11/08/2024
আজকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভৌগোলিক কারনে বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে আছে। তাই বাংলাদেশে বিল্ডিং ডিজাইন করতে গেলে সাইসমিক ডিজাইন ফলো করে স্ট্রাকচারাল ডিজাইন ও কনস্ট্রাকশন করতে হয়।
বিল্ডিং ডিজাইনের পর স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারদের খুব কমন একটা প্রশ্ন শুনতে হয় – আমার বিল্ডিং কত মাত্রার ভূমিকম্পের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে?
বিল্ডিংয়ের মালিক কিংবা ডেভেলপার জানতে চাইতেই পারেন কত মাত্রার ভূমিকম্পে টিকে থাকবে ভবনটি। কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তরটা এতো সহজ নয় ইঞ্জিনিয়ারের জন্য।
ভূমিকম্পের কারনে যেই এনার্জি রিলিজ হয় সেটাকে সাইসমোগ্রাপের মাধ্যমে মাপা হয়। এটা মোমেন্ট মাগনিচ্যুড স্কেলে মাপা হয়। ১ থেকে ১০ এর মধ্যে। নিউজপেপারে বা খবরে আমরা ভূমিকম্পের যেই খবর দেখি তা এই স্কেলে প্রচার করা হয়। এটা লগারিদমিক স্কেলে থাকে। ১ মাত্রার চেয়ে ২ মাত্রার ভূমিকম্প ৩১ গুন বেশী শক্তিশালী। ১ থেকে ৩ মাত্রার ভূমিকম্প ৩১x৩১ = ৯৬১ গুন বেশী শক্তিশালী।
আরেকটি জনপ্রিয় স্কেল হচ্ছে রিখটার স্কেল। যেটা ছোট মাত্রার ভূমিকম্পের জন্য কার্যকরী। কিন্তু বড় মাত্রার ভূমিকম্পের জন্য ততটা অ্যাকুরেট রেজাল্ট দিতে পারেনা।
একটা ভূমিকম্প কে কতটা ফীল করল সেটা বোঝার জন্য আছে মডিফাইড মার্কেলী মেথড। রোমান হরফ I থেকে XII । যেমন এই স্কেলে II মাত্রার ভূমিকম্প মানে হাইরাইজ বিল্ডিংয়ের উচুতলায় যারা থাকবে তারা কিছুটা অনুভব করবে। আর VII মানে, ভালো ডিজাইন ও কনস্ট্রাকশনের বিল্ডিংগুলা সার্ভাইভ করেছে, দূর্বল ডিজাইন ও কনস্ট্রাকশনের বিল্ডিং খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর তার উৎস থেকে বিল্ডিংয়ের দূরত্ব, বিল্ডিংয়ের টাইপ, বিল্ডিংয়ের নিচের মাটির ধরন, বিল্ডিংয়ের কনস্ট্রাকশন ম্যাটেরিয়াল, বিল্ডিংয়ের ডিজাইন ও ডিটেইলিংয়ের উপর নির্ভর করে তা কিরকম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়াররা বিল্ডিং ডিজাইনের জন্য যে আর্থকোয়েক লোডিং ব্যবহার করে তা বিভিন্ন উৎসের বিভিন্ন মাত্রার বিভিন্ন সম্ভাবনাময় ভূমিকম্পের সমন্বয়ে সাইসমিক হাজার্ড অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে তৈরী গানিতিক সমীকরন থেকে।
সবচেয়ে সহজ সাইসমিক অ্যানালাইসিস পদ্ধতিতে ভূমিকম্পের সৃষ্ট কম্পনকে বিল্ডিং ডিজাইনের জন্য একটা সমতুল্য বলে রুপান্তর করা হয়। নিউটনের সূত্র থেকে আমরা জানি ভর ও ত্বরন গুন করে বল পাওয়া যায়। তাই একটা সমতুল্য ত্বরনের জন্য একটা নির্দিষ্ট বিল্ডিং ডিজাইন করা হয়। সেখান থেকে বল বের করে তার জন্য বীম, কলাম ও অন্যান্য স্ট্রাকচারাল মেম্বার ডিজাইন করা হয়। এছাড়া আরো সফিস্টিকেটেড সাইসমিক অ্যানালাইসিস পদ্ধতিও রয়েছে। তবে ভূমিকম্পের মাত্রার সাথে এসব অ্যানালাইসিসের কোন সরাসরি সম্পর্ক থাকেনা।
যদি প্রপারলি সাইসমিক ডিজাইন করা হয়ে থাকে , তাহলে আমরা স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়াররা একজন বিল্ডিং ওনারকে শুধু এই জবাব টা দিতে পারি যে, নির্দিষ্ট ত্বরন বা অ্যাকসিলারেশনের ভূমিকম্পের জন্য আপনার বিল্ডিং ডিজাইন করা হয়েছে। অথবা এই এলাকার সাইসমিসিটি বিবেচনা করে বিল্ডিং কোডে যেই ত্বরনের সর্বোচ্চ ভূমিকম্পের জন্য ডিজাইন করতে বলা হয়েছে তার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।। কোন নির্দিষ্ট মাত্রার ভূমিকম্পের জন্য নয়।
-জাহের ওয়াসিম