28/08/2026
চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজে অনার্স চালু এখন সময়ের দাবি
মেহেদী হাসান শান্ত, চিলমারী
চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজে অনার্স (স্নাতক) কোর্স চালুর দাবি উঠলেই হয়তো অনেকে লাভ-ক্ষতি কিংবা শিক্ষার্থীর সংখ্যার হিসাব কষতে বসবেন। কিন্তু চিলমারী উপজেলার ভৌগোলিক বাস্তবতা না দেখে কেবল খাতাপত্র দেখে সিদ্ধান্ত নিলে তা হবে এ অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রতি চরম অন্যায়।
কেন চিলমারীতে অনার্স চালু করা জরুরি?
১. ভৌগোলিক বাস্তবতা: চিলমারী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি ইউনিয়নই অবস্থান করছে উত্তাল ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে চরাঞ্চলে। এক ইউনিয়ন থেকে আরেক ইউনিয়নে যেতে কিংবা নদী বন্দরে পৌঁছাতে শুধুই নৌকা ভরসা, আর সময় লাগে সর্বনিম্ন এক থেকে দেড় ঘণ্টা!
২. একদিনে গিয়ে ফিরে আসা অসম্ভব: চর অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থীরা প্রথমে নদী পার হয়ে চিলমারী ঘাটে আসে, সেখান থেকে আবার কুড়িগ্রাম সদরে যেতে হয়। পড়াশোনা শেষ করে আবার একই পথে দিনে দিনে বাড়ি ফেরা এক প্রকার অসম্ভব।
৩. ইচ্ছা থাকলেও ঝরে পড়া: নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষই দিন এনে দিন খায়। তাদের সন্তানদের পক্ষে কুড়িগ্রাম শহরে থেকে বা মেস ভাড়া নিয়ে পড়ার আর্থিক সামর্থ্য নেই। তারা কাজের পাশাপাশি পড়তে চায়, শত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন তাদের মাঝপথেই থমকে যায়।
রাষ্ট্র যখন কোটি কোটি টাকা খরচ করে জনকল্যাণমূলক নানা প্রকল্প হাতে নেয়, তখন চিলমারীর মতো প্রান্তিক চরাঞ্চলের মানুষের উচ্চশিক্ষার অধিকার কেন শুধু 'লাভ-ক্ষতির' দাঁড়িপাল্লায় মাপা হবে?
চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজে অনার্স চালু হলে শুধু চিলমারী নয়, আশেপাশের চরাঞ্চল ও নিকটবর্তী উপজেলার হাজারো সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বদলে যাবে। কর্তৃপক্ষের কাছে চিলমারীবাসীর আকুল আবেদন—আমাদের ভৌগোলিক বিড়ম্বনা বিবেচনা করে দ্রুত এখানে অনার্স কোর্স চালু করা হোক।
#চিলমারী #কুড়িগ্রামেরসংবাদ