19/04/2026
এসি (এয়ার কন্ডিশনার) ব্লাস্ট বা বিস্ফোরণ হওয়ার পেছনে সাধারণত কিছু কারিগরি ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাব দায়ী থাকে। নিচে এর প্রধান কারণগুলো সহজভাবে তুলে ধরা হলো:
১. গ্যাস লিকেজ ও শর্ট সার্কিট
এসির ইনডোর বা আউটডোর ইউনিটে যদি গ্যাস লিকেজ হয় এবং সেই সময়ে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে কোনো আগুনের কণা তৈরি হয়, তবে দ্রুত বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। বিশেষ করে এসিতে ব্যবহৃত অনেক গ্যাসই অত্যন্ত দাহ্য।
২. আউটডোর ইউনিটের ওপর অতিরিক্ত চাপ
যদি আউটডোর ইউনিটের ভেতরে প্রচুর ধুলোবালি জমে কনডেন্সার কয়েল জ্যাম হয়ে যায়, তখন গরম বাতাস বের হতে পারে না। এতে কম্প্রেসারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং সেটি প্রচণ্ড উত্তপ্ত হয়ে বিস্ফোরিত হতে পারে।
৩. নিম্নমানের ক্যাবল বা বৈদ্যুতিক সংযোগ
এসি চালানোর জন্য হাই-ভোল্টেজ বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। যদি এসিতে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক তার নিম্নমানের হয় বা প্লাগ পয়েন্টে লুজ কানেকশন থাকে, তবে সেখানে স্পার্ক করে আগুন ধরে যেতে পারে।
৪. দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাব
অনেক সময় অদক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে এসি সার্ভিসিং করালে তারা অনেক সময় ভুল করে পাইপে বাতাস রেখে দেয় বা ভুল পদ্ধতিতে গ্যাস রিফিল করে। এতে ভেতরে প্রেসার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।
৫. দীর্ঘসময় একটানা চালানো
বিরতিহীনভাবে দীর্ঘসময় এসি চালালে যন্ত্রাংশগুলো অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। বিশেষ করে পুরনো বা জরাজীর্ণ এসির ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি থাকে।
দুর্ঘটনা এড়াতে করণীয়:
নিয়মিত সার্ভিসিং: বছরে অন্তত দুইবার দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে এসি চেক করানো উচিত।
সঠিক তার ব্যবহার: এসির লোড নিতে পারে এমন মানের উন্নত ক্যাবল ও সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করুন।
আউটডোর চেক করা: আউটডোর ইউনিটটি এমন জায়গায় রাখুন যেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের সুযোগ আছে।
গ্যাস লিকেজ পরীক্ষা: সার্ভিসিং করার সময় পাইপলাইনে কোনো লিক আছে কি না তা ভালো করে পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।