20/05/2026
কুকুরের কামড় (Dog Bite ) এর জরুরি সতর্কতা: ভ্যাক্সিন নিয়েছিলেন, তবুও মারা গেলেন কেন?
নারায়ণগঞ্জে পাঁচ বছরের একটি শিশুকে তার মুখের কাছাকাছি কুকুরে কামড় দেয় ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে ভ্যাকসিন দেওয়া হয় তারপর সেই শিশুটি সাত দিনের ভেতর অসুস্থ হয়ে পড়লে আবার তাকে ঢাকা মেডিকেল নিয়ে গেলে তারা বলল আমাদের কিছু করার নেই তাকে সরাসরি মাহাখালি নিয়ে যান সেখানে নিয়ে গেলে তারাও বলল এখন আর কিছু করার নেই ।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে মাত্র এক সপ্তাহে ৫ জনের মৃত্যু! একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শিশু ও নারীসহ আরও ৯ জন।
অনেকেই জিজ্ঞেস করছেন — ভ্যাক্সিন নিয়েও কেন মরলেন?
উত্তরটা লুকিয়ে আছে মূলত এই কারণগুলোতে:
🧼 ১. সাবান-পানি দিয়ে ধোয়া হয়নি (প্রথম প্রতিরক্ষা)
এটা শুধু "পরিষ্কার করা" নয়। এটা শরীর থেকে ভাইরাস দূর করা। কামড় বা আঁচড় দেওয়ার সাথে সাথে ক্ষতস্থানটি চলমান পানির নিচে (Running water) ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় নিয়ে যেকোনো সাবান দিয়ে ফেনা উঠিয়ে ধুতে হবে। সঠিকভাবে ধোয়ার মাধ্যমে ভাইরাসের উল্লেখযোগ্য অংশ ধ্বংস করা সম্ভব। সাবান-পানি হলো প্রথম প্রতিরক্ষা। প্রথম প্রতিরক্ষা না থাকলে শেষ প্রতিরক্ষা (ভ্যাক্সিন) একা কাজ করতে পারে না।
🧠 ২. মুখ, ঘাড় বা মাথায় কামড় (ইনকিউবেশন পিরিয়ড)
কুকুরের কামড় বা আঁচড় যদি ঘাড়, মুখ বা মাথায় হয় তবে রেবিস ভাইরাসটি সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের (মস্তিষ্কের) খুব কাছাকাছি থাকে। পায়ে কামড় দিলে ভাইরাস মস্তিষ্কে পৌঁছাতে হয়তো ৩ মাস সময় পায়, কিন্তু মাথায় কামড় দিলে মাত্র কয়েকদিনেই পৌঁছে যায়। ভ্যাক্সিন শরীরে কাজ শুরু করার আগেই ভাইরাস মস্তিষ্কে আক্রমণ করে বসে।
💉 ৩. ক্যাটাগরি ৩ এবং RIG ইনজেকশন না নেওয়া
শুধু সাধারণ রেবিস ভ্যাক্সিন (Antirabies Vaccine) সব সময় যথেষ্ট নয়। WHO এর নিয়ম অনুযায়ী ক্যাটাগরি-৩ (যেমন: কামড়ে রক্ত বের হওয়া, চামড়া ছিঁড়ে যাওয়া, বা মুখ-ঘাড়-মাথায় কামড়ানো) হলে ভ্যাক্সিনের পাশাপাশি অবশ্যই RIG (Rabies Immunoglobulin) ইনজেকশন সরাসরি ক্ষতস্থানে দিতে হবে। RIG হলো তৈরি অ্যান্টিবডি, যা তাৎক্ষণিকভাবে ভাইরাসকে ব্লক করে। এই তথ্যটি না জানার কারণে অনেকে শুধু সাধারণ ভ্যাক্সিন নিয়ে ভাবেন তারা নিরাপদ, যা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
❌ ৪. ক্ষতস্থানে সেলাই বা ব্যান্ডেজ করা
কুকুর-বিড়াল কামড়ালে ক্ষতস্থান ভুলেও সেলাই করা যাবে না বা শক্ত করে ব্যান্ডেজ করা যাবে না। এতে ভাইরাসটি নার্ভের আরও গভীরে আটকে যায়। ক্ষতস্থান খোলা রাখতে হবে।
✅ কুকুর/বিড়াল কামড়ালে বা আঁচড়ালে সঠিক ক্রম:
১. সাথে সাথে: চলমান পানির ধারায় সাবান দিয়ে ১৫-২০ মিনিট ক্ষতস্থান ধুয়ে ফেলুন।
২. ভুলেও করবেন না: ক্ষতস্থানে হলুদ, চুন, মরিচ গুঁড়া, বা মাটি লাগাবেন না। সেলাই বা শক্ত ব্যান্ডেজ করবেন না।
৩. যত দ্রুত সম্ভব: হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে ভ্যাক্সিন ডোজ শুরু করুন।
৪. রক্ত বের হলে বা মুখ/মাথায় কামড় হলে: অবশ্যই ভ্যাক্সিনের সাথে RIG ইনজেকশন নিশ্চিত করুন।
চূড়ান্ত কথা:
জলাতঙ্ক শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য, কিন্তু লক্ষণ দেখা দিলে শতভাগ প্রাণঘাতী। বিড়ালের সামান্য আঁচড় কিংবা কুকুরের কামড়কে তুচ্ছ মনে করার যে সংস্কৃতি সমাজে প্রচলিত, তা অনেক ক্ষেত্রেই জীবননাশের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এই পোস্টটি শেয়ার করুন। একটি সঠিক তথ্য একটি জীবন বাঁচাতে পারে।
হাকীম তোফায়েল আহমেদ .com