21/05/2026
কালো রঙের বোরকা গায়ে জড়িয়ে আয়নার সামনে দাড়ালো সাদিয়া। কিছুদিন আগেই অনলাইন থেকে বোরকাটি কিনেছে সে।বোরকার সাথে থাকা হিজাবটি আকর্ষণীয়ভাবে মাথায় বেধে নিল।মুখে সামান্য পাউডার, ঠোঁটে একটু লিপস্টিক, চোখে সামান্য কাজল দিল। ব্যাস এই সামান্যই তার সাজ! সবশেষে কোমড়ের ফিতাটা বেধে নেয় সে।এখন তাকে একদম পার্ফেক্ট লাগছে! প্রসাধনীমাখা মুখ, কাজল কালো চোখ, লিপস্টিক রাঙ্গানো ঠোঁট আর দৃঢ়ভাবে বাধা ফিতায় কোমড়ের সুস্পষ্ট ভাজ, কোন নারীকেই বা খারাপ লাগতে পারে?
সাদিয়া বাসা থেকে বেরিয়ে একটা রিকশা নিয়ে কোচিং এ পৌঁছে যায়। কোচিং এর অধিকাংশ ছেলেদের দৃষ্টি এখন তার উপর। এরমধ্যে অনেকেই কল্পনায় তার আকর্ষণীয় নারী দেহকে ছুয়েও দেখেছে!
কোচিং থেকে ফিরে রাতের খাবার খেয়ে একটু ফোন নিয়ে বসে সে।আজকের তোলা বোরকা পরিহিত ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে ঘুমাতে চলে যায়।মুহূর্তেই হাজারো নন-মাহরাম পুরুষের লাইক,কমেন্টে ভরে যায় তার পোস্ট। এসবে সাদিয়ার খেয়াল নেই। সে তো গভীর ঘুমে মগ্ন।
হঠাৎ চারদিক থেকে আগুনের লেলিহান শিখা তার দিকে ধেয়ে আসতে থাকে। মুহূর্তের মাঝেই আগুন তাকে চারদিক থেকে গ্রাস করে ফেলে। দগ্ধ হতে থাকে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ, শিরা-উপশিরা। সেই আগুনের তাপ শুধু শরীর নয়, যেন আত্মাকেও ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছিল। এ যেন মৃত্যুসম যন্ত্রণা!
আতঙ্কে তার শ্বাস ভারী হয়ে আসে, বুক ধড়ফড় করতে থাকে। একসময় অসহ্য যন্ত্রণায় সে চিৎকার করে উঠে বসে।ঘামে ভেজা শরীর, কাঁপতে থাকা হাত, দ্রুত ওঠানামা করা শ্বাস—কয়েক মুহূর্ত পর সাদিয়া বুঝতে পারে, সবটাই ছিল একটি স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নের বিভীষিকা, সেই অসহ্যকর যন্ত্রণা এখনো তার বুকের ভেতর জীবন্ত হয়ে আছে। মনে হচ্ছিল, আগুনের উত্তাপ এখনো তার শরীর ছুঁয়ে যাচ্ছে।
কী ভয়ানক স্বপ্ন! তার স্মরণ হয় সেই হাদিসের কথা যেখানে বলা ছিল-
"ঐ স্ত্রীলোক জাহান্নামি, যারা কাপড় পরিহিত উলঙ্গ, যারা অন্যদের আকর্ষণকারী ও আকৃষ্টা,তাদের মাথার চুলের অবস্থা হেলে পড়া কুজের মতো, এমনকি তারা জান্নাত এবং তার সুগন্ধিও পাবে না।"
সহীহ মুসলিম -৫৪৭৫
হাদিসটির কথা স্মরণ হতেই তার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে। ডুকরে কেঁদে উঠে সে। কীভাবে সে এত দূরে সরে গেল তার রবের কাছ থেকে? কীভাবে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্যের মোহে হারিয়ে ফেলল সেই রবকে, যিনি তাকে অসংখ্যবার ভালোবেসে ঢেকে রেখেছেন রহমতে? যে হৃদয় একসময় রবের স্মরণে প্রশান্তি খুঁজে পেত, সেই হৃদয়ই আজ গুনাহের ভারে কঠিন হয়ে গিয়েছিল।
সাদিয়ার মনে হতে থাকে—সে যেন ধীরে ধীরে নিজের রবের ভালোবাসা হারিয়ে ফেলছিল। আর এই অনুভূতিটাই তার কাছে জাহান্নামের আগুনের চেয়েও ভয়ংকর মনে হয়।অনেকদিন পর আজ তার অন্তর ভেঙে পড়ে রবের সামনে। বাইরে কনকনে শীত, অথচ তার ভেতরে জ্বলছে অনুতাপের আগুন। তীব্র শীতকে উপেক্ষা করেই সে ওযু করে। কাঁপতে থাকা হাতে জায়নামাজ বিছায়। তারপর গভীর রাতে তাহাজ্জুদের নামাজে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে তার রবের কাছে ফিরে আসার মিনতি জানায়।সিজদায় লুটিয়ে পড়ে সে শুধু একটাই কথা বলতে থাকে—
“হে আমার রব… আমি ফিরে এসেছি। আমাকে ফিরিয়ে দিও না। আমাকে আবারও সেই অন্ধকারের পথে তলিয়ে যেতে দিও না। আমাকে ক্ষমা করো। আমাকে আগলে নাও তোমার রহমতের ছায়ায় প্রভু ”
"মুসলিম"
মুসলিম শব্দটি পারিবারিকভাবেই জন্মের পর থেকে আমাদের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করি আমরা। কিন্তু সত্যিই কি আমরা মুসলিম হয়ে উঠি?কুরআন,হাদিস কিংবা ইসলামের ইতিহাসে বর্ণিত মুসলিমদের সাথে আদোও কি কোনো মিল আছে আমাদের? মুসলিম হয়ে ওঠার চেষ্টা কি করি আমরা?
আমারা আমাদের দুনিয়াবি কাজের ব্যস্ততায়, দুনিয়াবি সফলতার মোহে আমাদের মূল গন্তব্যকে ভুলে যাই। নিজ শিকড়কে ভুলে যাই।আমাদের রবকে ভুলে যাই।এমনকি আল্লাহর দেওয়া ফরজ বিধানগুলোকে নিজেদের ইচ্ছামতো পরিবর্তন করার চেষ্টা করি। পর্দার মতো ফরজ বিধানকে আমরা নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী পালনের চেষ্টা করি। গায়ে আকর্ষণীয়ভাবে বোরকা জড়ানোকে আমরা পর্দা মনে করি। আবার অনেকেই নিকাব পরিধান করেও চোখে কাজল লাগাতে ভুলি না। বোরকা পড়লেই তা পর্দা হয় না।পর্দা মানে নিজেকে, নিজের সৌন্দর্যকে নন-মাহরাম পুরুষ থেকে আড়াল করা। আমার সৌন্দর্য দেখার অধিকার তো শুধু আমার মাহরাম পুরুষের রয়েছে ।
আজকের সুস্থ সবল মানুষটি কাল আমাদের মাঝে নাও থাকতে পারে। মৃত্যু নামক চিরন্তন সত্য যেকোনো সময় আমাদের জীবনে কড়া নাড়তে পারে। দুনিয়ায় সামান্য চুলার উত্তাপ যেখানে আমরা সহ্য করতে পারি না, সেখানে জাহান্নামের সে লেলিহান আগুন কি আমরা সহ্য করতে পারবো? আমাদের উচিত নয় কি এমুহূর্তে রবের কাছে ফিরে আসা?কুরআনের দেখানো পথে চলা ? পূর্বে করা সকল পাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া?রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা?
#পর্দা_সচেতনতা