14/09/2023
আমাদের অনেকেরই পাওয়ার প্ল্যান্ট নিয়ে জানার আগ্রহ জাগলেও দুঃখের বিষয় হলো চাইলেই পাওয়ার প্ল্যান্টে ঢুকে বিস্তারিতভাবে জানা সম্ভব হয়না বা এই পাওয়ার প্ল্যান্ট আসলে কাজ করে কিভাবে, তা জানা হয়ে উঠে না। তাই আজকে আপনাদেরকে পাওয়ার প্ল্যান্ট নিয়ে মোটামুটি একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো। পুরো আর্টিকেলটা পড়ে ফিডব্যাক জানাতে ভুলবেন না!😛
আপনি যদি জেনারেল এডুকেশন সিস্টেমের কেউ হয়ে থাকেন তবুও পোষ্টটি একবার পড়ার জন্য রিকমেন্ড করবো!
স্থানঃ দোহাজারী-কালিয়াইশ ১০০ মেগাওয়াট পিকিং বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
All Credit to Shuvashis Chakraborty, Executive Engineer of BPDB
সারাংশঃ দোহাজারী বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (BPDB) নিয়ন্ত্রিত একটি প্রতিষ্টান যা ১০০মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এবং তা জাতীয় গ্রীডের সাথে সংযুক্ত করে।
পাওয়ার প্ল্যান্টটি যেভাবে কাজ করে তা স্টেপ ওয়াইজ ভাগ করে দিছি যাতে আপনাদের পড়তে কষ্ট না হয়।😛
★ এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি চট্টগ্রাম বন্দর নগরীর পদ্মা অয়েল কোম্পানি, মেঘনা অয়েল কোম্পানি এবং যমুনা অয়েল কোম্পানি হতে জ্বালানি (ফার্নেস) সংগ্রহ করে থাকে। ট্রেনের মাধ্যমে জ্বালানি সমূহ দোহাজারী বাজার পর্যন্ত নিয়ে আসে, ওইখান থেকে পাইপের মাধ্যমে জ্বালানী সমূহ প্রতিষ্টানের ভিতরের ট্যাংকে আনা হয়।
★ পাইপের শুরুতেই একটা গেইট বাল্ব ব্যাবহারের মাধ্যমে অয়েলকে ফিল্টার করা হয়। অপরদিকে ফার্নেস অয়েলের ঘনত্বটা বেশী হওয়ার কারণে পাইপের দুপাশে স্টিমের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েলসমুহ উত্তপ্ত অবস্থায় রাখা হয় যাতে অয়েলসমূহ ট্যাংকে আনার ক্ষেত্রে কোন বাধা পোহাইতে না হয়।
★ এই বয়লার দহনের জন্য জ্বালানী হিসেবে ডিজেল ব্যাবহার করা হয়। ফার্নেস অয়েল সমুহ স্টোক করে রাখার জন্য ২টা ট্যাংক ব্যাবহার করা হয় যা স্টোরেজ ট্যাংক নামে পরিচিত, যাদের ক্ষমতা ১০,০০০০০ লিটার এবং এই ট্যাংক গুলো প্রায় ৫০-৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কাজ করে যাতে অয়েল গুলো উত্তপ্ত অবস্থায় রাখা যায়।
★ স্টোরেজ ট্যাংক হতে আলাদা আলাদা গেইট বাল্বের মাধ্যমে ফিল্টার করে ফার্নেস অয়েল সমূহ অন্য আরেকটি ট্যাংকে পাঠানো হয়। ট্যাংটিকে প্রায় ৬৫-৭০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কাজ করানো হয় যাতে ফার্নেসের ঘনত্ব কমিয়ে স্মুথভাবে প্রেরণ করা যায় এবং দহনক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহজতর হয়। এই ট্যাংক হতে আবারো ফিল্টারিং করে ডে-ট্যাংকে প্রেরণ করা হয়।
- (এইখানে লক্ষণীয় যে, তেলগুলো বারবার ফিল্টারিং করার কারণ কি? আমরা জানি তেলে ধুলা বালি, ময়লা আবর্জনা এবং বিভিন্ন টাইপের পদার্থ থাকে যা ট্যাংকে জমে থাকলে এক পর্যায়ে গিয়ে অনেক পরিমাণে তলানী পড়ে থাকবে এবং ইঞ্জিনে প্রবেশ করার ফলে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। তাই বিভিন্নভাবে অয়েলগুলো ফিল্টারিং করা হয়।)
★ ডে ট্যাংক থেকে অয়েলগুলো ইঞ্জিনে প্রবেশ করানো হয় ফলে ইঞ্জিনের দহনক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এইখানে মূলত ৬টা ইঞ্জিন ব্যাবহার করা হয়েছে এবং প্রত্যেকটা ইঞ্জিনে ৮টি করে Four Stoke Engine লাগানো আছে। এই ৮টা ইঞ্জিনের শ্যাফট কমন করে টার্বাইনের অল্টারনেটরের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।
★ টার্বাইন ঘুরানোর ফলে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, যার পরিমাণ 11.9KV এবং পরবর্তীতে স্টেপ আপ ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে 132KV তে রুপান্তর করে গ্রীডের সাথে সংযুক্ত করা হয়।
বিভিন্ন পাওয়ার প্ল্যান্ট বিভিন্নভাবে কাজ সম্পন্ন করে থাকে। এইখানে মূলত দোহাজারী-কালিয়াইশ ১০০মেগাওয়াট প্রকল্পটি কিভাবে কাজ সম্পন্ন করে তা নিয়ে আলোচনা করেছি। আজকের পোষ্ট এতটুকুই এর পরবর্তী পোষ্টে উল্লেখ করবো এই পাওয়ার প্ল্যান্টে কি কি ইনস্ট্রুমেন্টস ছিলো এবং কোনটা কিভাবে কাজ করে তা নিয়ে।
সময় দিয়ে পোষ্টটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ এবং পরবর্তী পোষ্ট পড়তে আসার জন্য আপনাকে আমন্ত্রণ জানাই।🖤
Copy : Mojahid Arafat