03/08/2026
বড় বড় কর্পোরেট মনোপলিগুলো যখন ছোট কোনো রাইভাল কোম্পানিকে কিনে নেয় বা টেকওভার করে, তখন তারা সরাসরি গিয়ে ওই কোম্পানির এমপ্লয়িদের ছাঁটাই করে না। তারা বাইরে থেকে একজন নতুন সিইও বা হ্যাটচেট ম্যান নিয়োগ দেয়, যার একমাত্র কাজ হয় কোম্পানির ভেতরে চরম রিস্ট্রাকচারিং করা এবং পুরনো সব লয়্যাল কর্মীদের বের করে দেওয়া।
এই নতুন সিইও ঠিক ওই রেসিরো দোরকোর মতো কাজ করে, সে সব গালি শোনে, সব মানুষের ঘৃণা নিজের ঘাড়ে নেয়। কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার বা আসল মালিকরা তখন একদম চুপ করে ব্যাকগ্রাউন্ডে বসে থাকে। যখন সব ছাঁটাই শেষ হয়ে যায় এবং কোম্পানিটা পুরোপুরি স্লিম আর প্রফিটেবল হয়ে যায়, তখন বোর্ড অফ ডিরেক্টরস হঠাৎ করে ওই সিইওকে বরখাস্ত করে দেয়।
তারা মিডিয়ায় বিবৃতি দেয় যে, এই সিইওর পলিসি কোম্পানির কালচারের সাথে যাচ্ছে না, তাই তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো। এতে সাধারণ এমপ্লয়িরা ভাবে মালিকপক্ষ খুব ভালো, তারা আমাদের কষ্ট বুঝে ওই সিইওকে তাড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু আসল কাজটা তো বোর্ড মেম্বারদের নির্দেশেই হয়েছিল।
সুতরাং, শ্যাডো এলিটরা কখনোই নিজেদের হাত নোংরা করে না, তারা সবসময় একটা ফ্রন্টম্যান বা বলির পাঁঠা ব্যবহার করে।
আন্তর্জাতিক জিওপলিটিক্সেও দেখবেন পরাশক্তিগুলো কোনো দেশে যখন নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়, তারা সরাসরি ইনভলভ হয় না। তারা ওই দেশেরই কোনো একজন দুর্নীতিবাজ নেতাকে সাপোর্ট দিয়ে ক্ষমতায় বসায় এবং তাকে দিয়ে দেশের সব রিসোর্স চুষে নেয়। যখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়, তখন ওই পরাশক্তিরাই আবার হিউম্যান রাইটসের ধুয়া তুলে ওই নেতাকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে দেয়।
এতে তারা সাধারণ মানুষের চোখে হিরো হয়ে যায় এবং নতুন আরেকটা পুতুল সরকার বসানোর সুযোগ পেয়ে যায়।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ লেখাটা নেয়া হয়েছে, The Prince-বইয়ের সপ্তম অধ্যায়ের এনালাইসিস থেকে।
Master the forbidden strategies of power, war and manipulation. Get Bengali translations of The Prince, Art of War & 48 Laws of Power with exclusive Inner Circle access.