Sumaiya Sultana Imy সুমাইয়া/আইমি "Story-stock"

Sumaiya Sultana Imy সুমাইয়া/আইমি "Story-stock" শব্দের ভাঁজে লুকানো অজস্র গল্প,
অনুভূতির কালি আর কল্পনার ছোঁয়ায় লেখা কিছু অনুচ্ছেদ। ✍️📖

চারিদিকে সানায় বাজছে। মিঞা বাড়িটা আজ ঢের সাজানো। গোটা বাড়ি আনন্দে জিক জিক করছে। আনন্দ নেই শুধু রাবেকার মনে।  রাবেকা মিঞা...
25/07/2026

চারিদিকে সানায় বাজছে। মিঞা বাড়িটা আজ ঢের সাজানো। গোটা বাড়ি আনন্দে জিক জিক করছে। আনন্দ নেই শুধু রাবেকার মনে। রাবেকা মিঞা বাড়ির বড় ছেলে আমজাদ মিঞার বড় বউ। বিয়ের আজ ৭ বছর পার হলেও সে এই পরিবারে বংশধর এনে দিতে পারেনি। যদিও এতে আমজাদ নারাজ না। নারাজ তার বাবা আবসার মিঞা ও মা রুহেলা খাতুন।

তারা রাবেকাকে প্রথম থেকেই পছন্দ করেনা। বিল পাড়ার এক অপরুপ সুন্দরি অনাত মেয়েকে আমজাদ নিজে পছন্দ করে বিয়ে করে। সুন্দরী হলেও অনাথ বলে আবসার ও তার স্ত্রী রুহেলা তাকে কোনোদিনও মেনে নেয়নি। কিন্তু তবুও তাদের সংসার ভালোই কাটছিলো। আমজাদ তাকে ভালোবাসায় মুড়িয়ে রাখে বুজতেই দেয়নি সে অনাত ছিল।

কিন্তু সমস্যা বিদলো বছর গড়াতে। রুহেলা খাতুন বংশধর চাইলো। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও রাবেকার কোল আলো হয়না। তাই তাকে প্রতিনিয়ত কথা শুনতে হয়। শাশুড়ী এদিক ওদিক থেকে ছেলের জন্য সম্মন্ধ আনে। জালা পোরা খেতে খেতে মেয়েটা শক্ত হয়ে গেছে। যেন পাথর।

সেও চায় আমজাদ বাবা হোক। কিন্তু গ্রামের ডাক্তার স্পষ্ট বলে দিয়েছে রাবেকা মা হতে পারবে না। তবে? শেষমেষ নিজের নিয়তি মেনে নিয়ে কষ্টকে অন্তরালে রেখে রাবেকাও জোর করতে বাধ্য হয় আমজাদ কে দ্বিতীয় বিয়ে করতে। আর শাশুড়ীর অত্যচার তো আছেই। একদিন রাবেকাকে অপয়া বলে মা'রধরও করে বসে। সেদিন আমজাদ বাড়ি ফিরলে আত্মহ'ত্যার দোহায় দিয়ে স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য রাজি করায়। আজ তারই সতিন সে আনতে যাচ্ছে। তবে কনে বাড়ির লোকজন জানে রাবেকা তার বৌদি মানে আবসার এর বড় ছেলের বউ। এটাই বলতে বলা হয়েছে।

বিয়ে করে বাড়ি ফেরে আমজাদ। বাসর সাজানো হয় ভারি সুন্দর ভাবে। কিন্তু! আমজাদ প্রথম রাতেই দ্বিতীয়া স্ত্রী অনামিকাকে বলে দেয়, সে যেন নিজেকে তার বউ মনে না করে। অর্থাৎ সে তার স্ত্রীর অধিকার অনামিকাকে দিতে চায়না। রাত গেলো মেয়েটার চোখের জলে। পাশের ঘরে রাবেকার চাপা কান্না যেন স্পষ্ট কানে আসছিল আমজাদের৷ কিছুতেই শান্ত থাকতে পারছিল না।

পরদিন বেলায় অনামিকা রাবেকাকে বলে আপা ভাইয়া কী বিদেশে থাকে?

ভাইয়া এখেনে আসে না। রাবেকা কোনো কথা বলেনা শুধু একটা মুচকি হাসি দিয়ে চলে যায়। রাতের কান্নার ছাপ স্পষ্ট দেখতে পায় আমজাদ।

পরের দিনই একটা লা'শ পাওয়া যায় খেয়া নদীর ধারে। মেয়েটা হইত সদ্য বিবাহিত পরনে লাল শাড়ি। এখনো সন্ধান মেলেনি। ঘরে রাবেকাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না তাই আমজাদ অস্তির অনামিকা শান্ত স্বরে বলে ভাইয়ার কাছে হইত!

আমজাদ বুঝতে পারে না কি হচ্ছে। কারণ ভাইয়া বলে কেউ নেই তার! তাহলে রাবেকা কোথায়?

কিছুক্ষণ পর তার মা রুহেলা সিরিয়াল দেখতে টিভি খোলে।গতকাল ঘুমানোর আগে আবসার মিঞা নিউজ দেখছিল বলে,এখনো সেই চ্যানেলেই আছে। খুলতেই শিরোনাম ভেসে ওঠে নওয়া পাড়ার রবিন নামের এক যুবক দ্বিতীয় বিয়ে করেছে বলে প্রথম বউ নদীতে ঝাপ দেয়। লা'শ মেলেনি।

হেডলাইন দেখেই শিউরে ওঠে আমজাদ, পরক্ষনেই 'রাবেকা' বলে চিৎকার করে ওঠে।

(সমাপ্ত)

#অন্তরালে
#সুমাইয়া_সুলতানা_আইমি
#অণুগল্প

 #সিরিজ_শেষ_ঘরটা ্বর চট্টগ্রামের পুরান শহরে ৪ তলা একটা বাড়ি। বাড়ির মালিক মারা গেছে ৩ বছর আগে।  কিন্তু প্রতি মাসের 24 তার...
25/07/2026

#সিরিজ_শেষ_ঘরটা
্বর

চট্টগ্রামের পুরান শহরে ৪ তলা একটা বাড়ি। বাড়ির মালিক মারা গেছে ৩ বছর আগে।
কিন্তু প্রতি মাসের 24 তারিখ রাত 2:17 তে দোতলার জানালায় লাইট জ্বলে।

আরিয়ান, একজন সাংবাদিক। সে এই রহস্য নিয়ে রিপোর্ট করতে আসে।
বাড়ির কেয়ারটেকার বলে: "উপরে যাইয়েন না স্যার। ৩ নম্বর ঘরটা তালা দেওয়া। চাবি নাই।"

আরিয়ান হাসে। রাত 2টায় সে ক্যামেরা নিয়ে দোতলায় ওঠে।
ঠিক 2:17 - লাইট জ্বলে উঠলো। 3 নম্বর ঘর থেকে।
দরজার নিচ দিয়ে আলো আসতেছে। আর সাথে ফিসফিস শব্দ।

সে দরজায় কান লাগায়। ভিতর থেকে একটা মেয়ে কন্ঠ:
*"তুমি দেরি করে ফেলছো... ওরা আসতেছে"*

হঠাৎ পিছন থেকে ঠান্ডা হাত। কেউ কানে ফিসফিস করে:
*"চাবিটা খুঁজো। নাহলে তুমিই পরের জন।"*

আরিয়ান ঘুরে তাকায় - কেউ নাই।
শুধু মেঝেতে একটা পুরান চাবি পড়ে আছে। চাবির গায়ে লেখা: *24*

কারেন্ট চলে যায়। অন্ধকার।
আর 3 নম্বর ঘরের ভিতর থেকে দরজা খোলার শব্দ...

কারেন্ট যাওয়ার পর ১০ সেকেন্ড অন্ধকার।
তারপর মোবাইলের টর্চ জ্বালো আরিয়ান।

মেঝেতে চাবিটা নাই।
কিন্তু দরজার নিচ দিয়ে এখন আর আলো আসতেছে না। ভিতর থেকে শুধু টপ টপ পানির শব্দ।

সে সাহস করে দরজায় ধাক্কা দেয়। তালা ভাঙা।
ভিতরে ঢুকেই বমি আসার মতো গন্ধ। ৩ নম্বর ঘরটা পুরা খালি।
শুধু একটা দেয়াল ঘড়ি। কাঁটা আটকে আছে *2:17* তে।
আর মেঝেতে ভেজা পায়ের ছাপ। ছোট ছোট। একটা মেয়ের।

ছাপগুলা ঘরের কোণার ওয়ারড্রোবের দিকে গেছে।
আরিয়ান ওয়ারড্রোব খুলতেই - ভিতরে কেউ নাই।
কিন্তু পিছনের কাঠের প্যানেলটা আলগা।

সে প্যানেল সরাতেই দেখে সরু একটা গোপন সিঁড়ি। নিচে নেমে গেছে।
সিঁড়ির গায়ে আঁচড় কাটা। গোনা যায় - *24টা দাগ*।

নিচে নামতেই একটা বেজমেন্ট। ঠান্ডা।
মাঝখানে একটা টেবিল। টেবিলে 24টা খাম। প্রতিটার উপর তারিখ।
শেষ খামটার তারিখ - *আজকের তারিখ। 24 জুলাই*।

আরিয়ান কাঁপা হাতে খামটা খুললো।
ভিতরে একটা ছবি। বাড়ির সামনের ছবি।
আর ছবির সামনে দাঁড়ায় আছে... *সে নিজে*।
ছবিটা তোলা হয়েছে ৫ মিনিট আগে। উপর থেকে।

পিছন থেকে শব্দ: *"ছবি পছন্দ হইছে?"*

আরিয়ান পিছনে ঘুরতেই দেখে কেয়ারটেকার দাঁড়ায় আছে।
হাতে রক্ত। আর হাসতেছে।

কেয়ারটেকার বললো: *_"প্রতি 24 তারিখে একজন আসে। চাবি খুঁজে।
তারপর সে আর বের হতে পারে না।
তুমি 24 নম্বর।"_*

লাইট জ্বলে উঠলো। দেয়ালে 23টা ফ্রেম।
প্রত্যেকটায় একটা করে নিখোঁজ মানুষের ছবি।

*To be continued...*

#সুমাইয়া_সুলতানা_আইমি

আসছে নতুন গল্প নতুন থিমে  #অন্তরালে
10/06/2026

আসছে নতুন গল্প নতুন থিমে #অন্তরালে

আষাঢ় মাসে যখন তখন বৃষ্টি নামে। কিন্তু মাঝে মধ্যে বিকেলে পশ্চিম আকাশ জুড়ে হলদে আলোর খেলা দেখা যায়। হলদে আলো আকাশ জুড়ে যে ...
08/06/2026

আষাঢ় মাসে যখন তখন বৃষ্টি নামে। কিন্তু মাঝে মধ্যে বিকেলে পশ্চিম আকাশ জুড়ে হলদে আলোর খেলা দেখা যায়। হলদে আলো আকাশ জুড়ে যে আবরণ সৃষ্টি করে, তা পুরো শহর গ্রামকে সোনালি আভায় মুড়ে দেয়।

আহিরা চট্টগ্রাম শহরে থাকে। সেখানে আহির বাবা মি.আরসের রয়েছে নিজস্ব জমি। তাতেই তৈরি করেছে শখের দো'তালা ডুপ্লেক্স বাড়ি। আরসের ডুপ্লেক্স বাড়ির উপরও সোনালি আলো তার কারুকার্য দেখাতে কৃপণতা করেনি।
আহি রুম থেকে বেরিয়ে বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশ সুন্দর পরিবেশ। তবে কোলাহল নেই। একেবারেই যেন থম মারা।

হঠাৎ মহুয়া নিজের ঘর থেকে আহির ঘরে ছুটে এসেছে।
আহি আজকাল আর আগের মতো নেই। কিছু একটা হয়েছে মেয়েটার। মেয়েটা খুব শান্তশিষ্ট হলেও মহুয়ার সাথে প্রাণ ভরে গল্প করতো। ইসরা এলে আড্ডা দিতো।

তবে মহুয়া আহিকে আজকাল আগের মতো সময় দিতে পারে না। স্কুলের পরীক্ষার কাজে একটু ব্যস্ত।
আর ইসরা? সে তো বিয়ে করেছে পালিয়ে।

এই তো বসন্তের শেষ দিকে তুষার নিজের মনের কথা জানায় ইসরাকে। সম্মতি দেয় ইসরা। কিন্তু বাড়ি থেকে বিয়ের চাপ আসায় ইসরা আর তুষার সিদ্ধান্ত নেয় তারা পালাবে। আহিকে জানায়।
আহি সাহায্য করতে পারেনি। কারণ বাড়ি থেকে তার নিজেরই বেরোবার অনুমতি থাকে না।
তাই ইসরা একটু ভুলও বুঝে আহিকে। পালিয়ে গিয়ে সংসার পেতেছে, কিন্তু আহিকে জানালোও না কেমন আছে।
তাই এসব নিয়েও আহি একটু হতাশায় ভুগে।

মহুয়া পাশ ঘেঁসে দাঁড়ালে আহি একটু নড়েচড়ে দাঁড়ায়।
“আপু। কখন এলে?”
“এইতো। মন খারাপ?”
আহি মাথা নিচু করে উত্তর দেয়, “না।”
“আমার কাছে লুকোবি?”

এবার আহি একটু কান্না জড়ো করে বলে,
“ইসরার সাথে যোগাযোগ বন্ধ আজ প্রায় তিনমাস। তুমি তো জানো, ওকে আমি কতটা ভালোবাসি। মানছি আমি সাহায্য করতে পারিনি। তাই বলে এতোদিন অভিমান করে থাকবে?”

আরো কথা বলবে, তখনই অনুভব করলো পেছন থেকে কেউ আদরে ভাবে জড়িয়ে ধরেছে।
আহি বুঝলো এটা পরিচিত ছোঁয়া। কি অদ্ভুত! প্রিয় মানুষগুলোর ছোঁয়াও বুঝি এভাবে মনে রাখা যায়!
আহির চোখের কোণে জল জমে গেছে। ছলছল চোখেই পেছনে তাকালো।

তাকিয়ে আগাগোড়া পরখ করে জড়িয়ে ধরলো ইসরাকে।
ইসরাও বাহুদ্বয়ে আপন করে নিলো প্রিয় সখিকে।
অভিমানের সুরে বললো, “আমাকে একটু মনেও পড়লো না তোর?”
“তুই আমার কলিজার টুকরো। তোকে ভুলি কি করে?”
“তাহলে এতোদিন কোনো যোগাযোগ করিসনি কেন?”

এবার পাশ কাটিয়ে মহুয়া বললো,
"যাহ বাবা! বান্ধবীকে পেতেই আপু পর? মানে আমি যে এখানে দাঁড়িয়ে, কারো খেয়ালই নেই।”

আহি একটু হেসে ইসরা আর মহুয়ার সাথে ঘরে এলো।
সেদিন কি হয়েছিল, কেন যোগাযোগ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল—সব ইসরা একে একে আহিকে বললো।

এবার ড্রয়িং রুম থেকে আওয়াজ এলো তুষারের।
তুষার এখনো পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি চারটা টিউশন করায়। এতে ইসরা-তুষারের সংসার কোনোমতে চলে।
ইসরাও পড়ায়, তবে এখন কিছুটা অসুস্থ। তাই তুষার সব বন্ধ করতে বলেছে। অবশ্য সুস্থ হলে আবার শুরু করবে।

ইসরার মা-বাবা এখনো তাদের মানেনি। তবে তুষারের মা তাদের গোপনে সাহায্য করে। কি করবে, নিজের ছেলে তো। বাবা জানলে হয়তো সেটাও বন্ধ হয়ে যাবে।

এসব কথা আহি জানার পর একটু আক্ষেপ করে।
সবাই আহির ঘরের বিছানায় বসে আড্ডা দিচ্ছিলো।

আহির মা নুর বেগম এসে সবাইকে চা আর কুকিজ দিয়ে গেলো।
আজ রাতের ডিনার এখানেই—এই বলে হুশিয়ারিও দিয়ে গেলেন।

আহি বন্ধুদের পেয়ে খুবই খুশি হলো। আর মহুয়া তো মনে প্রাণে এই খুশিই ধরে রাখতে চায়।
তবে গতকালের ঘটনাটাও এখনো মনে চেপে রেখেছে। কাউকে বলতে হবে।

সব কথা বলার জন্য তার বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে আছে নীবরাজ আর বোন আহি।
আহিকে এখন এসব বলা উচিৎ হবে না। নীবরাজকে বলে মতামত নিতে হবে।
কিন্তু সকালে মেসেজ করেছে, এখনো সিন করেনি।
তাই মন থেকে কথা গুলো পুরোপুরি সরাতেও পারছে না।

অন্যদিকে, খান বাড়ির ছোট ছেলে আসছে—সেই খুশিতে আজ খান বাড়ি সুসজ্জিত।
নাহার বেগম রান্না করছে ছেলের সব পছন্দের খাবার।
আর অনিরাজ ঘর সাজাচ্ছে। যদিও ডাক্তার মানুষ এসবে পটু না।
তবে আজ নীবরাজ খুশি হলেই মা'কে মহুয়ার কথা বলবে। তাই এতো আয়োজন।

সন্ধ্যার পর নীবরাজ ঘরে ফিরে।
প্রাণ প্রিয় ছেলেকে এতোদিন পর দেখে আদরে বক্ষদেশে জড়িয়ে নেয় নাহার।

“কেমন আছিস বাবা?”
নাহার সুলতানা কাঁদো কাঁদো গলায় সুধায় নীবরাজকে।
নীবরাজ নির্বিকার কণ্ঠে বলে, “ভালো।”

কথাটা যেন ছোট অস্ত্রের মতো বিঁধে। অনিরাজ পাশে দাঁড়িয়ে ছিলো।
ভাইকে এমন অবস্থায় দেখে আর চুপ থাকতে পারে না সে। বলে ওঠে!

“সেদিন বলেছিলি তোর আমাদের উদ্দেশ্য ছেড়ে পড়ানোর শখ জেগেছে। চলেও গেলি। সরকারি চাকরিতে কী মোয়া পেলি যে আমাদের উদ্দেশ্য কেন এই শহরে আসা সব ভুলে গিয়ে একা থাকাটাকে বরণ করলি?"

নীবরাজ কোনো কথা বললো না।

অনিরাজ আবারও বলে গেলো।
"চুপ করে আছিস কেন? ভুলে যাস না, তুই খান বাড়ির ছেলে। খান বাড়িতে তোর-আমার একটা বড় উদ্দেশ্য হাসিল এখনো বাকি। এর আগেই এমন সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছিলি? জিজ্ঞেস করিনি। তবে আজ আমি একটা বিষয় পরিষ্কার করে জানান দিচ্ছি— তুই আবার পুরোনো নীবরাজ হবি। তোর কী হয়েছে, কেন এমন করেছিস, আমি কোনো কৈফিয়ত নিবো না। কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য ভুললে চলবে না ভাই। তুই সেদিন হারামির বংশধরকেও ছেড়ে দিয়েছিলি।”

নীবরাজ এতোক্ষণ সব শুনেছে। “হারামির বংশধর” কথাটায় যেন তার রগ ছিঁড়ে গেলো। হুংকারের মতো বলে উঠলো,
“আম্মা, তোমার বড় ছেলেকে চুপ করতে বলো। নইলে যাকে হারামি বললো, তার ঘরেই পুঁতে রেখে আসবো।”

কথাটা শুনে অনিরাজ একটু ইতস্তত হলো। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিলো। আর মনে মনে আওড়ালো, “ভাইকে এখন এসব বলা উচিত হয়নি।

মাঝখানে মহুয়ার কথাটা বলতে পারবে না।” পরক্ষণে আবারও বললো, “আয় ঘরে আয়।”

নীবরাজ ঘরে প্রবেশ করে সোজা নিজের ঘরে চলে গেলো। ঘরের প্রতিটা জিনিস এখনো সুন্দর সাজানো। একটুও ধুলো জমেনি। মা নাহার সুলতানা সব সময় এগুলো পরিষ্কার করে রাখে। ছেলেকে মনে পড়লে ছেলের ঘরে এসে পড়ে থাকে। নীবরাজ ঘরের আশেপাশে চোখ বুলালো। বেডের পাশে ডেস্কের উপর এখনো দুল জোড়া পড়ে আছে।

ভেইসের পাশে রাখা, খেয়াল পড়ে না। বেলকনির রেলিং-এর ধারে ডজন খানেক ফুলদানি, ঘরের চারিদিকে নানারকম ইনডোর প্ল্যান্ট সাজানো। আলমারির পাশের ডেস্কে হাতের রোলেক্স ঘড়িটা রেখে সোজা ওয়াশরুম চলে যায়। ফ্রেশ হয়ে গায়ে তোয়ালে জড়িয়ে বের হয়। তার ঘরে কেউ আসে না সচরাচর। তাই নিশ্চিন্তেই এসেছিল। কিন্তু এসেই হকচকিয়ে গেলো।
কারণ রুমে জুসের গ্লাস হাতে দাঁড়িয়ে ছিল অপরূপ সুন্দরী হৃধি।

হৃধি—পুরো নাম হৃধিকা, নীবরাজের খালাতো বোন। নাহার সুলতানার বেশ আদরের হৃদি৷ এখন অনার্স সেকেন্ড ইয়ার এ পড়ে অর্থনীতি ডিপার্টমেন্ট এ। নাহার সুলতানা মনে স্বপ্ন দেখে হৃধিকে ঘরের ছোট বউ করে আনবে। নিজের মেয়ের বেলায় তার বয়স মোটেও চোখে পড়েনা।বরং মহুয়ার বয়স নিয়েই তার যত ঝামেলা।

হৃধিরকে মাঝে মাঝে বউমা বলে ডাকে নাহার সুলতানা অন্যদিকে হৃধিও নীবরাজকে ছোট থেকে পছন্দ করে।করবে না-ই বা কেন? ছেলেটা কত ভদ্র আবার পড়াশোনায় ভালো দারুণ ফিটনেস আবার গায়ের রঙ তো দুধে-আলতা। এই ছেলেকে দেখলেই প্রেমে পড়ার মতো। আবার হৃধিও তো কম সুন্দরী নয়। যেমন গাঁয়ের রঙ তেমনি লম্বা পাঁচফিট তিন ইঞ্চি হাইট পুরো হলিউড নায়িকাদের মতো ফিটনেস। আবার ঠোঁটের নিচে কালো তিল।

কিন্তু নীবরাজের কী এসবে খেয়াল আছে? সে তো এক উজ্জ্বল শ্যামবর্ণার প্রেমে অন্ধ। নীবরাজ হৃধিকে দেখেই তাড়াহুড়ো করে ব্যাডে রাখা ব্রাউন রঙের টি-শার্ট আর ট্রাউজার নিয়ে পুনরায় ওয়াশরুমে ছুট লাগায়। টি-শার্ট আর ট্রাউজার পরে আবার রুমে আসলে দেখে তখনও হৃধি দাঁড়িয়ে আছে।

“এই মেয়ে, কারো ঘরে এলে নক করতে পারিস না?”

হৃধি নির্লজ্জের মতো হেসে জবাব দিলো,
“নিজের ঘরে আসতে পারমিশন লাগে নাকি?”

এবার নীবরাজ একটু ঢং করেই বলে, “কার ঘর?”

হৃধি জবাব দেয়, “কেন, তোমার আর আমার! আচ্ছা শোনো এখন তো চলেই এলে। আমাদের বিয়ে কিন্তু পাকা বুঝলে??
আর বিয়ের পর এসব জঙ্গল ঘরে রাখা চলবে না। এসব আমার একদম পছন্দ না।”
এবার নীবরাজ একটু কনফিডেন্স নিয়ে বলে, “শখ কত মেয়ে! যখন আমার বউ আসবে না? তোকে তুলে আছাড় দিবে। দেখিস, এসব কথা আর ভুলেও বলিস না।”
হৃধি হেসে বললো, “আমিই হবো।”
“কী হবি? আমার বউয়ের হেল্পিং হ্যান্ড?”
এমন অপমান হৃধির মোটেও সহ্য হয় না। জুসের গ্লাসটা এক ঝটকায় নীবরাজের হাতে দিয়ে নিচে খালাম্মার কাছে চলে যায়। খালাম্মা তার একমাত্র ভরসা এই বাড়িতে। অনিরাজ একটু রাগী বলে তার ধারে কাছেও ঘেঁষে না। নীবরাজও তাকে অপমান করলো তাই নালিশ জানাতে খালাম্মাই বেস্ট অপশন।

#পর্ব-০৮
#অনিশ্চিত_গন্তব্য
#লেখিকা_সুমাইয়া_সুলতানা_আইমি

(বি:দ্র: সামনে পরীক্ষা তার কারণে নতুন পর্ব দেওয়ায় দেরি হয়। আগামী ২ জুলাই থেকে পরীক্ষা তাই পরীক্ষার আগে এটাই লাস্ট। পরবর্তী নতুন পর্ব পরীক্ষার পর দেওয়া হবে।)

--পছন্দ আছে। অনিরাজের কথা শুনে পাশ থেকে মা “নাহার সুলতানা " বলে উঠলেন: “কি” এতো খুশির খবর। তা কে সেই ভাগ্যবতী শুনি?—আম্ম...
31/05/2026

--পছন্দ আছে।
অনিরাজের কথা শুনে পাশ থেকে মা “নাহার সুলতানা " বলে উঠলেন: “কি” এতো খুশির খবর।
তা কে সেই ভাগ্যবতী শুনি?
—আম্মা ওর নাম ‘মহুয়া’।
—বাহ্। ভারি মিষ্টি নাম। কোথায় থাকে? পরিচয় করাও আমাদের সাথে।

পাশ থেকে আমির খান বলে উঠলো:
—বল বাবা আমরাও জানতে চাই।
—আম্মা ছোট থেকে পছন্দ করি আমি।

নাহার সুলতানা পুনরায় বললেন!

—কিহ্? এ–ই এক মিনিট! এক মিনিট! তুই আবার প্রেম করিস নি তো?
—আম্মা ও আমার ছোট বেলার ক্রাস!

—ছি! এসব কথা বাবা মায়ের সামনে বলতে হয় না,অনি।
—আরে বলুক বলুক। এখন তো বলতেই হবে হা হা। সাতাশ বছর বয়সী সাবালক এখন তোমার ছেলে।
বাবার মুখে এমন কথা শুনে অনিরাজ ও নাহার সুলতানা দুজনেই হেসে উঠলেন। এবং হাসি রেখেই অনিরাজ বললো ভাইয়ের ব্যাচমেট।
কথাটা শুনেই নাহার অবাক দৃষ্টিতে তাকালেন। রীতিমতো রেগেই বলে উঠলেন।
“ মানে সে তো এখন বুড়ি হয়ে গেছে বাবা। এমন আধবুড়ি মেয়েকে ঘরের বউ করে আমি কিছুতেই তুলবো না।”
—আম্মা!
—না অনি, তোমার আরো একবার ভাবা উচিত।
—না আম্মা আমার ওকেই চাই।
—অনি!
—আব্বা। বিয়ে করলে আমি মহুয়াকেই করব।
—না। আমি মানি না।

কিছু হেলদোল করতে না পেরে অনিরাজ ড্রয়িং রুম থেকে বেরিয়ে নিজের ঘরে চলে গেলো। কিছুটা অশান্ত আর মনে মনে আওড়ালো:
" মা কে রাজি করাতেই হবে। আর এই কাজটা করতে পারে নীবরাজ! ইয়েস্ নীবরাজই পারবে আম্মাকে রাজি করাতে। এখনি নীবরাজকে বলতে হবে।"
নীবরাজকে কল করতে যাবে ঠিক তখনই ডেক্সে থাকা ফোনটা বেজে উঠলো। দু'টো রিং পড়তেই রিসিভ করে অনিরাজই আগে বললো;
—ভাই! কী টাইমিং। তোর কথায় মনে করছিলাম। বল কি খবর?
—আম্মা কোথায়?
—আছে।
—ফোনটা দে আম্মাকে!
—আগে আমার কথা শোন। তারপর কথা বলিস।
—আচ্চা বল। কী তোর মহা মূল্যবান কথা।
—এতো ফ্ল্যাক্স নিচ্ছিস কেন?
—আচ্ছা দয়াকরে মাননীয় মহোদয় বলুন আপনার কী আর্যি?
—আমি একটা মেয়েকে পছন্দ করি।
—কিহ্? এটা কী আমি সত্যি শুনছি?
—আব্বে এই ড্রামা বাজ!!! ড্রামা বন্ধ কর। আমি যা বলছি চুপচাপ শোন।
—আজ্ঞে বলুন।
—আমি পছন্দ করি অব্দি আম্মা রাজি ছিল। কিন্তু মেয়েটা তোর ব্যাচমেট শোনার পর ওনি মেয়েটাকে বুড়ি বানিয়ে দিলো।
(একটু নাটোকিয় কান্না জুড়ে দিয়ে)
—আচ্চাহ। ফোন আম্মাকে দে।
—রাজি করিয়ে দে ভাই প্লিজ!!!
—এখন না। আমি বাড়ি ফিরছি সামনের সপ্তাহে। তখন সামনাসামনি বসে কথা হবে।
— তুই আমার কলিজার ভাই। আয় ভাই বুকে আয়।
—থাক। আম্মাকে দে!

****
আষাঢ়ের মাস! আকাশের একাংশ মেঘে ডাকা,অন্য অংশ ঘাড় নীল। বেলা বিকেল ছুঁইয়েছে। আকাশের ঘণ মেঘ ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে।
মেইন রোডের বাঁপাশে ফাঁকা জায়গা পাশে সোনালু গাছের সাথে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে অনিরাজ।
মনে পুরোনো ভয়। হারিয়ে ফেলার ক্ষীণ হতাশা। সেই কৈশোরে প্রদর্পন কারী হৃদয় হরনীকে আজ মনের কথা জানাবে বলেই অপেক্ষা করছে৷ আর মনে মনে ভাবছে প্রিয়তমা কী বুঝতে পারবে তাকে?
নাকি ফিরিয়ে দিবে? না ফেরাতে পারবে না। আজ অনিরাজের আহবানে সারা তাকে দিতেই হবে।
মহুয়ার স্কুল ছুটি হয় আড়াইটায়। দুপুর বারোটায় টিফিন ব্রেক দেয় বলে বাড়ি আসে না। একে বারে সব গুচগাচ করে বেরোতে বেরোতে প্রায় তিনটা বেজেই যায়।
মহুয়া বাড়ি ফিরে রোজ এই রাস্তায়। অনিরাজের তা জানা। তাই তো সেই দুইটা থেকেই অপেক্ষা করে যাচ্ছে৷ যেন প্রিয়তমাকে আজ সব জানিয়ে দিতে পারে।
দুর থেকে পথ চেয়ে দাঁড়িয়ে আছে অনিরাজ। ঐ তো সাদা ফরমাল থ্রিপিস পড়া মাথায় আলাদা করে হিজাব, আর কাঁদের বাঁ পাশে ঝুলছে ব্যাগ।
মেয়েটা এ'দিকেই আসছে। মুখটাও কিয়ৎক্ষণে স্পষ্ট হলো। সুশ্রী মহুয়া আসছে। আসতে আসতেই আচমকা অনিরাজকে দেখলো। কিছুটা দুর থেকেই। দেখা মাত্রই ভাবলো স্কুলে যেতে আসতে সব সময় এই লোকটার সাথে দেখা হতে হবে কেন? এটা কী কাকতালীয়? আবার এই লোকটা তাকে স্টক করছে না তো? ভাবতে ভাবতেই গতি বাড়িয়ে অনিরাজের পানে পৌছালো।
প্রথমে অনিরাজই বলে বসলো
“কথা আছে তোমার সাথে। থামো।”
“আমার ও। চলুন”
“এখানে দাঁড়িয়েই বলবে?”
“চলুন কাছেই কফিশপে যায়!”
“চলো।”
বলেই পাশে থাকা গাড়িতে বসলো অনিরাজ।তারপর বললো;
—এসো।
—খুব কাছেই আমি হেঁটে যেতে পারবো।
—আমার গাড়িতে প্রবলেম হবে?
মহুয়া আর কথা বাড়ালো না। গাড়ি চলতে শুরু করলো। কাঙ্খিত স্থানে থামালো। অনিরাজ গাড়ি থেকে নেমেই বললো "এসো"
মহুয়া আর অনিরাজ একটা টেবিল বুকিং করলো।
“দু'টো কফি দিয়ে যাবেন। ”
“ আশ্চর্য। আমি কি খাবো জিজ্ঞেস ও করলেন না?"
"তুমি কোল কফি পছন্দ করো। তাই ”
“এই এবার কিন্তু আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। আপনি আমার বেপারে এতো কিছু জানলেন কিভাবে? ”
“একটু অপেক্ষা করো। সব বলছি। আমারও তো একটু সাহস দরকার "

কথাটা শুনে মহুয়া একটু হাসলো। এবার অনিরাজ বলে ফেললো!
“হাসদিয়া তো ফাঁসগায়া"
মহুয়া এবার একটু শব্দ করেই হেসে ফেললো।
অনিরাজ একটু আস্বস্ত হলো।আর মনে মনে ভাবলো মানে এখন বলা যাবে।
ওয়েটার কফি দিয়ে গেলো। মহুয়া
কফিতে চুমুক দিতেই অনিরাজ বললো:

—আমাদের কদিন পরিচয়?
—হবে তো অনেক দিন।
— আমার তোমাকে কিছু বলার আছে। তার আগে আমি তোমায় কিছু সত্যি জানাতে চাই,মহুয়া।
—কিসের সত্যি।
মহুয়া কিছুটা অভাক হলো।
—আমি জানি মহুয়া আমায় নিয়ে তোমার মনে এখন অনেক প্রশ্ন।
আমি সব ক্লিয়ার করবো।
মহুয়া অপলক তাকিয়ে রইলো।
অনিরাজ আবার বললো:
—আমার নাম অনিরাজ খান মিরু।
—অনিরাজ!
—হুম। আমি তোমাকে অনেক আগে থেকে চিনি।
—কিভাবে?
—মনে পড়ে তোমার যখন তুমি নাইনে ছিলে কোনো এক পরীক্ষার্থী তোমাকে লাভ লেটার লিখেছিল৷ আর তুমি সেটা না পড়েই ফেলে দিয়েছিলে। চিঠিটা মুলত অন্য গ্রুপ এর ছেলে দিয়েচিল বলে।
— ও হ্যা। ঐ আমার বান্ধবী রুহি আমাকে বলেছিলো একটা পেট মোটা ছেলে লেটার দিয়েছিল। তাই পড়িনি। হি হি।
এমন সিরিয়াস মুহুর্তে মহুয়ার এমন কথা শুনে অনিরাজ থতমত খেয়ে গেলো।
—মানে এ কেমন মহিলা। পেট মোটা আর হেলদি দুইটা আলাদা জিনিস মহুয়া। তোমার বান্ধবী হেলদি বললেই পারতো।
—পরে কী হলো জানেন। আমি তো পরের বছর ছেলেটাকে প্রচুর খুঁজেছি। কিন্তু এটা আমি জানতামই না আমাদের স্কুলে আর ঐ মোটু পড়ে না।
— আরে ঐ মোটু তখন বিদেশে চলে গিয়েছিল।
—আচ্ছা আপনি কিভাবে জানলেন?
স্কুলে ইন্টারমিডিয়েট থাকা সত্বেও সে বিদেশে গেলো কেন?
—আরে সে বিদেশে পড়াশোনা করতে গিয়েছিল। এবং বিদেশে পড়াশোনা করে এমবিবিএস করে দেশে ফিরেছে। আর এখন সে এমবিবিএস ডাক্তার পাশাপাশি এফসিবিএস কার্ডিওলজির সেকেন্ড সেমিস্টারে কোর্চ করছে।
—আপনি কিভাবে জানলেন?
— আমি সেই!
—কীহ্? এতোক্ষণ আমি..! আরে সে পেট মোটা দামড়া এখন এমব ফিট হলো কেমনে? ছ'ফিট ছাড়িয়ে হাইট। দারুণ ফিটনেস হলো কেমনে...?
হা হা...
আর কিছু বলতে পারলো না। শব্দ করে হেসে ফেললো। আচমকা অনিরাজ বলে উঠলো একঞ্চুয়ালি আই হেড ফল ইন লাভ ওয়িথ ইয়ু। ওয়িল ইয়ু ম্যারি মি?

মহুয়া এতোক্ষণ সব হেসে উড়িয়ে দিলেও এখন চুপ। একদম চুপ।
তারপর ধীরে বললো!
—আমার সময় দরকার।
—নাও। যত খুশি সময় নাও। কিন্তু শেষে আমি হ্যা শুনতে চাই মহুয়া।

সন্ধ্যা সাতটা শেষ বিকেলে বেশ বৃষ্টি হয়েছে। পথঘাট সব ভিজে একাকার।
নীবরাজের ফোন পেয়ে বারান্দায় দাঁড়ালো অনিরাজ।
বৃষ্টির রেষ এখনো রয়ে গেছে। দোতালার বারান্দার রেলিং এখনো ভেজা। রেলিং -এ হাত দিয়ে দাড়িয়ে অনিরাজ বললো:
“ভাই জানিস। তোর ভাবির সাথে দেখা করে এলাম”
“বাহ দারুণ খবর তো। তা জানালি তোর মনের কথা?”
“হ্যা জানিয়েছি। কিন্তু জানিস তোর ভাবি আমায় পেট মোটা বললো”
“কী? কেন?”
“আরে আর বলিস না। সে অনেক কথা তোকে বুঝিয়ে বলবো সব।”
“ভাবি বুঝি তোর পুরনো অতীত মনে করালো? হা হা”
কথাটা শুনে একটু স্ট্রংলি বললো:
“আচ্চা তোর গলাটা একটু অন্য রকম লাগচে। শোন, তাড়াতাড়ি বাড়ি আয়। আম্মা খুব চিন্তা করে তোর জন্য ।”

ফোন রেখেই নীবরাজ আবার চিন্তায় ভেঙে পড়লো।
নিজের দূঃখ লোকাবে বলে বাড়ি ছেড়েছে। না খেয়ে নিজের যত্ন না নিয়ে ছেলেটা নিজের কী হাল করেছে। তা দেখলে নাহার বেগম কিছুতেই নিজেকে সামলাতে পারবে না।
মা ছেলেদের নিজের চেয়েও বেশি আগলে রাখে। নিজের জীবন দিয়ে হলেও হাসিখুশি রাখে। সেখানে এমন অবস্থা ছেলের জানলে যেকোনো মা-ই কষ্ট পাবে।
নীবরাজ এখনো ভেবে যাচ্ছে আহির কথা। আহি তো এডমিশন দিবে কিছুদিন পর। প্রস্তুতি কেমন? পড়ছে তো? নাকি আবার অন্য ভাবনায় মেতে আছে?
সে তো আবার নতুন প্রেমে পড়েছে।কথাটা ভাবতেই নীবরাজ কিছুটা বিরক্ত বোধ করলো....!

চলবে...?

#পর্ব -০৭
#অনিশ্চিত_গন্তব্য
#লেখিকা_ঘুমাইয়া_সুলতানা_আইমি

(বি:দ্র: ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখুন। নতুন হাত ভুল হবে স্বাভাবিক তবুও ভুল না করার চেষ্টা করি। কিছু সময় গা ছাড়া হয়ে যায়। লেখার তাল ঠিক রাখাও বেশ কষ্টের আর প্লট ভুলে গেলে তো কথাই নাই। সব দিক বিবেচনা করে একটু ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখুন। ধন্যবাদ)

28/05/2026

সন্ধ্যায় আসছে নতুন পর্ব! তৈরি তো???

বাড়ি ফিরতেই মহুয়ার আবার নীবরাজের কথা মনে পড়ে গেল। মুহূর্তে ছুটে গেল আহির ঘরে।আহি পড়ার টেবিলে চুপচাপ। সামনে পরীক্ষা, আগের...
19/05/2026

বাড়ি ফিরতেই মহুয়ার আবার নীবরাজের কথা মনে পড়ে গেল। মুহূর্তে ছুটে গেল আহির ঘরে।

আহি পড়ার টেবিলে চুপচাপ। সামনে পরীক্ষা, আগের দিনের পড়া শেষ করতে ব্যস্ত। মহুয়ার উপস্থিতি টের পেয়ে ঘুরে তাকাতেই মহুয়া আহিকে হ্যাঁচকা টান দিয়ে সপাটে একটা চড় মারল।

আহি হতভম্ব। আচমকা এমন আচরণের কারণ বুঝতে পারছে না। যে আপু কখনো গায়ে হাত তোলা দূরে থাক, উঁচু গলায় কথাও বলেনি, সে আজ এ কী করল!

আবার অপ্রত্যাশিতভাবে মহুয়া আহিকে দুই বাহুতে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল।

আহি কিছুই বুঝতে পারছে না। শুধু এটুকু বুঝল, বড় কিছু ঘটেছে। কিন্তু জিজ্ঞেস করার সাহসও পাচ্ছে না। ভীতু যে মেয়েটা!

—স্যরি বোন... (চোখের কোনে এখনো জল)
—কী হয়েছে তোমার? (দুহাতে মহুয়ার মুখটা ধরে জিজ্ঞাসু চোখে তাকাল)
—কিছু না।
— বলো না আপু!
—এটুকু জেনে রাখ, নিষিদ্ধ কিছুতে তোর আপু নজর দিয়েছিল। যা আসলে তোর। তাই ক্ষমা চেয়ে নিলাম।

আহি কথার মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝল না।

***_

গোধূলির লাল-নীল আকাশ। মহুয়া বেলকনিতে দাঁড়িয়ে ভাবছে—নীবরাজের সাথে এত বছরের বন্ধুত্ব কি তবে নিজের হাতেই শেষ করে দিল?

হঠাৎ নীবরাজের কল।

—কী করছিস?
—কি... কিছু না।
—দুপুরের ঘটনাটা ভুলে যা।
— ...( কোনো শব্দ নেই)
— দেখ মহু, আমি কখনো চাই না আমাদের বন্ধুত্ব খারাপ হোক। কিন্তু...
— আমি স্যরি রে... (কাঁদো কাঁদো গলায়)
— কাঁদছিস কেন? বোকা মেয়ে।
—আমরা কি আগের মতো বন্ধু থাকতে পারি?
—আমরা কি এখন বন্ধু নই?
—মানে? তুই রেগে নেই?
— মোটেও না। উল্টো তোর বোকামির কথা ভেবে হাসি পাচ্ছে।
— তাহলে ওভাবে তাড়াহুড়ো করে চলে গেলি কেন?
—আরে আমার ভাই দেশে এসেছে! অনিরাজ। তোকে যার কথা বলতাম। ভেবেছিলাম তোর সাথে দেখা করে তোকেও এয়ারপোর্টে নিয়ে যাব। কিন্তু, তুই কিছুটা বিব্রত ছিলি বলে নিলাম না। আর এদিকে দেরি হয়ে যাওয়ায় ও আমার আগেই চলে এসেছে।
—আচ্ছা...!(একটা দীর্ঘশ্বাস) একটা কথা বলব?
— শুধু একটাই বলবি?
—সব সময় তোর ইয়ার্কি!
— না না, তুই চাইলে এক লাইন কেন, শ'খানেক কথা বল। এমনিতেই সারাক্ষণ রেডিও চলতে থাকে।
— কী! আমি রেডিও?
—তা নইতো কী? একটা কথা বলবি বলে চারটা বলে ফেললি! যাই হোক, বল।
—কথাটা আজ দুপুরের ঘটনা নিয়ে... (একটু ইতস্তত করে) আহিকে তুই কখন থেকে চিনিস? কখন থেকে পছন্দ করিস ওকে? আর আহিও কি তোকে পছন্দ করে? মানে... কোনো সম্পর্ক?
—হা হা হা। এটা তোর প্রশ্ন!
— মজা করছি না আমি। বল না! বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে এটুকু জানার অধিকার তো আমার আছেই?
—হুম, তা আছে। শোন তবে...

সেদিন... একটা বাদামী রঙের গোল জামা পরা এক নাবালিকা, নীল ওড়নার আড়ালে দাঁড়িয়ে আইসক্রিম খাচ্ছিল। স্বাধীনচেতা মেয়েটার দুই হাত ভর্তি কাঁচের চুড়ি। আমাদের কলেজের ক্যাম্পাসে পিলার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ছিল, পাশে তার অভিভাবক। মহিলাটি এমনভাবে দাঁড়িয়েছিল যেন রোদের এক বিন্দুও মেয়েটাকে ছুঁতে না পারে।

সেই গালে আইসক্রিম মাখা নাবালিকা ঝড় তুলল এক কিশোরের মনে। যে ঝড় আজও থামেনি। ব্যস, এই নীবরাজ ঘায়েল। আজও তার অপেক্ষায়...

— মানে তুমি সেদিন হল খুঁজে না পেয়ে নয়, আহির জন্য এসেছিলে?
—হ্যাঁ। আমার হৃদয় হরণির কাছে আসার একমাত্র উপায় ছিলি তুই।
—আমি? তবে আহির জন্যই আমাদের বন্ধুত্ব?
— হুম... (একটা দীর্ঘশ্বাস) তবে তুই সত্যিই আমার ভালো বন্ধু মহু!

মহুয়া আর কিছু বলতে পারল না। গলা ধরে আসছে। কোনোমতে "আচ্ছা রাখি" বলে ফোনটা কেটে দিল।

_***

দু'দিন পর...

আহি ইসরার সাথে গল্প করছে। ইসরার বাড়ি কাছেই, সুযোগ পেলেই চলে আসে। আহির একা বেরোনোর অনুমতি নেই। কড়া সিকিউরিটির ভেতর দিয়ে স্কুল-কলেজে যায়, আড়ালে গার্ডও থাকে।

ঘর থেকে হাসাহাসির শব্দ ভেসে আসছে।

—তোর ওয়ান সাইড লাভের খবর কী?
—কী?
— সেই চোখের মালিক! খোঁজ পেলি?—হুম। আমি পেয়েছি সেই চোখের হদিস। (মৃদু হেসে)

দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল নীবরাজ। ‘চোখের মালিক’ কথাটা শুনেই বুকের ভেতরটা ছ্যাঁৎ করে উঠল।

— আমি তার চোখের প্রেমে পড়ে পাগল হয়েছি। ঐ চোখ দুটি খোদা আমার করে দিন।
— পেয়ে যাবি। তুই এতদিন ধরে চেয়ে যাচ্ছিস, ঠিকই পাবি।
— কিন্তু সমস্যা আছে!
— কী?
—আমি আরও খতিয়ে দেখি। পরে তোকেই আগে বলব।

কথাগুলো শুনে নীবরাজের চোখ লাল হয়ে উঠল। মহুয়াকে কিছু পেপারস দিতে এসেছিল, সেগুলো হাতের মুঠোয় মুচড়ে সোজা বেরিয়ে গেল।

মহুয়া ফোন করেও আর পেল না। আগে যে ছেলেটা হুটহাট চলে আসত, সে এখন ডাকলেও আসে না। মহুয়া ভাবল, সব দোষ বোধহয় তারই।

কিছুদিন পর...

মাস্টার্স শেষ হয়েছে বহুদিন। নীবরাজ বিসিএস দিয়ে অন্য শহরের একটা নামী কলেজে জয়েন করেছে। মহুয়ার সাথে কথা হয়, কিন্তু তাদের বাড়িতে আর আসে না। অনিরাজ শহরেরই একটা নামি হাসপাতালে এফসিপিএস কমপ্লিট করছে।

***
খুব ভোরে স্কুলে ছুটছে মহুয়া। অগোচরে ধাক্কা লেগে গেলো সাদা রঙের একটা গাড়ির সাথে। বেরিয়ে এলো চেনা মুখ।
-- আপনি?
-- হুম আমি! অভাক হলেন?
—না, তা না। কিন্তু.. ওহ আপনাকে সেদিন ধন্যবাদ জানানো হয়নি। অনেক হেল্প করেছেন।
—জানিয়েছিলেন তো!
— ওহ। আসলে একটু টেনশনে আছি। তাই ভুলে গিয়েছি।
—মহুয়া! রাইট?
—কি? (কিছুটা চোখ খুছকে)
—মানে আপনার নাম! মহুয়া তাইতো?
— কিভাবে জানলেন আপনি?
— জানলাম আরকি। বাই দ্যা ওয়ে আমার নাম জানেন তো?
— না।
—মিরু।
—নাইচ ন্যাইম।
—ধন্যবাদ। কিন্তু আমার নাম কিভাবে জানলেন বললেন না তো?
—জানবেন জানবেন। আগে আপনাকে স্কুলে পৌঁছে দিই?
—সামনে আমার কলিগ আছে। আমি তার সাথে যাবো।
—সমস্যা নেই। ওনাকেও সাথে নিবো।

মহুয়া এখানেই একটা স্কুলে পড়ায়। বিসিএস বাইবা থেকে ফিরে এসে এখানেই একটা স্কুলে সিনিয়র বিজনেস স্টাডিজ ডিপার্টমেন্ট এ জয়েন করেছে৷বিয়ের সম্মন্ধ আসে কদিন পর পরই। কিন্তু সে কেন জানি সব নাখোচ করে দেয়। আর আহি! সে এখন এডমিশন এর জন্য জোর লাগিয়ে পড়ছে! সাথে ডিটেকটিভ কোর্চের খোঁজ নিচ্ছে।
নীবরাজের সাথে কথা হয় মহুয়ার।

আহি একটাবার খোঁজও নেয় না—এই ভেবে নীবরাজের বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে। আর নীবরাজের মা নাহার বেগম তো ছোট ছেলের জন্য সব সময় উদ্বীগ্ন আর প্রাণ প্রিয় ছেলেটা বাইরে থাকায় কিছুটা অসুস্থও!

সারারাত বাড়ি ছিল না অনিরাজ। হসপিটাল থেকে ফেরার পথেই মহুয়াকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে এলো।

বাড়ি ফিরতেই সকাল সকাল অনিরাজের জন্য পাত্রী খোঁজার তোর জোর শুরু হলো খান বাড়িতে..! আমির খান অনিরাজকে জিজ্ঞেস করলো..!
—তোমার কী কোনো মেয়েকে পছন্দ? তাহলে বলতে পারো!...
আছে কি?
—হ্যা আছে।

#পর্ব-০৬
#অনিশ্চিত_গন্তব্য
#লেখিকা_ঘুমাইয়া_সুলতানা_আইমি

নিবরাজ - আজ কি মহারাণী মহারাজের সাথে দেখা করাবেন? --হুম। তাই তো ডেকেছি। -- তা কোই আপনার মজারাজ? (বলতে বলতেই বুকেড-এ চোখ ...
09/04/2026

নিবরাজ - আজ কি মহারাণী মহারাজের সাথে দেখা করাবেন?
--হুম। তাই তো ডেকেছি।
-- তা কোই আপনার মজারাজ? (বলতে বলতেই বুকেড-এ চোখ পড়লো নীবরাজের। ফুলের বুকেড হাতে নিয়ে নীবরাজ অবাকের চরম পর্যায়ে)
--এইগুলো তো আমার পছন্দের ফুল! তোর ওনিও কি এসব পছন্দ করে নাকি??
-- আরে রাখ এসব বাজে কথা!তোকে একটা সিরিয়াস কথা বলতে ডেকেছি।
-- হ্যাঁ বল!
-- কিভাবে বলব বুঝতে পারছি না। তুই কিভাবে নিবি বিষয়টা!
-- আরে বল কি ঐ ছেলে কি তোকে রিজেক্ট করেছে? বল নইলে এখনি ধরে আনি। ঠিকানা টা একবার বল শুধু। কিভাবে রাজি নাহয় দেখি।
-- আরে এসব না। আমার তোর সাথে কথা আছে!
-- বল।
-- আসলে! আমি অনেক দিন ধরেই বলবো ভাবছি! কিন্তু সাহসে কুলচ্ছে না।
--- আরেহ বল। আমি কি করব। আমি কি বাঘ না ভাল্লুক। তোকে মেরে ফেলব? আরে বল..। কি বলবি তারাতা../ ( কথা শেষ করতে না করতেই মহুয়া বললো)
-- আই লাভ ইয়ু!
--কিহ্!!!
-- হুম। আই রিয়েলি ফল ইন লাভ ওয়িথ ইয়ু।
-- স্টপ দিস ননসেন্স। এসব সেনসেটিভ বিষয়ে মজা আমার একদম পছন্দ না।মহুয়া!
-- আই এ্যাম নট জোকিং।
-- প্লিজ স্টপ দিস ননসেন্স। আমি আমি এসব ভাবতে পারছি না। তুই এসব কি বলছিস। আমি তোকে কখনোই ঐ চোখে দেখিনি।
-- আমি আ আমি সত্যিই তোকে ভালোবাসি নিবরাজ। কলেজের সবার কথার ফাকে তোর সাথে বন্ধুত্ব তোর কথা। তোর ব্যবহার। সেসব বাকি সবার মতো না।
--- তু~তুই। বুঝতে পারছিস না। এ হয় না।
-- কেন???( কিছুটা বিরক্ত হয়ে চেচিয়ে) কেন?? আমি তোকে ভালোবাসি। তুই কেন আমার হতে পারবি না? তুই কি অন্য কাউকে ভালোবাসিস?
-- হ্যাঁ( জোরে শ্বাস ফেলে) হ্যাঁ আমি! আমি ভালোবাসি অন্য কাউকে।
-- কিহ? কে সেই ভাগ্যবতি(কথা আটকে যাচ্ছে মহুয়ার)
-- আহি।( খুবই ধীরে নাম নিলো নীবরাজ)
-- আহিই! ( চোখের কোনে অস্রু গড়িয়ে পড়লো মহুয়ার)
--হ্যাঁ আহি। আমি আহিকে মন প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসি মহুয়া। ( বলতে বলতে কথা আঁটকে যাচ্ছে নীবরাজের) এক অস্বাভাবিক মুহূর্ত! আহির কথা শোনার পর মহুয়া একটু নিশ্চুপ হয়ে গেছে। আহি মহুয়ার প্রাণের চেয়ে প্রিয়। আহিকে কেউ এতোটা ভালোবাসে এতে তো মহুয়ার খুশি হওয়ার কথা! কিন্তু মহুয়ার কেন কষ্ট হবে? সে নিবরাজ হলেও! নীবরাজের প্রতি মহুয়া দূর্বল সত্য। কিন্তু এটা কতটা ভালোবাসার রূপ নিয়েছে তা আদেও পরিষ্কার না মহুয়ার কাছে।

এসব মনে মনে ভাবতে ভাবতে হঠাৎ মহুয়া লক্ষ করলো নীবরাজ রেস্তোরাঁ থেকে বেরিয়ে গেলো৷ কাজটা ভিষণ কষ্ট দিলো মহুয়াকে! নিজেকে দোষারোপ করতে শুরু করলো। নিজ হাতে এতোকালের বন্ধুত্ব নষ্ট করলো ভেবে। এসব ভাবতে ভাবতে সে ভিষণ বিস্মিত। নীবরাজের চলে যাওয়া তা আরোও বাড়িয়ে দিলো। মহুয়া হাঁটা দিলো এবার বাড়ির পথে না। ঠিক উল্টো দিকে একটা বড় ঝিল রয়েছে সেদিকেই। কতশত দুশ্চিন্তা, দোষারোপ মাথায় আসছে মহুয়ার। ঝিলের পাশে দাঁড়িয়ে আছে মহুয়া এবার প্রথম সে এমন সিদ্ধান্ত হীনতায় ভুগছে। হঠাৎ পেছন থেকে একটা পুরুষালী স্বর ভেষে এলো!

-এই যে মিচ শুনেছেন?

-কে`কেহ? মহুয়া অকপটে ঘুরে তাকালো।এক সুদর্শন যুবক ফরমাল মেরুন রঙের শার্ট, হাতের কনুই অব্দি ভাজ করা হাতা,কালো ট্রাউজার। দেখেই মনে হচ্ছিল কোথাও থেকে ফিরছে। পেছনে খেয়াল করলো মহুয়া। লোকটির পেছনে গাড়ি দার করানো গাড়ির লাইটগুলো জলছে এখনো। হঠাৎ লোকটি আবারও আওড়ালো-
-- এমা আপনি কি কানে শোনেন না?
-- কি বললেন আপনি? ( কিছুটা রেগে)
-- আরে মিচ! !! রাগছেন কেন? আপনি নিজেই দেখুন কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন!
( মহুয়া খেয়াল করলো সে রাস্তার মাঝের দিকে চলে এসেছে। আন মনে হাঁটতে হাঁটতে খেয়ালই করেনি, পেছন থেকে এতোবার হর্ন দেওয়ার পরও না সরায় নিজেই গাড়ি থেকে নেমে এসেছে অনিরাজ। এবার মহুয়ার হুস ফিরলো! সে কিছুটা লজ্জা ও ভয় জড় করে বললো!)

--স্যরি। আমি আসলে খেয়াল করিনি।

-ভাগ্যিস বললেন। আমি তো ভেবেছিলাম সু**সাইড করতে এসেছেন।তাহলেও সমস্যা ছিলো না। কিন্তু আমার গাড়ির সামনে না প্লিজ!
অনিরাজের এমন কথায় প্রায় হেসে ফেললো মহুয়া।...

মহুয়ার ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটতেই অনিরাজ একটু ভ্রু কুঁচকে তাকালো।
— হাসছেন কেন? আমি কিন্তু সিরিয়াস ছিলাম।
— না, মানে… আপনার কথা বলার স্টাইলটা একটু আলাদা।
— ওহ! তাহলে ধন্যবাদ নাকি দুঃখিত বলব বুঝতে পারছি না।
মহুয়া এবার একটু স্বাভাবিক হলো। মাথার ভেতরের ঝড়টা যেন কিছুটা থেমেছে।
— যাই হোক, থ্যাংক ইউ। আপনি না থাকলে হয়তো আজকে একটা বড় এক্সিডেন্ট হয়ে যেত।
— এক্সিডেন্ট নাকি… অন্য কিছু?
অনিরাজের কথায় মুহূর্তের জন্য থমকে গেলো মহুয়া। চোখ নামিয়ে ফেললো।
— আপনি অনেক কিছুই ধরে ফেলেন মনে হচ্ছে।
— পেশার কারণে অভ্যাস হয়ে গেছে।
— পেশা?
— পরে বলব। আগে আপনাকে বাড়ি পৌঁছে দিই। এই অবস্থায় একা যাওয়া ঠিক হবে না।
মহুয়া একটু দ্বিধায় পড়লো।
— না, দরকার নেই। আমি চলে যেতে পারব।
— দেখুন “পারব” আর “যাওয়া উচিত” — দুইটা আলাদা জিনিস।
কথাটা এমনভাবে বললো যে মহুয়া আর না করতে পারলো না।
— আচ্ছা…
গাড়িতে উঠে জানালার বাইরে তাকিয়ে রইলো মহুয়া। চারপাশের আলো ঝাপসা লাগছে। মাথায় শুধু একটাই নাম ঘুরছে— “নিবরাজ”।
হঠাৎ অনিরাজ আবার বললো—
— কাউকে খুব কাছের ভেবেছিলেন, তাই না?
মহুয়া চমকে তাকালো।
— আপনি কি মাইন্ড রিড করেন নাকি?
— না। শুধু চোখ পড়তে পারি।
কথাটা শুনে মহুয়ার বুকটা হালকা কেঁপে উঠলো।
— সবাই কি এত সহজে বুঝে ফেলে?
— না। সবাই না। যারা বুঝতে চায়, শুধু তারাই পারে।
একটা নীরবতা নেমে এলো গাড়ির ভেতর।
কিছুক্ষণ পর—
— আপনি নামবেন কোথায়?
মহুয়া ঠিকানাটা বললো। গাড়ি থামলো।
নামার আগে একটু থেমে বললো—
— আজকের জন্য… ধন্যবাদ।
— ধন্যবাদ পরে দিবেন। আবার দেখা হলে।
— আবার?
— হুম… আমার মনে হচ্ছে আমাদের আবার দেখা হবেই।
অনিরাজের চোখে এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস।
মহুয়া কিছু না বলে নেমে গেলো।
গাড়িটা ধীরে ধীরে চলে গেলো…
আর মহুয়া দাঁড়িয়ে রইলো এক নতুন অনুভূতির সামনে—

চলবে...?

পর্ব : ০৫
#অনিশ্চিত_গন্তব্য
#লেখিকা_সুমাইয়া_আইমি

     #রাইটার্স_হাব_সাপ্তাহিক_অনুগল্প_প্রতিযোগিতা_২০২৬দেখ, তোর হাতে কলমের দাগটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না, আর আমার হাতে কেমন ...
09/04/2026



#রাইটার্স_হাব_সাপ্তাহিক_অনুগল্প_প্রতিযোগিতা_২০২৬

দেখ, তোর হাতে কলমের দাগটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না, আর আমার হাতে কেমন স্পষ্ট দেখ! পেন্সিল বক্স থেকে কলমটা দিয়ে নিজের ও সুবর্ণার হাতে দাগ এঁকে দিয়ে বললো অনু।

কথাটা শোনা মাত্রই শ্যামবর্ণ মুখশ্রীর সুবর্ণার বদনে যেন হঠাৎ আমাবস্যা নেমে এলো।

সুবর্ণা বিন্ধিবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। অনু তারই সহপাঠী। সুবর্ণার মুখশ্রী শ্যামবর্ণের। জন্মের সময় দুধে-আলতা গায়ের রঙ ছিল তার। তাই বাবা ইসহাক আলি ও মা মরিয়ম বেগম একমাত্র মেয়ের নাম রেখেছিল সুবর্ণা। ইসহাক আলির সুখের সংসার ছিল মেয়ে-বউকে নিয়ে ভালোই দিন কাটছিল। হঠাৎ তার ব্যবসায় লস করায় নতুন ব্যবসা শুরু করতে হয়েছিল। তাই মেয়েকে পাড়া থেকে কিছুটা দূরের সরকারি স্কুলে ভর্তি করেছিল। রোদে যাতায়াত করতে করতে তার গায়ের রঙের পরিবর্তন কেউ খেয়ালই করেনি। এখন যথেষ্ট সচ্ছল হয়ে উঠেছে সে। কিন্তু তার মেয়ে সেই সুন্দর দুধে-আলতা গায়ের রঙ হয়ে গেল উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ। তবুও মা-বাবার কোনো আক্ষেপ নেই। কিন্তু পাড়া-প্রতিবেশী, সহপাঠীদের তো আর দায় পড়েনি চুপ থাকার। সব সময় তাকে কালুনি, কালোচুরা, কালাবর্ণা, কালাবানর, কাক ইত্যাদি নামে সম্বোধন করে থাকে। এতে সুবর্ণা দিন দিন নিজেকে গুটিয়ে নেয়, তার বন্ধুও হয়ে যায় গুটিকয়েক। আর পাঁচটা মেয়ের মতো তাকে কেউ দেখে না। সে পড়াশোনায় ভালো, সুন্দর মুখের গড়ন, সুন্দর হাতের লেখা, কণ্ঠস্বর-এসব কারো চোখেই পড়ে না। সবার চোখে তার একটাই দোষ—“সে কালো”।

স্কুলে তার তেমন বন্ধু নেই, তাই অনু খুব সহজেই সুবর্ণাকে এমন অপমান করার সুযোগ পেলো। সুবর্ণা প্রায় কাঁদো চোখেও নিজেকে সামলাতে চেষ্টা করলো। কিছুক্ষণ পর ক্লাসে স্যার এলো। স্যারকে কমপ্লেইন করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সুবর্ণা কিছু বললো না। স্যার ক্লাস শেষে যাওয়ার পরই আবার শুরু হলো গায়ের রঙ নিয়ে ঠাট্টা। সহপাঠীরা আবার নিজেদের হাত সামনে বাড়িয়ে মিলিয়ে দেখে কার হাতের রঙ কত উজ্জ্বল। এবারও সবাই মিলে সুবর্ণাকে বিদ্রূপ করলো। এবার সুবর্ণা কেঁদে ফেললো। কেঁদে ফেলায় স্কুলের মিস তাকে সরিয়ে আনলো। স্কুলের বাণী মিস সুবর্ণাকে ভীষণ ভালোবাসে। বাণী মিসের নিজের কোনো মেয়ে নেই। তবে শান্তশিষ্ট সুবর্ণার মধ্যে সে নিজের মেয়েকে দেখে। তার এমন অবস্থা দেখা মাত্রই বাকি সহপাঠীদের বুঝিয়ে ক্লাসে পাঠিয়ে দেয় এবং সুবর্ণাকে নিয়ে পরবর্তীতে এমন না করার উপদেশ দেয়। কিন্তু এই দোষ কি শুধু বাচ্চাদের? পাশে থাকা অভিভাবকরাও কম না!!! সুবর্ণাকে নিয়ে সব সময় তাদের আলোচনা লেগেই থাকে।

**কিছুদিন পর সুবর্ণা আবার স্কুলে ক্লাস করছিল। রুমির মা (একজন অভিভাবক) হঠাৎ বললো: এই কালুনি, আমার মেয়ের সাথে খেলবি না। নিজের মেয়েকে শাসন করার সুযোগ থাকলেও সুবর্ণাকেই কথা শুনতে হলো। এবার বাণী মিস ছিল না। তাই কেউ বাঁচাতে পারলো না।
বাড়ি এসে সেদিন খুব কেঁদেছিল সুবর্ণা। তার বান্ধবী মিনু ও ইসা তাকে খুব ভালোবাসে। তারা সুবর্ণার গায়ের রঙ দেখে না, মন-মানসিকতা দেখে।

**দিন গেল। ছোট্ট সুবর্ণা বুঝতে শিখলো। এখন সুবর্ণা দশম শ্রেণিতে পড়ে। জীবনের আক্ষেপ, জড়তা কাটিয়ে আজ তার বন্ধুর সংখ্যা বাড়লো। কিন্তু কতজনই বা আসল? পড়াশোনায় ভালো হওয়ার সুবাদে তার প্রচুর বন্ধু হলেও কেউ কেউ আজও তাকে গায়ের রঙ নিয়ে খোঁটা দেয়। সুযোগ পেলেই কেউ ছাড় দেয় না। বিন্দুমাত্র শ্রীবিহীন সাদা ফর্সা মেয়েটাও তাকে গায়ের রঙের খোঁচা দেয়। কথায় কথায় তাকে বুঝিয়ে দেয় যে “কালো”।

দশম শ্রেণির পরীক্ষার পর একাদশ শ্রেণিতে বিন্ধিবাড়ি সরকারি কলেজে ভর্তি হয়।

কলেজ থেকে আসার পথে দেখতে পায় স্কুলের কয়েকজন জুনিয়রের সাথে অনু দাঁড়িয়ে আছে। মুহূর্তে মনে পড়ে গেল সেই ক্লাস ফাইভের কথা। কিছু একটা ভেবে পাশ কাটিয়ে চলে গেল। পরে মিনুকে জিজ্ঞেস করলে জানতে পারে, অনু দশম শ্রেণির টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছিল। তাই সে এখন জুনিয়র। কিছুটা খারাপ লাগলো সুবর্ণার। এভাবে কেটে গেল আরও কিছুদিন। দেখা হলো রুমির ছোট বোন অমির সাথে। অমি আবার রুমির বোন হলেও সুবর্ণাকে ভীষণ সম্মান করতো। দেখা হওয়া মাত্রই খুশি হয়ে বললো: কেমন আছো আপু?
“এই তো ভালো”—জবাব দিল সুবর্ণা। জানতে চাইলে রুমির কথা জানতে পারলো—সে আরও এক বছর আগে মাধ্যমিকে অকৃতকার্য হয়েছে। তাই পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছে। রুমির সেই গুণধর মা—রুমি সুন্দর দুধে-আলতা গায়ের রঙ, তাই এত পড়াশোনার দরকার নেই। এমনিই ভালো ঘর পাবে—এটাই রুমির মায়ের ধারণা।
***
আজ বাড়িতে প্রচুর ব্যস্ততা। সুবর্ণার মা মরিয়ম বেগম ও ইসহাক আলি আয়োজন করেছে বেশ জমজমাট। আজ তার একমাত্র আদরের মেয়ের জন্য একটা ভালো ঘর থেকে সম্বন্ধ এসেছে। শ্যামকন্যার জন্য এমন সম্বন্ধ বিরল। ছেলে ভীষণ ভালো, তাই হাতছাড়া করলো না ইসহাক আলি।

সন্ধ্যা গড়াতেই ঘরে প্রবেশ করলো ফাইয়াজ সিকদার, তার অর্ধাঙ্গিনী চারুলতা ও ছেলে ফারাজ সিকদারকে নিয়ে। ঘরে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির প্রবেশ মাত্র আপ্যায়ন হলো যথারীতি। আপ্যায়নের কিছুক্ষণ পর ফাইয়াজ সিকদার বললো—এবার মেয়েকে ডাকুন, ইসহাক ভাই।
ইসহাক আলি মেয়েকে ডাকলো।

সুবর্ণার বান্ধবী মিনু ও ইসা তাকে সাজাতে চাইলে সে না করে দেয়। অতঃপর তাকে গোছানোভাবে নিয়ে আসা হয়। ফাইয়াজ সিকদার সুবর্ণাকে দেখা মাত্রই তার চোখেমুখে আমাবস্যা নেমে এলো। সে একবাক্যে জবাব দিলো—“এমন কালো মেয়ে আমার পছন্দ হয়নি। ছবিতে তো সুন্দর লাগছিল। কিন্তু এই মেয়ে তো কালো। একে ঘরের বউ করলে আমার বংশের প্রদীপ অন্ধকার হয়ে যাবে। চল বাবা।”
বলে ফারাজসহ তার মা চারুলতাকে নিয়ে বেরোতে যাবে, এমন সময় হঠাৎ থেমে গিয়ে ফারাজ বললো—
“না বাবা, আমার সুবর্ণাকেই পছন্দ। দেখো, এমন মায়াবী কন্যা গোটা তল্লাটে একটাও নেই।”

ফাইয়াজ সিকদার অবাক হয় ছেলের কথায়। কিন্তু ফারাজ একরোখা। অনেক কষ্টে বিয়ের জন্য রাজি করিয়েছে তাকে। এখন এই কালো মেয়েকেই কিনা পছন্দ করলো!

কিন্তু কিছু না পেরে রাজি হলো ফাইয়াজ সিকদার।
বিয়ের পরও পড়াশোনা চালাতে দেবে—এমন সিদ্ধান্তে বিয়ে পাকা হয় সুবর্ণার। সুবর্ণার মতো ভাগ্য কারো হয় না। তবুও আলোচনা-সমালোচনা চলতেই থাকে তাকে নিয়ে। পাড়া-প্রতিবেশীরাও চেষ্টা চালাতে থাকে বিয়ে ভাঙতে, কিন্তু ফারাজ সব উপেক্ষা করে স্ত্রী হিসেবে নয়, সম্মান দিয়ে নিজের জীবনের সঙ্গী করে নেয় সেই ‘শ্যামকন্যা’ সুবর্ণাকে।

~সুমাইয়া সুলতানা আইমি।
#সুবর্ণা
(সারমর্মঃ
আমাদের সমাজে অনেক সুবর্ণা আছে, যাদের প্রতিনিয়ত এমন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সবার ভাগ্য সুবর্ণার মতো হয় না। সব বাবা-মা ইসহাক-মরিয়মের মতো বোঝাপড়াশীল নয়। সব শিক্ষক বাণী ম্যামের মতো সহানুভূতিশীল নয়। সব বন্ধু মিনু-ইসার মতো পাশে থাকে না। জীবন সঙ্গী ফারাজও সব সময় সাহায্য করতে পারে না। গল্পের চরিত্র, ঘটনা ও স্থান সম্পূর্ণ কাল্পনিক, তবে বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর লেখা। ভুল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।)

Address

Bandarban
BANDARBAN

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sumaiya Sultana Imy সুমাইয়া/আইমি "Story-stock" posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category