম ধরে রুদ্রকে দেখে না।এখন মন ভরে সে তাকে দেখে নিচ্ছে।আর কাল সে তার কাছে পড়তে যাবে এটা ভেবেই আনন্দে তার মন নেচে উঠছে।

আজ রুদ্রের খুব ক্লান্ত লাগছে।সে রুমে গিয়ে শুতেই ঘুমিয়ে গেলো।

★★★★★★★★★
এইদিকে প্রভাতি জ্বরে আবোলতাবোল বকছে।রুবি বেগম সেই কখন থেকে পাশে বসে তাকে জল পট্টি দিচ্ছে।মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে তার খুব মায়া হলো।
তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে প্রাভিতির গালে গিয়ে পরলো।
★★★★★★

পরের দিন সকালে ১০ টায় রুদ্রের ঘুম ভাংলো। নাস্তা করে সে বই নিয়ে পড়তে বসলো।আর মাত্র ২ মাস আছে তার এইচ.এস.সি পরীক্ষার।

পড়তে পড়তে যে বিকেল হয়ে গেলো সে টেরই পেলো না।এই তার সমস্যা পড়তে বসলে দুনিয়াদারি ভুলে যায়।

বিকেল ৪ টে নাগাদ তিথি এলো।

"ভাইয়া ভাইয়া আমার বেস্টফ্রেন্ড তিথি এসেছে।"

"আচ্ছা ওকে রুমে নিয়ে আয়।"

পড়নে হালকা আকাশী রঙের থ্রিপিস।খোলা চুল। এক কথায় অপূর্ব লাগছে তিথিকে।যে কোনো ছেলে দেখলেই প্রেমে পরে যাবে।কিন্তু রুদ্র তিথির দিকে ঠিক মতো তাকালোই না।ব্যাপারটা তিথির একদম ভালো লাগেনি।

রুদ্র যতক্ষন সময় পড়ালো তিথি ড্যাব ড্যাব করে রুদ্রের দিকে তাকিয়ে ছিলো। দুবার চোখাচোখি হয়েছে রুদ্রের সাথে।

রুদ্র তার পরীক্ষা আর প্রভাতিকে নিয়ে এতোই মগ্ন যে সে তিথিকে খেয়ালই করলো না।কোনো রকম পড়িয়ে তাদেরকে ছুটি দিয়ে দিলো।

তিথি বাসায় ফিরে রাগে ফুসতে লাগলো।

"কিসের এতো দেমাগ এই ছেলের।আকবার তাকালো ও না।" মনে মনে বললো তিথি।

দেখতে দেখতে প্রায় দু মাস কেটে গেলো।আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি রুদ্রের পরীক্ষার।সে মন দিয়ে পড়াশুনা করছে।

কিন্তু পরীক্ষার আগে সে প্রভাতিকে একনজর দেখতে পাবেনা এটা ভেবেই তার বুকে হাহাকার হচ্ছে।যেভাবেই হোক তাকে প্রভাতির সাথে দেখা করতেই হবে।

যেইভাবা সেই কাজ। রুদ্র রিয়ার সাথে সব আলোচনা করলো।রিয়া যেহেতু সব জানে শুধু মাত্র সেই পারবে তাকে সাহায্য করতে।

রুদ্র রিয়াকে ডেকে বললো তাকে সাহায্য করতে।

"আরে ভাইয়া কোনো প্যারাই নেই।সব আমি ম্যানেজ করবো।"

"এই না হয় আমার লক্ষি বোন।"

"আচ্ছা ভাইয়া তোমার প্রভাতি তো এখনো কিছুই বুঝে না পুরোই বাচ্চা। এই বাচ্চার প্রেমে পড়লে কি করে আমি আজ ও বুঝলাম না।"

"আমি নিজেও জানিনা রে।এই মেয়ে যে কবে বুঝদার হবে।অবশ্য হবেই বা কি করে ও তো ঐরকম পরিবেশেই বড় হয়নি আর বয়সই বা কত।মার খেতে খেতেই তো ওর জীবন যাচ্ছে।" মন টা খারাপ হয়ে গেলো রুদ্রর।

রিয়া ব্যাপারটা বুঝতে পারলো।
"আরে বাচ্চা বউ কিন্তু খারাপ না।" বলেই চোখ টিপ দিলো।

"আমার পাকনা বুড়ি।" বলেই রিয়ার মাথায় আস্তে একটা বারি দিলো।

রুদ্র ঐদিন রাতেই টঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে রওনা হলো।এইদিকে রুদ্র যে ঘরে নাই এটা রিয়া ছাড়া কেউ জানে না।

রাত ১ টার নাগাদ সে সেখানে গিয়ে পৌছালো।কোনো রকম পেছনের দরজা দিয়ে ঢুকে সরসরি প্রভাতির রুমে চলে গেলো।

যেয়ে দেখলো প্রভাতি বেঘোরে ঘুমোচ্ছে।ঘুমালে এই মেয়ের কোনো হুশ থাকে না।রুদ্রের মাঝে মাঝে সন্দেহ হয় প্রভাতিকি কুম্ভকর্ণের যমজ বোন নাকি।

সে গিয়ে প্রভাতির পাশে বসলো।

"এই পিচ্চি উঠো।"

৩-৪ বার ডাকার পর প্রভাতি আস্তে আস্তে চোখ মেললো।চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে,
"তুমি এখানে কিভাবে এলে?"

"আমি তোর স্বপ্নে এসেছি।"
"ওহ স্বপ্নে এসেছো? কেনো সত্যি সত্যি আসলে কি হতো?"

রুদ্রের খুব হাসি পাচ্ছে প্রভাতির এমন বাচ্চা বাচ্চা কথা শুনে।

"শুনো এখন তুমি আমার সাথে খেলবে ।"

"এই মেয়ে কবে বড় হবে।এতো দূর থেকে এসেছি নাকি তার সাথে খেলতে।" ভাবতেই রুদ্রের নিজের কপাল নিজে ফাটাতে ইচ্ছে হলো।

"তুমি জানো ঐদিনের পর থেকে চাচি আর আমাকে মারেনি।এমনকি বকেও নি। ইয়ে কি মজা।"

রুদ্র একটু শান্তি পেলো প্রভাতির কথা শুনে।

প্রভাতি ঘুমের মধ্যেই কিসব বকছে সে নিজেও জানেনা।এক কথার সাথে অন্য কথার দূর দূরান্ত পর্যন্ত কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছে না রুদ্র।তাও তার শুনতে খুব ভালোলাগছে।মুগ্ধ হয়ে শুনছে সে কথা গুলো।

কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে প্রভাতি ঘুমিয়ে পড়লো।রুদ্র আর তাকে জাগালো না।সে তার দিকে চেয়ে রইলো।চেয়ে থাকতে থাকতে যে কখন ভোরের আলো ফুটে উঠেছে টেরই পায়নি।হঠাৎ তার খেয়াল হলোভোর হয়ে গিয়েছে।সে প্রভাতির কপালে আলতো করে একটা চুমু দিয়ে সেখান থেকে বেড়িয়ে গেলো।

ঢাকায় পৌঁছে সে আবার তার পড়ায় মনোযোগ দিলো।দেখতে দেখতে তার এইচএসসি শুরু হয়ে শেষ ও হয়ে গেলো।এবার সে ইঞ্জিনিয়ারিং কোচিং এ ভর্তি হলো।যেভাবেই হোক তাকে বুয়েটে চান্স পেতেই হবে।কেনোনা নিজে প্রতিষ্ঠিত হয়েই সে প্রভাতিকে বিয়ে করবে।

★★★★★★★★

এইদিকে প্রভাতির দিন এখন আগের থেকে ভালোই যাচ্ছে।রুবি বেগম তাকে এখন তেমন কিছু বলে না।আবার আদর ও করে এমন ও না।সে নিজের মতো পড়ালেখা আর পুতুল দিয়ে খেলে দিন পার করছে।তার বাচ্চামি স্বভাব কবে যাবে কারো জানা নেই।

★★★★★★
রুদ্রের এডমিশন টেস্ট এসে পরলো এবং সে বুয়েটে চান্সও পেয়ে গেলো।তার জীবনের প্রথম সফলতা।সে এখন আরো মনোবল জোগাড় করছে যেভাবেই হোক তার প্রভাতিকে পেতেই হবে।

এই খুশির খবর পেয়ে রুবি বেগম খুশিতে আত্নহারা হয়ে গেলেন। সে তখনি রুদ্রকে বাড়ি আসতে বললেন।

রুদ্র বাড়ি যাবে শুনে রিয়াও বায়না ধরলো সেও বাড়ি যাবে।কেনোনা আর ২ মাস বাদে তার এস.এস.সি।একটু ঘুরে আসলে ভালো লাগবে।তার জোরাজোরি দেখে কেউ আর না করলোনা। রিয়া বাড়ি যাবার কথা শুনে তিথিও তার পিছ ধরলো সেও রিয়ার সাথে যাবে।পরে রিয়ার মা তিথির মাকে রাজি করালো।

রুদ্র, তিথি,রিয়া আর রিয়ার মা তারা টাঙ্গাইলের উদ্দ্যেশ্যে রওনা দিলেন।রুদ্রের তো খুশিতে নাচতে ইচ্ছে করছে।

রুদ্র আসবে শুনে প্রভাতিও বেশ খুশি। কেনোনা গত কালই তার বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। রুদ্র রিয়া আসলে সে খেলতে পারবে ভেবেই খুশিতে লাফাচ্ছে সে।

রুদ্র ওরা দুপুর নাগাদ পৌছে গেলো।পৌছেই রুদ্র প্রভাতির রুমে গেলো।রুমে গিয়ে দেখলো প্রভাতি জানালা দিয়ে কার সাথে যেনো কথা বলছে।রুদ্র কাছে যেতেই যা দেখলো.....
চলবে...

( প্রভাতির বয়স নিয়ে অনেকেরই সমস্যা হচ্ছে।তাই আমি ওর বয়স বাড়িয়ে ১৩ দিয়েছি এবং ক্লাস ৭ করে দিয়েছি। এটা নিয়ে কারো প্রব থাকলে আমার কিছু করার নেই। ক্লাস ৫,৪ এর মেয়রাও প্রেম করে আবার ক্লাস ১০ এ পড়া মেয়েও কিছু বুঝেনা এমনও আমি দেখছি।আর যারা বলছেন মেয়ের বয়স আরো বেশি দিলে হতো তাদেরকে বলছি তাহলে গল্পটাই হতোনা।কেননা আমি কোনো কিছু এমনি এমনি দেইনা। এর পিছে কারণ আর যুক্তি দুটোই আছে।তাই একটু ধৈর্য নিয়ে পড়ুন নিজেই বুঝে যাবেন।তাই বিরূপ মন্তব্য থেকে বিরত থাকুন।)

02/11/2024

- If a man really loves a woman, then he will not be able to talk to the woman of his hobby,,, he will never stay away on his own,,, it is not possible,,, the true love of men is very clear. - Whenever you see a man who is communicating every few days or not communicating, he is able to live well without talking, then believe that man does not love you,,, he cannot love you. - If a man loves people, he will communicate and keep the woman of his hobby. A man cannot stay away from the woman of his hobby at will. 🌸💔

02/11/2024

প্রভাতি কাঁদতে কাঁদতে রুদ্রর রুমে গিয়ে নিজের পরনের ফ্রকের চেইনটা খুলে দিলো।

"রুদ্র ভাই দেখো চাচি আমাকে কিভাবে মেরেছে।আমি ইচ্ছে করে কাঁচের গ্লাসটা ভাঙি নাই বিশ্বাস করো।" বলেই প্রভাতি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো।"

রুদ্র এক নজর প্রভাতির পিঠের দিকে তাকিয়ে চোখ সরিয়ে ফেললো। ১১ বছরের বাচ্চা একটা মেয়ের উপর তার মা কিভাবে এতো অমানবিক অত্যাচার করতে পারে ভেবে পায় না সে। একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে চেয়ার থেকে উঠে প্রভাতির কাছে গিয়ে তার জামার চেইনটা লাগিয়ে দিলো।

তার পুরো পিঠে লাল লাল জখমের দাগ হয়ে আছে।দেখেই বুঝা যাচ্ছে কোনো শক্ত কিছু দিয়ে পিটিয়েছে।

"তুমি কিছু বলছোনা কেনো?আমাকে কেন এতো মারে চাচি? আমি কি করেছি বলো না!"

রুদ্র কিছুই বলতে পারলোনা। সে প্রভাতিকে টান দিয়ে নিজের বুকে চেপে ধরলো,তার ভিতর বয়ে যাওয়া ঝরকে থামাতে।সে নিজেও জানে না এই ছোট্ট মেয়েটির মধ্যে কি আছে। কিন্তু এই ছোট্ট মেয়েটি তাকে খুব টানে। এক অদ্ভুত মুগ্ধতা কাজ করে তার প্রভাতিকে দেখলে।

রুদ্র মলম বের করে প্রভাতির হাতে দিয়ে বললো,
"যাহ ময়নার মায়ের কাছে গিয়ে বল তোকে যেনো মলম লাগিয়ে দেয়।"

"কেনো তুমি লাগিয়ে দিলে কি হবে?"
প্রভাতির এমন কথায় রুদ্র চুপ হয়ে গেলো।এই মেয়ে যে কবে বড় হবে কে জানে।কবে যে তার জ্ঞান বুদ্ধি হবে! ।

"উহু তুই যা এখন।আমার কিছু কাজ আছে।"
"প্রভাতি গাল ফুলিয়ে সেখান থেকে চলে গেলো। "

রুদ্র কিছু একটা ভেবে তার মায়ের রুমের দিকে পা বাড়ালো।রুমে ঢুকতেই তার চোখ পরলো ফ্লোরে পরে থাকা লাঠির দিকে। তারপর তার মায়ের দিকে তাকালো।তার মা ক্লান্ত হয়ে ফ্লোরেই বসে আছে। বুঝতে পারলো সে প্রভাতিকে মেরে হাপিয়ে উঠেছে।

"এতো মেরে নিজেকে ক্লান্ত করার কি দরকার মা?"

রুবি বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে চোখ সরিয়ে ফেললেন।

" একটা গ্লাসই তো ভেঙেছিলো।তার জন্য তুমি ওকে এমন করে মারলে। "

"তোকে বলেছিলাম না আমি ওর থেকে দূরে থাকতে।তাহলে কেন ওর সাথে এতো হেসে হেসে কথা বলছিলি তুই? তুই ওর কাছে আসার চেষ্টা করলেই এর শাস্তি ও পাবে।" বলেই রুবি বেগম ফ্লোর থেকে উঠে ওয়াশরুমে চলে গেলেন হাত মুখ ধুতে।

রুদ্র অপলক দৃষ্টিতে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে।তার মা এতোটা নিষ্ঠুর প্রকৃতির না।কিন্তু প্রভাতির ক্ষেত্রেই সে এমন কেনো করে তার খুব জানতে ইচ্ছে করে।কেনো যেনো তার মনে হয় এর পিছে অন্য কোনো রহস্য আছে।

"আজব মা আমি এতোদিন পর এখানে এসেছি একটু কথাও বলবোনা!তোমার ইচ্ছেতেই তো সব করেছি তাও কেনো এতো রাগ।এস.এস.সি দিয়ে তুমি আমাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছো আমি তাও চুপ করে মেনে নিয়েছি।গত দু বছরের আমি মাত্র ৩ বার এখানে এসেছি কারণ তুমি পছন্দ করতে না বলে তাও কেনো এমনটা করছো? বাবা মা মরা মেয়েটাকে দেখে কি তোমার একটুও মায়া হয়না? " রুদ্র দাঁতে দাঁত চেপে কথাগুলো বললো।

"আর একটা কিছু বলবি এর মাশুল ঐ মেয়েকে দিতে হবে বলে দিলাম।"

এটা শুনে রুদ্র চুপ হয়ে গেলো। সে তার মাকে খুব ভালো করে চিনে।রুদ্র আর কথা না বাড়িয়ে বাড়ি থেকেই বের হয়ে গেলো।

রুবি বেগম খাটে উঠে কাথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পরলেন।তার চোখ বেয়ে পানি পরছে। চোখ বন্ধ করতেই তার মনে পরে গেলো অতীতের সব স্মৃতি।

রুদ্র পুকুর পাড়ে বসে পুকুরে ঢিল ছুড়ে নিজের রাগ কমাচ্ছে। রুদ্র পাশে কারো উপস্তিতি অনুভব করতে পেরে পাশ ফিরে তাকালো।দেখলো শুমন দাড়িয়ে আছে।শুমন রুদ্রর ফ্রেন্ড। তারা আগে একসাথে স্কুলে পরতো।

"কিরে কবে এলি? একবারো জানালি না যে?"

"এইতো কাল এসেছি।কেমন আছিস?"

"এইতো ভালো।শোন না আমার তোর সাথে কথা ছিলো।"

রুদ্র ভ্রু কুঁচকে শুমনের দিকে তাকালো।তার সাথে কি এমন কথা থাকতে পারে।

"শোন আমার না প্রভাতিকে খুব পছন্দ।আমার মনে হয় প্রভাতিরও আমাকে খুব পছন্দ।"

এটা শুনে রুদ্র আকাশ থেকে পরলো।রাগে তার কান দিয়ে ধোয়া বের হচ্ছে।

"আর কদিন পরই তো আমাদের এইচ.এস.সি। ওটা শেষ করে বাবার ব্যাবসা সামলাবো।তখন প্রভাতিকে আমি বিয়ে করতে চাই।তুই সব ম্যানেজ করে দে না।এমনিতেও তোর মা ওকে একদম পছন্দ করে না। যখন স্কুলে যায়, প্রায় দিনই দেখি ওর হাতে মুখে মারের দাগ।আমি ওকে এখান থেকে বের করতে চাই। আমি ওকে খুব খুশি রাখবো।"

রুদ্র রাগে পারছে না পারছে শুমনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।তার সাহস কি করে হয় তার প্রভাতিকে বিয়ে করার কথা বলে।রুদ্র কিছু না বলেই সেখান থেকে উঠে গেলো।

শুমন রুদ্রকে ডাকলেও সে তার ডাকে সারা না দিয়ে হন হন করে সেখান থেকে চলে গেলো।

রুদ্র বাড়ি গিয়ে দেখলো তার মা বাসায় নাই।হাতে পরা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো বিকেল ৪ টে বাজে।এই সময় তার মা বাসায় থাকে না।আসতে আসতে ৫ টা বাজবে। সে প্রাভতির রুমের দিকে পা বাড়ালো।

রুমে ঢুকতেই দেখলো প্রভাতি জানালার গ্রিল ধরে দাড়িয়ে আছে।
রুদ্র কিছু না ভেবেই যেয়ে প্রভাতিকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো।

এই প্রথম কেউ তাকে এভাবে জড়িয়ে ধরায় কিছুটা হকচকিয়ে গেলো সে।এর আগেও রুদ্র তাকে জড়িয়ে ধরেছে কিন্তু এমন করে কখনো ধরে নি।

রুদ্র প্রভাতির চুলে তার মুখ ডুবালো।প্রভাতির চুল হাটু সমান। হালকা কোক্রানো যে কেউ এই চুলের প্রেমে পরে যাবে।

প্রভাতি এখনো অনেকটা অবুঝ। তাই ওর তেমন কোনো অনুভুতি হলোনা।

"ভাইয়া ছাড়ো তো। এমনিতে গরম লাগছে আমার।"

প্রাভতির এমন কথায় রুদ্রের টনক নরলো।এই মেয়ের থেকে এর থেকে বেশি কিছু আশাও করা যায়না।মাত্র ক্লাস ৫ এ পরে।কি ই বা বুঝবে।

রুদ্রের শুমনের বলা কথা মনে পরে গেলো।

"এই তোর শুমনকে কেমন লাগে? "

"শুমন ভাইয়া তো খুব ভালো মানুষ।আমাকে চকলেট দেয়।"

প্রাভাতির মুখে শুমনের প্রশংসা শুনে রাগ এবার আসমানে উঠে গেলো তার।

"তুই যদি আর কোনো দিন ওর সাথে কথা বলিস মেরে তক্তা বানিয়ে দিবো।" বলেই হন হন করে রুদ্র রুম থেকে চলে গেলো।

প্রভাতি পুরোই বোকা বনে গেলো।এই ছোট্ট মাথায় তার কিছুই ঢুকলোনা।

★★★★★★★★★★

তিথি তার জানালা দিয়ে সামনের বিল্ডিং এর ৩য় ফ্লোরের বারান্দার দিকে তাকিয়ে আছে। নাহ বারান্দার দরজা বন্ধ।রুদ্র আসার কোনো নাম নেই। গত দুদিন ধরে রুদ্রকে দেখতে না পেয়ে তার মন কেমন যেনো ছটফট করছে।রুদ্রের নাম্বার ও তো তার কাছে নেই।

তিথি রেগেমেগে জানালা বন্ধ করে দিলো।তার খুব কান্না পাচ্ছে।

★★★★★★★★★★

রাতে খুব জোরে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি দেখেই প্রাভাতি লাফাতে লাফাতে ছাদে চলে গেলো। রুদ্রদের এক বাসাটা এক তালা।চারিদিকে গাছ গাছালি। বৃষ্টি হলে বাড়িটির সৌন্দর্য যেনো আরো বেড়ে যায়।রুদ্র মায়ের রুমে উকি দিয়ে দেখলো তার মা বেঘোরে ঘুমোচ্ছে। সে চুপি চুপি ছাদে চলে গেলো।ছাদে গিয়ে দেখলো প্রভাতি ভিজছে। রুদ্রকে দেখে প্রভাতি তাকেও টেনে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজিয়ে দিলো।রুদ্র অপলক দৃষ্টিতে প্রভাতির দিকে তাকিয়ে আছে।তার মনে হচ্ছে এভাবে তাকিয়ে থেকেই সে জনম জনম পার করে দিতে পারবে।

খুব সকালে কিছু আওয়াজে রুদ্রর ঘুম ভেঙে গেলো।আওয়াজ টা উঠান থেকে আসছে।সে ঘুম ঘুম চোখে উঠনের দিকে গেলো।সেখনাএ যেয়ে সে যা দেখলো তা দেখার পর তার হাত পা কাঁপতে লাগলো।তখনি.........

#সম্পর্কের_মারপ্যাঁচ
পর্ব-১


(অনেক দিন পর গল্প লিখলাম। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে)

01/09/2024

আমি যেমনই হই না কেনো তার কাছে আমি সুন্দর। আর কি চাই লাইফে,, ❤️🔐

01/09/2024

" ভাবী তোমার ঠোঁ'টে কি হয়েছে?আর বু'ক এমন লাল আছে কেন? "
ছোট ননদের কথায় আঁচলে বু'ক ঢেকে রুহি বললো " এটা এলার্জির দাগ অর্পি "
অর্পি বিষ্মত হয়ে বললো " এলার্জি আমারো আছে ভাবী।আমার তো এমন হয় না।এটা এলার্জির দাগ না।আর ঠোঁ'ট কে'টে তো র'ক্ত পড়ছে "
এমন সময় রুহির শ্বাশুড়ি এসে বললো " কাজকাম বাদ দিয়ে সুখের গল্প শুরু করে দিলি?তোকে বলছি না চুপচাপ কাজ করবি?কারো সাথে কথা বলবি না! "
রুহি দুঃখিত স্বরে বললো " ভুল হয়ে গেছে মা "
রাতে স্বামী এসে আবারো রুহির গা'য়ে হাত তুললো।দোষ একটাই!বিয়ের একমাসের মধ্যে যৌতুক হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিলো রুহির পরিবারের।একমাস পেরিয়ে আজ দশদিন।পরিবার থেকে যৌতুক এখনো আসেনি!
জমি বিক্রি করে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে পরেরদিন রুহির বাবা মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে গেলেন।আঙ্গিনায় দেখলেন মেয়ের শরীর সাদা কাফনে আবৃত।মেয়ের মৃ'তদে'হ দেখে সঙ্গে সঙ্গেই বাবার হার্ট অ্যাটাক।রুহির শ্বাশুড়ি টাকাগুলি হাতে নিয়ে ছেলেকে বললেন
" অপয়া মেয়েডারে আরো আগে মা'রতে পারলি না?তাইলে তো আরো আগে টাকা পেয়ে যাতাম! "
আঙ্গিনায় পড়ে রইলো রুহি এবং তার বাবার মৃ'তদে'হ।
#যৌতুক_সমাজ
Urmi jahan..

01/09/2024

ক্লাস ফোরে থাকতে 'স্টার জলসা' তে একটা সিরিয়াল দেখতাম! সিরিয়ালের নাম ছিলো

'কিরণমালা'। নায়িকার নাম ছিলো কিরণমালা, নায়কের নাম ছিলো কুমার।

কিরণমালার বাবার নাম ছিলো রাজা বিজয় তার আবার আরেকটা বউ ছিলো সেই

বউয়ের নাম ছিলো কটকটি, কটকটির মায়ের নাম ছিলো প্যাকাটি!

প্যাকাটির মেয়ে কটকটিকে আবার ভালোবাসতো সেনাপতি বিটকেল!

তারপর রাজা বিজয়ের মেয়ের বিয়ে হয় নায়ক কুমারের সাথে,

সেই কুমারের আবার একটা বড় ভাই ছিলো তার নাম ছিলো ডংকার, সে আবার কিরণমালা কে ভালোবাসতো!

এখন কথা হইলো সেই দশ বছর আগের এতো কিছু আমার মনে আছে৷

অথচ কালকে কি পড়ছি এইটা মনে নাই। এইটা কেমন বিচার? :)

ওরা আমায় এভাবে কেনো মা'র'ল মা??.মা আমি তো যেমন ডিউটিতে  যাই সেরকমই ডিউটিতে গেছিলাম, কিন্তু আমি তো জানতাম না যে আজই হবে ...
15/08/2024

ওরা আমায় এভাবে কেনো মা'র'ল মা??.
মা আমি তো যেমন ডিউটিতে যাই সেরকমই ডিউটিতে গেছিলাম, কিন্তু আমি তো জানতাম না যে আজই হবে আমার শে'ষ দিন!! আমি তো আমার জুনিয়র দের সাথে একসাথে কতো গল্প করতে করতে রাতের খাবার খেয়েছিলাম, জানো মা অনলাইন থেকে অর্ডার করে আনিয়েছিলাম আমার প্রিয় খাবারটা,ওটাই আজ খেয়েছিলাম, তখনও যদি একটু বুঝতে পারতাম এটাই শেষ খাওয়া , এটাই শেষ গল্প ..... ডিউটির বাঁধনে আমি যখন ক্লান্ত হয়ে গেলাম মা, আমার চোখ দুটো ঘুমে বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল, একটু শরীরের ক্লান্তি মেটাতে গেলাম, তখনও যদি বুঝতাম মা, সারাজীবনের মতো বিশ্রামে চলে যাবো, তখন ভোররাত আমি ওয়ার্ডে একা তখন, ভোরের শীতল বাতাসে আমার একটু ঠান্ডা লাগতে আমি লাল চাদর টা ঢাকা দিয়ে একটু চোখ বন্ধ করেছিলাম শুধু,,, সেই সময়ের অপেক্ষায় থাকা ওরা আমার সাথে..... ছিঃ!!! মা আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল জানো তো অনেক অনেক বার আমি বারণ করেছিলাম, চিৎকার করেছিলাম " বাঁচাও বাঁচাও কে আছো আমাকে বাঁচাও!!" কিন্তু কেউ আমার চিৎকার, আমার আ'র্তনা'দ শুনতে পায়নি জানোতো মা, আর ওরা আরও পশুর থেকেও বিচ্ছিরি ব্যবহার করতে লাগলো..... খেলতে লাগলো আমাকে নিয়ে ওরা!!! আমি ওদের হাতে পায়ে পড়লাম জানো তো, আমি এটাও বললাম যে " আমাকে ছেড়ে দাও,দয়া করে, ছেড়ে দাও, আমি কাউকে কিছু বলব না, আমাকে যেতে দাও..." কিন্তু ওরা আর আমায় তোমার কাছে একবার যাওয়ার সুযোগটা দিলো না, দিলো না তোমার কোলে শেষ বারের মতো মাথা রাখতে দিতে, দিলো না শেষবার তোমার হাসি ভরা মুখ টা দেখার সুযোগ , দিলো না বাবার স্বপ্নে তার রাজকন্যার বড়ো ডাক্তার হওয়ার কাহানী কে সত্য করতে !!! আমার গ'লা টি'পে ধরে নিজেদের সর্ব শক্তি দিয়ে আমার গলা চে'পে ধরে জানো মা, আমি অনেক চেষ্টা করেছিলাম বাঁচার কিন্তু হয়তো আজ ভগবান ও চায়নি যে আমি হয়তো বেঁচে থাকি। ওই পশুদের শক্তির কাছে আমি হেরে যাই, আমার গ'লার হাড় ভে'ঙে যায়...ওরা আমায় ওভাবেই ওখানে ফেলে রেখে চলে যায় ওই বিব'স্র ভাবে..... সকালে সবাই আসে ,কিন্তু একি!! আআআ মি কারোর সাথে কথা কেনো বলতে পারছিনা? তোমাকেও দেখতে পাচ্ছি, তোমায় কত করে ডাকছি তুমি শুনতে কেনো পারছোনা মা, আমার ডাক?? ওওও মা, মা গো এইতো দেখো দেখোনা মা, ও মা এইতো আমি, তুমি কাঁদছো কেনো?? কি হয়েছে তোমার?? ও মা!!! দেখি মা সামনে একটা লাশের দিকে তাকিয়ে হাউমাউ করে কাঁ'দছে, লা'শটার মুখ দেখতে পেয়ে আআআমি শিউরে উঠি.... এ কিহ!

13/08/2024

❣️❣️ খেয়াল করে দেখবেন প্রেমিক যুগলদের প্রায়ই দেখা যায়, রেস্টুরেন্টে, পার্কে, কিন্ত স্বামী স্ত্রী খুব কম পাবেন। এটা অপ্রিয় হলেও সত্য।

প্রেমিকার সাথে সারারাত কথা বলাটা ভালোবাসার পরিচয় হলেও,বউয়ের সাথে একরাত গল্প করাটাই নেহাৎ বোকামী।

প্রেমিকার লাল গোলাপ পছন্দ বলে সারা দুনিয়া এক করে লাল গোলাপ হাতে দিতে ব্যস্ত প্রেমিক,কিন্তু বউয়ের জন্য কখনোও একটা লাল গোলাপের আবদারে তার আদিখ্যেতা লাগে।

প্রেমিকার হাতে বিস্বাদের খিচুড়িও অমৃত মনে হয়,মাসান্তে বউয়ের রান্নায় একদিন লবণ কম হলেই সেটা তার ভিষণ বড় অপরাধ।

প্রেমিকার জন্মদিনে মাথায় শুধু তাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার চিন্তা ঘুরপাক করে,আর স্ত্রীর বেলায় হিসেবটা শুধু পাওনার দুয়ারে গিয়েই ঠেকে।

প্রেমিকার জন্য ৩২ মাইল দূরে গিয়ে ৩০ টাকার ফুচকা কিনতেও বাধে না,আর স্ত্রীর জন্য মাসে একদিন সময় বের করাটা অপচয় বলে মনে হয়!

প্রেমিকা অসুস্থ হলে ১০ মিনিট পরপরই তার খোজ নেওয়াটা কেয়ার বলে গন্য, আর স্ত্রী অসুস্থ হলে কেয়ার দরকার হয় না বিরক্ত বিরক্ত লাগে।

একটা অনিশ্চিত সম্পর্ককে মানুষ যেভাবে গুরুত্ব দেয়,সেটা যদি বিবাহিত সম্পর্কে দেওয়া হতো তাহলে চারদিকে এত ডিভোর্সের ছড়াছড়ি হতো না ।

16/07/2024

ওঠার সময় রিকশাওয়ালা কে খেয়াল করিনি, সে রাস্তা চিনছিল না একটু পরপরই জিজ্ঞেস করছিল আপু কোন দিকে যাব আমি বলে দিচ্ছিলাম ডানে বামে এদিকে ওদিকে । কথা শুরু করার পরে তাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে কতক্ষণ দেখলাম কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছিল ছেলেটা পড়াশোনা জানে খুব সুন্দর উচ্চারণ এবং সাবলীল কথাবার্তা ।
সারা রাস্তা চুপচাপ দেখছিলাম , বাসার কাছে এসে নেমে জিজ্ঞেস করলাম কিসে পড়ো? উত্তর এলো এবার ক্লাস টেনে।
জিজ্ঞেস করলাম ক্লাস কখন করো রিকশা চালাচ্ছো যে ? উত্তর দিল চালাই না তো আমার বাবা সব সময় চালান আজ বাবা অসুস্থ তাই আমি বের হয়েছি যখন বাবা অসুস্থ থাকেন তখন আমি রিক্সা নিয়ে বের হই।

কৌতূহল বসত মুখ দিয়ে বের হয়ে গেল রিক্সা চালাতে খারাপ লাগে না ? খুব সাবলীলভাবে বড় একটা হাসি দিয়ে উত্তর দিল আমার বাবাও তো চালান ।

ছেলেটার এক কথাতেই সবকিছুর উত্তর পেয়ে গেলাম , বড় হয়েও যেন ছেলের এই মনোভাব থাকে দোয়া করি।

14/07/2024

-ঢাকাঃ ধা'ক্কা ধা'ক্কি করছেন কেন?🙂
-চট্টগ্রামঃ আর কোলত উ'ডি যা, কিচ্ছু হই'তম নো 🙂
-সিলেটঃ এই হা'লা'র হা'লা ঠে'লাস কেনে?🙂
-পুরান ঢাকা: আ'বে হালা ধা'ক্কা দিচস কে'লা?🙂
-বগুড়াঃ এত ঠেলা লাগিচ্চে কে থামেন তো😁
-ময়মনসিংহঃ কি'রে ঠে'লা দিছত কেরে 😐
-কুমিল্লাঃ আরেহ ধাক্কা দেন কি'ল্লাই?🙂
-নোয়াখালীঃ এই তুই আরে ঠে'লা দিছোত কিল্লাই?🙂
-বরিশালঃ এ আম্মেরা ওবাইলে ঠেলা ঠেলি হরেন ক্যা,?
-ফরিদপুরঃ ঠে'লা'ঠে'লি করবার লাগছোস ক্যা? ওহোনে যাবার কইছি ন্যা?😔
-যশোর,খুলনাঃ ধা'ক্কা দিচ্ছিস কেন?🤔সরে যা 😏

আপনি কোনটা?

Address

Derai
��

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when urmi jahan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category